চলতি সংখ্যাপ্রকাশ ১১ অক্টোবর, ২০২৬
পুজো সংখ্যা, ১৪৩৩-এর প্রচ্ছদ

পুজো সংখ্যা
১৪৩৩

বাজলো তোমার আলোর বেণু

২১কবিতা
৩গল্প
৩গদ্য
০১

নির্বাচিত লেখা

সব নির্বাচিত লেখা
ইমন কল্যাণ (৮ম পরিচ্ছেদ)
সাপ্তাহিক লেখালেখি

ইমন কল্যাণ (৮ম পরিচ্ছেদ)

ট্রিপ থেকে ফেরার পথে অনেক কথাই মাথায় আসছিল। কী হবে না হবে। গরম খুব পড়েছে। খালি একটা গেঞ্জি গায়ে সেবক পার হচ্ছিল শহীদুল। পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছে। সাদিকদা খুব মনখোলা মানুষ। আর বউটা একটু চাপা। উদাস। মনের ভেতর কী চলছে বলা মুশকিল। স্ত্রীয়াশ্চরিত্রম দেবা ন জানান্তি, কুতো মনূষ্য। কথাটা দেবোত্তমদার কাছে শোনা।
কত কি মাথায় আসে। এখন মনে হচ্ছে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে দুটো কথা বলে। বড় মায়াময় মেয়েটির চোখ। টানা টানা। কালো। চুলের রং। শাড়ি পড়লে খুব সুন্দরী দেখায়। অন্যান্য ড্রেসেও। ওয়েল ড্রেস আপ। চোখে পড়ার মতো। দুর্দান্ত সুন্দরী। নামটাও অনন্য। ইমন। ইমন একটা রাগের নাম। শহীদুল জানে। বহুদিন ধরে সে কাওয়ালি, কাওয়ালি থেকে…
মেয়েটির সম্পর্কে সে বেশি জানেনি। তবে ওর সুন্দর ক্লাসিফায়েড গলাটা কেমন যেন। গানের গলা যেমন হয়। প্রথমদিন সাদিকদার কল এসেছিল গাড়ি বুক করার জন্য। তারপর মাঝে দুয়েকবার মেয়েটি ফোন করেছিল। গলা শুনেই কেমন বুক কেঁপে উঠেছিল। মানুষ না ফেরেশতা? এত সুন্দর গলা। রাতে শোবার আগে মনে হয়েছিল ইসস্। যদি কেউ ভালোবেসে…
মেয়েটাকে লুকিয়ে দেখছিল সে। গাড়িতে। কথা খুবই কম। চুপচাপ। তবে এটা কাটতে সময় লাগেনি। যখুনিই তারা বাঘপুলে এলো মেয়েটা যেন হয়ে উঠলো সরস্বতী।

ওয়াহিদার হোসেন · ৭ নভেম্বর, ২০২৬
ইমন কল্যাণ (৭ম পরিচ্ছেদ)
সাপ্তাহিক লেখালেখি

ইমন কল্যাণ (৭ম পরিচ্ছেদ)

বৃষ্টির ছাট এসে গ্রীলের দরজা ভিজিয়ে দিচ্ছে। বর্ষার প্রথম দিকের বৃষ্টি মানেই এক অনন্য অনুভূতি। মোনালিসা মিটিংয়ের জন্য বের হবে। অথচ এখুনি যেন বৃষ্টি আসার সময় হলো। বিরক্তি আসছিল এমন নয়। আজকে জেলা পার্টি অফিসে ফাইনাল হবে রাঙ্গালিবাজনার মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে কে এবার পঞ্চায়েত সমিতি পদমর্যাদায় প্রার্থী…
দু:খের বিষয় এই সময়ই ফোনটা ভাইব্রেট করতে শুরু করেছে। অন্যসময় সাইলেন্ট থাকে। আজকে কোন দু:খে ভাইব্রেট হচ্ছে কে জানে?

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
কবিতা

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা

আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি
তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে

ওয়াহিদার হোসেন

সকাল থেকে অফিসে নানা ঝামেলা যাচ্ছিল। প্রোডাকশনের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডাউন, কোন থার্ড পার্টি সার্ভিসের সাথে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। হাউকাউ লেগে গেছে কাস্টোমারদের মাঝে। বাসা থেকে রিমোট কাজ করি। তাই একের পর এক কল আর মিটিং-এ যোগ দিতে হচ্ছে। এদিকে বাচ্চাটা জ্বরের কারণে আজকে ইশকুলে যায়নি বলে পাশের ঘরে…
নিউইয়র্ক শহরের কুইন্স বরোর যে এলাকায় আমার বাসা, সেখানে এমনিতেই গাড়ির হর্ন, এম্বুলেনস, পুলিশ আর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সাইরেনে কোন নীরবতার অবকাশ নেই। যদিও অনেকদিন ধরে থাকতে থাকতে কিছুটা অভ্যস্ত হয়েছি কিন্তু তারপরও কাজে কর্মে মনোযোগ দেওয়া অনেকসময় বেশ কঠিন হয়ে যায়। আজকের অবস্থা এক কথায় ভয়াবহ।
জুমকলে নিজেকে মিউট করে ছেলেকে চিৎকার দিয়ে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। বললো, যে বলগুলো নিয়ে সে খেলছে সেগুলো মাটিতে রাখলেই একা একা গড়িয়ে চলে যাচ্ছে। বকা দিলেও খেয়াল করলাম ওর কথা ঠিক। বলগুলো একই দিকে চলে যাচ্ছে গড়িয়ে। মেঝে কি ঢালু একদিকে? ওকে বললাম অন্য কিছু নিয়ে খেলতে। কেন যেন আমার নিজেরও মাথা ঘুরে…
দুপুরের খাবারের জন্য একফাঁকে কিচেনে গেলাম রাইস কুকারে ভাত চড়াতে। তরকারি আর ডাল রান্না করাই আছে। ডিম ভাজব বলে ফ্রিজ থেকে বের করে কাউন্টারে রেখে কিচেন কেবিনেট থেকে পেয়াজ কাটার জন্য ছুরি বের করতে যাওয়া মাত্রই খেয়াল করলাম কিচেন কাউন্টারে ডিমটা গড়াতে শুরু করেছে। ধরে ফেলার আগেই মাটিতে পড়ে ফেটে গেলো সেটা।…

ঢাল বেয়ে বেয়েআহসানুল করিম
০২

আরও এই সংখ্যায়

সব ২৭টি লেখা
০৩

সাপ্তাহিক লেখালেখি

সব সাপ্তাহিক লেখালেখি
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৬)
ধারাবাহিক

ইমন কল্যাণ

পরিচ্ছেদ ৬ · ওয়াহিদার হোসেন

অনেক রাতে ফিরেছিল কল্যাণ ওরফে শহীদুল। গাড়িটা শেডে রাখার পর দু'বার হালকা করে মা ডাকতেই দরজা খুলে দেয় রোকেয়া। পাশের বাড়ির সম্পদদের পুঞ্জির পাশে খোলা গোয়াল ঘরে তখনো গোরুগুলো কান নাড়ছে। মশা তাড়ানোর সড়াৎ সড়াৎ আওয়াজ আসছে। আসিলু? রোকেয়া দরজা খুলতে খুলতে বলে।

পরিচ্ছেদ ১পরিচ্ছেদ ২পরিচ্ছেদ ৩পরিচ্ছেদ ৪পরিচ্ছেদ ৫পরিচ্ছেদ ৬পরিচ্ছেদ ৭
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৫)
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৫)

আকাশে এখন আর মেঘ নেই। হাওয়া হচ্ছে। কদিন পরেই বর্ষা নামবে। একদিন হাসপাতাল থেকে ফিরতে গিয়ে বহুত ঝামেলা হয়ে গেছে। মইদুল ফিরছিল ডিউটি থেকে রাত আটটার দিকে তখুনি ঘটনাটা ঘটে। সেদিন ঝোঁকের মাথায় একটু খেয়ে ফেলেছিলো। রাস্তা পার হতে গিয়ে একটা টোটো পায়ে মেরে দেয়। সচকিত হয়ে সে যখন তাকায় ততক্ষণে টোটো পায়ের ওপর…

১৭ অক্টোবর, ২০২৬
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)

ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং…

১০ অক্টোবর, ২০২৬