
টেকনোলজির ফাঁদে
ফেসবুকের মেমোরিসের তাড়নায়, আমার
নরম-কোমল ঘুম ভেঙে যায়।
আজকের দিনটা বিগত দিনে কেটেছে কীভাবে,
তাই দ্যাখি যা দ্যাখার অভ্যাস করেছে
এ মস্তিষ্ক স্মৃতির অভাবে।
স্মৃতির অভাব! আয় হায়!
আমার তো ঘুমই ভেঙে যায়— স্মৃতির তাড়নায়।
ঘাসের উপর বসে সিগারেটের ধোঁয়ায়
কেটে যাওয়া বিকেল, এখনো জলজ্যান্ত ঘটনা
এও তো দ্যাখি আজ স্মৃতি হয়ে গেছে,
গতরাতে ঘুমের আগে সেই প্রথম প্রেম মনে করে
ঘুম থেকে উঠতেই দুনিয়ার সব স্মৃতি হয়ে গেছে।
কাজের ফাঁকে ইন্সটা-এক্স-থ্রেড-টিকটকে
সেভড রিল,
রিকমন্ডেড এডস, প্রভাবিত নিউজ,
আইফোনের ফিল্টার্ড ছবি
নিয়ম করে চেক দিতেই হয়।
ন্যানো সেকেন্ড আগেও যে 'ন্যানো-সেকেন্ড'
এইমাত্র ত্যাগ করা নিঃশ্বাস
এখনই যে বাঁচার বিশ্বাস
কিবোর্ডের বাটনে যে 'কিবোর্ড' লিখলাম
এখনই যে একটা বিদ্যুৎ চমকে গেলো
এই 'গেলো'র মধ্যেই সব স্মৃতি হয়ে গেলো!
তবুও কি আমি ফেসবুকের মেমরিস দ্যাখি
স্মৃতির অভাবে?
হোয়াটসঅ্যাপ-ইমু-মেসেঞ্জার নিত্যদিনের সাথী,
টেক্সট-কল-ডে সিন না করে কী করে ঘুমাই!
নিজের তৈরি গোলকধাঁধার গোলকে আঁটকে গেছি
আক্কেল থাকা সত্বেও আমি
টেক-কোম্পানিগুলোর দাস বনে গেছি।
আমাকে উদ্ধার করবে কি কোনো—
দেশীয় প্রযুক্তির ভালো এআই?
_________
অবশিষ্ট আছে যা—
বিশ্বাস, আনুগত্য, প্রেম, ভালোবাসা
সব-তো খোদা নিয়ে গেলো— তোমায় কী দিবো?
বলো প্রিয়তমা, কী দিবো তোমায়?
দেবার মতো নেই কিছু।
ক্ষমা করো।
যদি নিতে চাও তবে
অবশিষ্ট আছে যা— আমার এই নিশ্চল দেহ,
জন্মলগ্ন থেকে যে দেহ আমার ভারাক্রান্ত মন বয়েছে।
নিতে তো পারোই, তবে—
এও তো মাটি চেয়েছে সেই জন্মলগ্ন থেকে।
বলো তো— কী দেই তোমায়?
খোদার কাছে চাওয়ার সুযোগ আছে,
একটা উপহার চাইবো।
কিছু দেবার নেই জেনেও তুমি যে আমায় চেয়েছো
খোদার কাছে আমিও তোমায় চাইবো।
দ্যাখি, দু’আ কবুল হয় কি-না। খোদা রহম করে কি-না।
খোদা— গোলামেরে করুণা করো, রহম করো।
সঁপিলাম নিজেকে তোমার দরবারে।
____________
ঘোড়দৌড়ের পর, নেতিয়ে পরা ব্যতিব্যস্ত শহর
মীর শাখাওয়াত সড়কের শান্তা টাওয়ার সংলগ্ন ফুটপাতে, দাঁড়িয়ে আছি
সকাল ১০টার আগে দাঁড়িয়ে ছিলাম— থেকে থেকে মনে হলো
১০:৩৪ বাজতে বাজতেই এক যুগ ধাবিত হলো অতীতের কোলে।
এরপর বছরখানেক দাঁড়িয়ে থেকে ফোনের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দ্যাখি দুই মিনিট বেড়ে ১০:৩৬ হয়েছে।
ফেইসবুক রিলস স্ক্রল করতে থাকি,
একটু পর পর ফুটপাতের ডান পাশ, বাম পাশ দ্যাখি
আবার দ্যাখি কেউ আমাকে মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে আঁড়চোখে দ্যাখছে কি-না!
বেলা এগারোটা বাজতে সময় লাগলো কয়েকশো বিলিয়ন বছর, এরপর— ধীর সময়
একটু দ্রুত হতে শুরু করলো, এখন বাজে ১১:২২
আমি লিখছি কবিতা, মস্তিষ্ক বুনছে কল্পনার জাল।
কড়া রোদে চড়া মেজাজে ‘'লাগ যা গালে’ গাইছি,
মনে হচ্ছে গানটা আমিই বেশ ভালো গাই।
আমার দুনিয়া ফুটপাতে আটকে থাকলেও
দিন দুনিয়ার সকল মানব মানবী বেহুদা কাজে ব্যতিব্যস্ত।
পকেটের সিগারেটটা ঘামে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তবুও খেতে পারছি না, ইচ্ছে করেই খাচ্ছি না।
ঘড়িতে সময়ের বয়স বাড়ছে আবারও শিশু হওয়ার জন্য— বেলা সকাল হতে দুপুরের কোলে গড়িয়েছে,
শহুরে লোকজন— এক সে.মি. ছাড়ে না কেউ কারো জন্য, দৌড়োদৌড়ি হুড়োহুড়িতে দিন যায়
রাত আসে।
ব্যতিব্যস্ত শহর দুপুরের শাসনামলে হটাৎ নেতিয়ে যায়, লোকেদের হুড়োহুড়ি থেমে যায়, কেউ এক সে.মি. জায়গায় গাড়ি ঠুসে দেয় না, কোলাহল থেমে যায়।
এগুলো স্বাভাবিক হলেও, এই হঠাৎ নেতিয়ে পরা শহরে এসব ঘটনা অস্বাভাবিক লাগে। কী যেন নেই নেই লাগে। ফাঁকা ফাঁকা লাগে। ভয় লাগে।
___________
আবদার- মিনতি সমেত
রুগ্ন-খসখসে ঠোঁট যুগল তুমি— সমুদ্রের মতো ভিজিয়ে দাও
দীর্ঘ চুম্বনে, জড়িয়ে ধরার খায়েশ মিটিয়ে দাও
চিরদিন কাফন জড়িয়ে থাকার মতো করে। আর বলো— ভালোবাসি।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।