
শীত গিয়ে বসন্তের আগমন -এ যেন ঋতুর শ্বাসবদলের সময়। রাতের কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়, তবে রোদে এখনো উষ্ণতার পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শীতের প্রাবল্য কমে এলেও, শুষ্কতা এখনো অজেয়। তার রাজত্ব প্রকৃতির প্রতিটি স্পর্শে পরিলক্ষিত হয়। শুষ্কতার প্রাবল্যে প্রতিটি গাছ তার প্রাণশক্তিদায়ী পাতা ত্যাগ করতে বাধ্য। এরই মধ্যে কিছু গাছ পরাজয় মানতে অস্বীকার করলেও, তার প্রতিটি পাতার উপর ধুলোবালির অনধিকার আধিপত্য বিস্তার করে আছে। প্রকৃতি যেন হারিয়ে ফেলছে তার পুষ্টি, ভুলে যেতে চলেছে তার কৃষ্টি। প্রতিটি প্রাণে জেগেছে নিঃশব্দ হাহাকার।
তবে সময় যে সর্বশক্তিমান, তা অনস্বীকার্য। তার চক্রের প্রেষণায় শিথিল হয় সকল বাঁধন। লুপ্ত হয় সকল রাজত্ব। ঝরে পড়া পাতার পরাজয়ের ভাষা যেন মাটিতে মিশে যায় সার হয়ে, নীরব শিরায় শিরায় ফিরে আসে উর্বরতার স্পন্দন নবজাগরণের শিক্ষা হয়ে। শুষ্কতার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে আসে সিক্ততার পূর্ণতা। এই সিক্ততা কেবল জলের প্রাপ্তি নয়, বরং অন্তরস্থ রসের জাগরণ। এ রসের প্লাবনে আসে সতেজতার ক্রান্তি।
হয়তো সমাজও আজ শুষ্কতার দীর্ঘ ঋতু পার করছে। সময় যদি সর্বশক্তিমানই হয়, সমাজ কী তবে প্রকৃতির অঙ্গ নয়? সমাজ কি তার শুষ্কতার ক্লান্তি ভুলে পাবে না পরিপূর্ণতার কান্তি? কবে আসবে তবে সামাজিক মূল্যবোধের রসের প্লাবন? কবে আসবে বসন্ত?
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।