কবিতা
সকল পোস্টসমূহ

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি

সেতু
আপনি কি এখানে কিছুক্ষণ থাকবেন? হয়তো! কলমটা কি একবার... হ্যাঁ,নিশ্চয়ই। বাবার পাশে,এলোকেশে উঁকি দেওয়ার ইচ্ছেটায় বিরতি দিলাম। ফেরার সময়,তোমার অসময় বুঝেও ঢাকনাটাও দিয়ে এলুম। কলমের ঢাকনা কাছে রাখলে নাকি ফেরত আসে।

রাদ আহমদের তিনটি কবিতা
বিচিত্রতার মধ্যে দিলাম ছোট্ট লাউ পাতা আঁশযুক্ত সে নবীন এবং প্রবল ব্যঞ্জনায় তিরতির করে সাদা রোদে কাঁপা সাজানো শহরে একটু জ্যামিতি করতে পারলে সম্ভাবনা ফোটে মনে হয় চুলের চিকন ছোট্ট গুচ্ছ যা কপালের গায়ে লতানো লতায় ছোট পাতা হয়ে ফোটে এই যে দেখ কী সহজেই তুমি রূপকথা দিয়ে আবিষ্ট মহসিন রোড রূপবান নিয়ে রাস্তায় এসে পড়ে

কাশ বনে
জলো ঘাসের জমিতে এইমাত্র পা ডুবিয়েছে ধূসর সারস পদ্ম শাপলায় মাখামাখি খেঁজুর কাঁটার বন দিনের রহস্য মাখা কালিসেন স্টেশন শালবনী থেকে বাঁকুড়া যতখানি পথ তারও বেশি আরাম থম ধরে আছে গোটা রেলপথ জুড়ে সরব উদ্বেগ সেতু থেকে সেতু গোলাপি রাখিবন্ধন

মাতৃরূপেণ
মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা একুশ শতকে মাতৃরূপেণ সংস্থিতা! আমরাই তাঁকে গড়ে তুলি

এক সূত্রে বাঁধা
সন্ধ্যেবেলা রাস্তায় পা রাখতেই একটি খরগোশ ছুটে পালিয়ে গেল— ভ্যাট থেকে মুখ তুলে তাকায় কুকুর ছানা, পাগলের হাতে ঢিল, রেল কামরায় গাদাগাদি, চুমকির ঘরে বাবু, ফোয়ারা, চুড়িদার ভাসে হাঁটু জলে, পড়াশুনা করে এগারো বছর,

এমরান হাসান এর কবিতা
ভুলে যাওয়া পথ শেখায় অরণ্য সুদূর... খসে পড়া বিবর্ণতায় চড়ুই— গান এঁকেছেে অঘ্রাণে দিন-রাত্রি— চন্দ্রপুকুর... মৃত ডাহুকের ঘর-গৃহস্থলী

সৃষ্টিসুখের উল্লাসে
এবার পাঁজরে রেখেছি তুরুপের তাস; তোমার সঙ্গে দাবা, খেলবো বারোমাস শীতার্ত দুপুরে; ইঁদারার পাশে ঘাস সবুজ থেকে সবুজতর; অন্য কোথাও চাষ

"তুমি"হওয়ার একটা লড়াই
নতুন থেকে চির নতুন আগামীতে লেগে থাকা কথা কোনো অদৃশ্য গোপনে একাকী মিশে যায়

সুবাইতা প্রিয়তির পাঁচটি কবিতা
দান্তের দাহ করা দাঁত থেকে নরকের যে শাখানদী উধাও করে দিচ্ছে প্রাচীন কবর, সেখান থেকেও জেগে উঠছে একে একে নাভি। প্রত্যেকে মুখস্থ শব্দ লিখতে উৎসুক তবে শ্বাপদের মুখে গড়িয়ে চলেছে, এবং ঘটনাপ্রবাহের অভিলম্বে। ধীর হয়ে যাচ্ছে আওয়াজের বেগ, শুধু যুদ্ধে বুদ্ধ! কোটি শব্দ গুণোত্তর সম্ভাবনা নিয়ে আমার ভাবনায় টেক্সটের সংগ্রাম, যেনবা ডিসকোর্সের আগে।

কবিতা লেখা যায়
বর্ষা নেমে এলে আমাকে ডেকে দিও তোমার উঠোনে। কাদা আর একহাঁটু জলে কবিতা লেখা যায়। অজস্র দারিদ্র্য নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত বজায় রেখে বেঁচে থাকা যায় তোমাদের মতো। আসলে ঐশ্বর্য ওদের উন্মাদ করে দিয়েছে। চাহিদার খেপামোতে বিবেকহীন।

যখন রাত্রি নামলো
হাতের পাতায় রাত ঘনালো, বারান্দাতে একা উঠে যে যাবো অন্যকোথাও এমনটা কেউ নেই বসে আছি তারা খসা দেখছি উঠোন জুড়ে পায়ের নিচে শিকড় জন্মালো ডাকলো না কেউ এমন বহু রাতে। স্বপ্ন কোথাও নেই বলে আজ হাঁটতে গেছি ভুলে। হাঁটতে গেছি ভুলে?

সময় আমাকে শেখায়
বিষের বালি ভিতরে নিয়ে, মুখ বুজে নিরবে সহে যাওয়া শিখে নেয় আবুল হাসান ঝিনুকের কাছে। রাজা যায় রাজা আসে,পৃথক পালংক একা অন্ধকারে। নির্জন হাতে জীবনানন্দ, ছুঁয়ে দেয় মহাপৃথিবী,রুপসী বাংলার হৃদয়,

চারটি কবিতা
সব সম্পাদকই কিছু পূর্ব- সতর্কতামূলক নির্দেশনা জারি রাখেন তার ম্যাগাজিনের মহামূল্যবান সম্পাদকীয় পাতায় এই যেমন কবিতায় রাজনৈতিক উশকানি থাকবে না থাকবে না ধর্মীয় বিদ্বেষ অনৈতিক যৌনতা

অনৈতিহাসিক
ফেনিয়ে ওঠা অনেক কথার প্রতিরোধে ছিনতাই হয়ে গেল–রূপকথা সংকলন!

নাম-কাটা ভোটার
এগোতে এগোতে একটি গোলাকার বৃত্ত চোখে পড়ে সদ্য আঁকা সাদাখাতায় তারপর জ্যামিতি বাক্স থেকে তরাক করে দাঁড়ায় বৃত্ত-আঁকা কম্পাস যেন মার্শাল

কয়েকটি কবিতা
ডিনার *** টলতে টলতে দরজায় কড়া নাড়ে পুরুষ। ড্রয়িংরুমে খিস্তির ঢেউ।

আত্মপ্রজ্ঞার প্রহর
আমাদের জীবন রাস্তায় সারি বাঁধা লাইটপোস্টের মতন—কখনো বোধগম্যতার আলোকে উদ্ভাসিত সুস্পষ্ট জীবনপথ, আবার কখনো দুই আলোর মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত অন্ধকার; যেখানে পথ হারানোর ভয় আর নিজের অস্তিত্বের মুখোমুখি দাঁড়াবার নীরব স্তব্ধতা।

ক্ষয়
মাটি ক্ষয়ে যায় শরীর হয়ে খসে পড়ে তেজপাতা গাছেদের ছাল

শৌভিক দত্তের ৪টি কবিতা
ডালপালা কেটে যাওয়ার পর অখণ্ডতা আমার পরোয়া করে না। কোথাও দশদিক নেই। হাতের বালকে অরণ্য ফুরিয়ে আসে। এই অশক্ত শীতে ভুলে যাওয়া কোনও ডুবোজাহাজ খুলে সম্মোহণগন বেরিয়ে এসেছে। পদাতিক গণিতে রাখা ভীড়ের ছররা কিছু। পতাকাগলিতে।

সমরজিৎ সিংহের কয়েকটি কবিতা
পড়বে না আমার কবিতা ? তাতে কিছু হবে ? কথা ছিল আমার লেখার । ভাবিনি, পড়বে ।

আত্মমৈথুনিক স্বভাবে
অথচ এই ঘনানো অন্ধকার হয়তোবা থেকে যাবে রয়েছে তো সুদীর্ঘকাল ফুল হয়ে হয়তোবা গেলাসের জলে স্ফূর্তি ও সঙ্গম বিলাপের বন্দিশ আরবার