ভাষা দিবস সংখ্যা, ১৪৩২
"বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে অন্ধ বাউলের একতারা বাজে উদার গৈরিক মাঠে, খোলা পথে, উত্তাল নদীর বাঁকে বাঁকে, নদীও নর্তকী হয়।"---- শামসুর রহমান

নাজমুল হোসেন রিফাতের ৪টি কবিতা
ফেসবুকের মেমোরিসের তাড়নায়, আমার নরম-কোমল ঘুম ভেঙে যায়। আজকের দিনটা বিগত দিনে কেটেছে কীভাবে, তাই দ্যাখি যা দ্যাখার অভ্যাস করেছে এ মস্তিষ্ক স্মৃতির অভাবে। স্মৃতির অভাব! আয় হায়! আমার তো ঘুমই ভেঙে যায়— স্মৃতির তাড়নায়।

খরস্রোতা
বৃষ্টি চেয়েছিলাম কুকুরটা জিভ বের করে বসেছিল শুকনো জিভে তারপর অনেকগুলো হেমন্তের রাত কুকুরটা ভেসে কোনরকম নদী পেরোল

শিশির আজমের ৫টি কবিতা
শস্যের বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসি চাটবো শুকনো ঠোঁট তার আগে ঘরের দেয়াল ঘেসে তেতো সূর্য খিকখিক হাসে

লোকশিক্ষা প্রসারে লোকসাহিত্যের ভূমিকা
এই প্রসঙ্গে আলোচনা সূত্রে বলা প্রয়োজন যে লোকসাহিত্য কাকে বলে। ১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে অ্যাথেনিয়াম পত্রিকায় এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন জন থমস। জার্মান শব্দ 'VOLKSKUNDE' থেকে 'FOLKLORE' শব্দটি এসেছে। যার মানে হল লোকজ্ঞান। সভ্যতার ধারাবাহিকতা হল folklore।

বাঘিনীর ডানা
এই জ্বলন্ত ঘরে আমি আর থাকতে চাই না, অথচ যারা ভালোবাসে আমায়, তারা এই আগুন দেখতে চাইছে না। পথের ধারে একটা বেঞ্চ, ওখানেই সবাই বিশ্রাম করে।

বাস্তব
মনে পড়ছে তোমাকে। ভূমিকম্পের শেষে ধ্বংসস্তূপ থেকে --- যে হাত টা বাড়িয়ে ছিলে। সেটা চাপা পড়ে গেছে , জরাজীর্ণ পুরোনো সভ্যতার অবশেষে।

শ্রীমন্ত দাসের দুটি কবিতা
একমাত্র তুমিই সেদিন বলেছিলে, এতটা শয়তান আমি কাউকে দেখিনি। আমি বলেছিলাম সত্যি!! মাসখানেক পর তোমার কথা রেখে, ফিরে এলাম যখন তুমি বললে- তুমি এতটা ভয়ঙ্কর?

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
গতজন্মের কথা মনে পড়ে বালতি থেকে জল তুলে বাবা গায়ে ঢালছেন মা দূরে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ তাকিয়ে আছে। আমি স্বপ্নে যতবার এরকম দৃশ্য আঁকি

মানুষের বন্ধন
আজ পূর্ণিমাI আকাশের বুক থেকে নেমে আসছে রূপোলি জ্যোৎস্নার স্রোতI সমগ্র প্রকৃতি যেন সেই উজাড় করা জ্যোৎস্না মেখে পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। কলঙ্কহীন নিঝুম রাতের আকাশে কোথাও এতটুকু মেঘের চিহ্ন নেইI শুধু দু-একটা নিশাচর পাখি মধ্যরাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে মাঝে মাঝে ডেকে উঠছে।

শুষ্কতার ক্লান্তি
শীত গিয়ে বসন্তের আগমন -এ যেন ঋতুর শ্বাসবদলের সময়। রাতের কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়, তবে রোদে এখনো উষ্ণতার পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শীতের প্রাবল্য কমে এলেও, শুষ্কতা এখনো অজেয়। তার রাজত্ব প্রকৃতির প্রতিটি স্পর্শে পরিলক্ষিত হয়। শুষ্কতার প্রাবল্যে প্রতিটি গাছ তার প্রাণশক্তিদায়ী পাতা ত্যাগ করতে বাধ্য।

আলিউজ্জামান মুদ্রার তিনটি কবিতা
বাতাসে ফাতেহা শুনি রিনিঝিনি কাঁপে খাদেজার ঢেউটিন রোদের ভিতর অপার হয়ে বসে আছে সুরেলা আয়াতখানি।

নষ্ট প্রলাপ
আসলে যে কোন কেস গুবলেট করে দিতে গেলে যে কৌশল প্রয়োজন বুক চিতিয়ে বলবো না সব আমার ডিকশেনারিতে ডিজাইন করা ব্যাপার হলো ঝুপ করে মাঝ বরাবর চালকুমড়ো বলি দিয়ে দুফাঁক করার কায়দা যেমন রপ্ত হতে অপেক্ষারা চাদর বুনে ফ্যালে তেমন বিনা চষে আপন করতে পারাটা একটা আর্ট

পাপজন্ম
নদী থেকে বয়ে আনি দুঃখ নিঃসঙ্গ স্মার্টজীবন অনুশাসনে জড় করে দ্বিতীয় শৈশব

নাজমুল হোসেন রিফাতের ৪টি কবিতা
ফেসবুকের মেমোরিসের তাড়নায়, আমার নরম-কোমল ঘুম ভেঙে যায়। আজকের দিনটা বিগত দিনে কেটেছে কীভাবে, তাই দ্যাখি যা দ্যাখার অভ্যাস করেছে এ মস্তিষ্ক স্মৃতির অভাবে। স্মৃতির অভাব! আয় হায়! আমার তো ঘুমই ভেঙে যায়— স্মৃতির তাড়নায়।

খরস্রোতা
বৃষ্টি চেয়েছিলাম কুকুরটা জিভ বের করে বসেছিল শুকনো জিভে তারপর অনেকগুলো হেমন্তের রাত কুকুরটা ভেসে কোনরকম নদী পেরোল

শিশির আজমের ৫টি কবিতা
শস্যের বাজারে গিয়ে খালি হাতে ফিরে আসি চাটবো শুকনো ঠোঁট তার আগে ঘরের দেয়াল ঘেসে তেতো সূর্য খিকখিক হাসে

ইদন গুঙ্গি
নাচোল স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে নেমে উত্তর দিকের হাঁটা পথ ধরলেই পিঁপড়াডাঙার রাস্তাটা পাওয়া যাবে৷ সেই রাস্তা ধরে কিছুদূর এগিয়ে গেলে পড়বে অত্র এলাকার সবচেয়ে পুরাতন গোরস্তান। যারা শর্টকার্ট রাস্তার ভুখা তারা দুপ্পহার কী—তেপ্পহার কী গোরস্তানের পাখি ডাকা নিঝুম রাতেও এই রাস্তা ব্যবহার করে

শূন্যের স্থাপত্য
তুমি যেখানে আছো, ক্রমশ হাড়ের দিক থেকে ক্রমশ জলের— মাংস-প্রতি প্রণাম। সসাগরা হাওয়ার বাইরে জিভের মতো কৌতূহল অথবা কৌশল ভিজে গেছে।

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।

দুধারে ঈশ্বর
একটি প্রাণবন্ত ফুঁয়ে একরাশ আঙুল এ কেমন বিমল ফুল নীল হাত নেড়ে বলে প্রজাপতি ছেলেবেলা তার ক্যাপশন

চিঠি
ফিরে আসা চাঁদের উসকানি ঢুকে যাচ্ছে মাথার ভেতর মেঘের হাত ধরে পাথর খুঁজতে যাব তোমার কিনারে।

সম্পাদকীয়
মড়ক লেগেছে নাকি খরা ! বাঙালি মনন বাঙালির ভাষা, বিস্মৃত তার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব । সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে এই ধারণা ভীষণ রকম ভুল বলে প্রমাণিত হবে। বছরে বছরে যেভাবে গজিয়ে উঠছে অগণন লিটিল ম্যাগাজিন , সামাজিক মাধ্যমে অবিরত বয়ে যাচ্ছে সাহিত্যের বহতা ধারা ।

গণিত, অথচ
অ্যাম্বুলেন্সের ডালা খোলা আছে গাছের শরীরে অন্য গাছের ছায়া তবু ওভারল্যাপ এইসব দৃশ্যভাবনার পাশে ঠোঁট, বরফ, বরফ কঠিন ঠোঁট গল্প বদলে যাচ্ছে

সোয়েটার
গন গনে নীল শিখা মেলে গ্যাসের উনুন জ্বলছে। কেটলিতে জল সেই কখন থেকে ফুটে চলেছে। বাষ্প হয়ে অর্ধেক জল মরে গেছে। সেই দিকে কোনও খেয়াল নেই নীলার। সে একটা বেতের গদি মোড়া আরাম চেয়ারে বসে আছে। কিচেনটা ঢের বড়। প্রায় প্রমাণ সাইজ একটা ঘরের মতো। এখানে বসে উলের কাঁটায় শব্দ তুলে সোয়েটার বুনে যাওয়া তার একমাত্র বিলাসিতা। শীতের দিনে আগুনের এই উত্তাপটা কী যে আরামের, নীলা তা কাউকে বোঝাতে পারবে না। গ্যাসটা কতক্ষণ জ্বলছে সে দিকে তার কোনও খেয়াল নেই। চায়ের জল বসানোটা আসলে একটা ছুতো। শীতের রাতে আগুনের উষ্ণতাকে সে প্রাণ ভরে উপভোগ করে নিচ্ছে। গ্যাস পুড়ছে পুড়ুক। সেই নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। তার স্বামী বিপুলের টাকার অভাব নেই। তারা বিশাল ধনী না হতে পারে কিন্তু এই সব সামান্য বে-হিসেবী খরচ করার মতো তাদের ঢের পয়সা আছে।