২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
শিশির আজমের কবিতা
শিশির আজমের কবিতা
বুকোউস্কি আমারে বিখ্যাত বানাবার চায়
♦
 
আজ, ভোর রাতের দিকে
বুকোউস্কির লগে আমার দেখা,
স্বপ্নে।
 
'কোন মাইয়ালোক তোমার লগে নাই তো!' -কইলাম ওরে।
'আছিল একটা, ইয়াং আর কালো হাই-হিল জুতার।
(এক আফ্রো-আমেরিকান গিটারিস্ট জুতাটা ওরে গিফ্ট করছে, কইলো তো তাই!)
মিষ্টি কইরা তিনডা চুমা দিছি ওরে
তারপর ঐ যে ব্রিজ দেখতাছ ধইরা নাও ওইটার নাম হাতিরঝিল
হ্যা অর ওপর থিকা ধাক্কাইয়া ফাইলা দিছি
নিচে,
ও চাইছিল আমারে ভালবাসতে
আমার কবিতা আর আমার সিগ্রেটের ধোঁয়া আর আমার হুইস্কিসহ।'
 
ব্রিজটার নাম এখন কইতে চাইছি না আর ওটা তেমন বিখ্যাতও না
ব্রিজ না ধইরা নাও ওইটা উঁচা এক ফ্লাইওভার।
'ওই মাইয়াটা, স্কিন-টাইট প্যান্ট পরা, আরও আরও যত মাইয়া
আমার লগে যারা থাকে
ছিল
অরা তো কেউই বিখ্যাত না, ওই ব্রিজটাও বিখ্যাত না,
হ তুমি বিখ্যাত হইবার পারো
(দেখ না জনগণের ভাল না কইরাও রাজনৈতিক নেতারা কেমন জনপ্রিয় হয়!)
খুব বেশি কবিতা না লিইখাও
বুকোউস্কি হইবার পারো
এর লাইগা জাস্ট এক বোতল ফ্রেশ হুইস্কি নাও
হৃষ্টপুষ্ট কোন মাইয়া যারে আদর করা যায় বা রেসপেক্ট করা যায়
গলা জড়াইয়া ধইরা
নির্জন ঐ ব্রিজটার বা ফ্লাইঅভারের  বা সিগ্রেটের গোলাকার ধোঁয়ার
মাঝামাঝি
উইঠা যাও
মিষ্টি কইরা অর গালে চুমা দাও
একটা
দুইডা
তিনডা
তারপর ধাক্কাইয়া ওরে ফাইলা দাও
নিচে,
দেখবা তুমিও বিখ্যাত হয়া গেছ।'
 
'কিন্তু আমি তো বুকোউস্কি হবার চাই না
আর আমার নাই কোন মাইয়া ব্লাক হাই-হিল জুতার
নেভি-ব্লু স্কিন-টাইট প্যান্ট
ব্লু-অরেঞ্জ টি-শার্ট
পার্পল কালার লিপস্টিক
সিগ্রেট
এমন কি আমার কোন ব্রিজও নাই
যেইটা এখনও তেমন বিখ্যাত হয়া যায় নাই।'
 
 
 
 
 
 
আমার ফুল
-
 
আমি জানি
আমার ভালবাসা ছাড়া ফুল বাঁচে না
 
অথচ তোমরা
ফুল নিয়ে কতো কবিতা লিখছো
গান বেঁধেছো
ছবি এঁকেছো
ওর কাছে একবারও জানতে চাওনি
ওর মা বেঁচে আছে কি না
ওর ভাই এখন কোথায়
কোন্ তুর্কি সুলতান
চুরি করে নিয়ে গেছে বোনটাকে
 
 
 
 
১০০% পিওর কবিতা
♦
 
সে চেয়েছে এমন কবিতা লিখতে
যা ১০০% পিওর আর অরগ্যানিক
কিন্তু যা কবিতা
তা ১০০% পিওর কী করে হবে
অরগ্যানিক
১০০%
৫০%
২০%
যা অন্তত কবিতা
 
একজন বেশ্যাকে কীভাবে আমরা কুমারী ভাবতে পারি
বা জয়নুলের তুলি
কীভাবে তা স্টুডিওর উষ্ণতায়
খুশি থাকবে
 
 
 
 
 
গোরখোদক
♦
 
একজন পেশাদার গোরখোদক হিসেবে
সিটি করপোরেশন থেকে আমি নিয়মিত বেতন পাই
 
প্রতিদিন একটা না একটা গোর আমাকে খুঁড়তে হয়
আর কাজের প্রতি দায়বদ্ধতায় আমি তৃপ্ত
 
আমি অপেক্ষা করি লাশের জন্য
সে মন্ত্রীর হোক বা বেশ্যার
লাশবাহী গাড়ি যখন হুইসেল বাজাতে বাজাতে
কবরখানার গেটে এসে দাঁড়ায়
আমার ভেতর কেমন একটা ঝাঁকুনি আসে
আর সৃষ্টি হয় নতুন কর্মচাঞ্চল্য
 
কোনদিন যদি কবরখানায় লাশ না আসে
(এমনটা কদাচিৎ ঘটে)
সেদিন সারা দিনটাই ফাঁকা ফাঁকা লাগে
 
যা হোক কোন কোন লাশ কোনদিনই মরে না
ওরা
ওদের রাজনীতি ওদের যৌনতা ওদের সেমিনার
আর যতসব পারিবারিক কেচ্ছাকাহিনী
জারি রেখেছে
হ্যা
আজও জারি রেখেছে
আমার ভেতর
 
 
 
 
আমি হোসে মার্তি
 
 
আমার মা ছিল একজন রেড ইন্ডিয়ান
কালো
আমার বাবাও তাই
আমিও তাই
আর তোমরা ছিলে সাদা
তোমার বাবা ছিল সাদা
তোমার বাবার বাবাও ছিল সাদা
হ্যা
আমি আজও রেড ইন্ডিয়ান
আর কালো
হ্যা
কালো
আর আমার রক্তের রং কালো
বুঝেছ

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪