২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
তৃতীয় সে পুরুষ জানে

জুলি— আবহমান কাল তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি, সে কোন তৃতীয় পুরুষ! সে কোন দেবতার মুখশ্রী যে আমার কল্পনার সমীরণ ভাঙাবে? ওষ্টাগ্রে বিষন্নতা নিয়ে ঘুরি, তোমার পাড়ায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেই, হাহাকার মিশিয়ে দেই বাতাসের শব্দে।।: অখণ্ড স্বপ্নের মতো দৃশ্যমান তুমি। প্রাচীর ডিঙাই শতবার, পাড়ি দেই বুলেট ব্যারিকেড। তোমার মুখোমুখি বসার মতো কী সময় আজও হবেনা? পাগল জোৎস্না ম্লান হয়ে আসে। শ্রাবণের সন্ধ্যা উপহাস করে। বৃষ্টির শব্দে আসে বেশ্যার প্রতিধ্বনি। তোমার অমন সোনার মতো পদচিহ্ন রেখে গেলে কেনো?
তবে কী জানলা বেধ করে ঢুকে পড়বে এক্ষুনি তিনটে বদমাশ জোনাকি! তোমার ওড়নায় লেপ্টে আছে আমার শ্বাসের গন্ধ, তৃতীয় সে পুরুষ তা জানে? তেষ্টা মিটাতে কী সে জলের কিনারায় যায়? গোলাপের পাপড়িতে ওষ্ট লোকায়?
অথবা প্রদীপের লুন্ঠন হাতে কী সে ধ্যান করে পাহাড়ের তীরে। ভিরু মৌমাছির মতো আমি তাকিয়ে থাকি; দূরবর্তী তিনটে হলুদ ফুল আমাকে আহ্বান করে। আমি সেই প্রথম রাতের মতো ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসি। তোমার নিষেধ আছে বলে তামাকের বাগানে ফেলিনা ম্যাচের কাঠি; শরাবের কাপে দেখি টাটকা রক্ত! পিপাসা পায়? তৃতীয় সে পুরুষ — পদচিহ্ন, বুকপকেটে চুন খসে পড়ে? নাকি উত্তপ্ত পারফিউম? জুলি— আবহমান কাল দূর থেকে জানান দেয় সে আসবে, সে আসছে। তুমি দূরত্বের সাঁকো পার হয়ে এসো। তীরে কী ফুটেছে রক্ত গোলাপ! ভয় নেই; পায়ে কাটাঁ ফুটবে না। আমি আগেই বুক পেতে আছি।
বুকের দর্পনে কি উঠেছে নক্ষত্র! বালুচরে ম্লান হয়ে ফুটে থাকে কী শাদা ভাতের মতো ফুল? তৃতীয় সে পুরুষ—দুটি পদ্মের অনুবাদ করে? নৈশ নিরবতা ভেঙে যৌনিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে দস্যুর ধনুকের মতো? শালবন পার হয়ে দেখি একটি ফুলের মৃত লাশ। একমাত্র তুমি জানো আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত খুন! ভয় নেই; ময়নাতদন্তের আগেই আমি হ্রাস করে নেবো আমার সব ক্ষতচিহ্ন!
তৃতীয় সে পুরুষ — তোমার নখের অনুবাদ করে? নাকি লালসার হাত দুটি বাড়ায় তোমার কোমরের ভাঁজে? সকাল শুরু হয় ফাস্টফুড? ব্রেড নাকি গাঢ় চুম্বনে?
বিরক্ত! ক্যাসেট সিনেমা আর ইংলিশ মিউজিকে?
তৃতীয় সে পুরুষ — কবিতা ভালোবাসে? তোমার কর্ণকুহর তালাবদ্ধ করে রাখে সেন্ট্রির মতো? দেখা তো হয়েই গেলো বারবার প্রথম ও শেষ দিনের মতো। তোমার চোখে মুখে বুকের রঙিন বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথোপকথনের শেষ মুহুর্ত অবধি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে ছিলাম মনে পড়ে? বিদায়ের আগে কাঙাল প্রেমিকের মতো তোমার থুতনি স্পর্শ করে স্ব শব্দে উচ্চারণ করেছিলাম ভালোবাসি ভালোবাসি।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেন
কয়েকটি কবিতা
সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?
কবিতা৭ মে, ২০২৪

জ্যোতির্ময় বিশ্বাস
দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব
কবিতা৭ মে, ২০২৪

শ্রী সদ্যোজাত
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,
কবিতা৭ মে, ২০২৪