২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
হেমন্তের পথ
হেমন্তের পথ
মাছের প্রাণ,
সন্ধ্যার জমাট ধোঁয়া,
এটুকু আমাদের নিয়তির মধ্যে ধরা থাকবে,
আর যে উঁচু অট্টালিকা আমাদের মিথ্যে বলতে শেখায়
আমরা কোনোদিন তার মধ্যে থেকে বেরোতে পারি না,
আমরা সবাই ভবিষ্যতের মাছের মতো লেজ ঝাপটাই,
টোপ দিলেই গিলে খাই বিচার-বুদ্ধি ছাড়া,
এটাই নাকি আমাদের ভবিতব্য, 
এই বিকেলের দিকটায় হেঁটে আসতে ইচ্ছে করে,
সভ্যতার শুয়ে থাকা সব পথে পথে,আমি রাখতে যাই আমার পদচিহ্ন,বিদ্রোহী শীতকাল আসছে শুষ্ক 
অনুভূতি তার আগাম বার্তা দিচ্ছে,এখন শেষবেলার রৌদ্র
অতিরিক্ত কমলা রং বিলিয়ে দিয়ে যায় তৃণভূমির
কীটপতঙ্গের মধ্যে,হলুদ আলোর শহর আমার ক্রমে সাদা ও ফ্যাকাশে হয়ে যাচ্ছে,কেয়াবনের দিকে ধাবিত গোখরো  সাপ এসব কিছু খেয়াল করে না, 
রুক্ষ হিম বাতাস বিকেলের মাদকতাকে দ্বিগুণ করে,
অনন্তকালের এক খিদে চায়ের দোকানের বেঞ্চিগুলোকে ভিজিয়ে দেয় শিশিরের ছদ্মবেশে, রাস্তার দু'ধারে সারি সারি গাছের অবয়ব মঙ্গলকাব্যের ছন্দে দৃষ্টিহীন বিড়াল বাচ্চার মতো কেঁদে ওঠে,পাটকাঠির গায়ে আগুন লাগায়
জোনাকির দল,শিহরণ তুলে চলে যায় প্যাসেঞ্জার লোকাল,চলন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে কিছুটা আলো এক 'ছায়া রেলগাড়ি' তৈরি করে গম্ভীর অন্ধকারের মধ্যে,এই ছায়া ছায়া ছবি উৎসর্গ করা হয় মানুষের দৈনিক রুজির লড়াইয়ের উদ্দেশ্যে,
 টুকরো টুকরো টিনের-বেড়ার ঘর গুলোর উপর দিয়ে 
অন্য 'ছায়া-লোকাল' আঙুল বুলিয়ে যায়,ভাঙা গড়ার সমস্ত অবাঞ্ছিত কথকতার উপর দিয়ে,
ফেরিওয়ালার লজেন্সের বোয়মে চিড় ধরে।
নিশাচর পাখিরা হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষটার ঘরের উপর পাক খেতে থাকে,
ঝিমিয়ে পড়তে থাকে হেমন্তের ধানখেতের পরে হাই-টেনশন লাইন,আজ সবাই ঘরে ফিরে যাবে,পাতারা রং পাল্টে ফেলেছে এরই মধ্যে পরিণত হয়েছে ফুলে,
আর সমস্ত ফুল বিস্মৃতির অতলে বলাকা দেবীর চরণে
সমর্পিত,আর সব সৃষ্টিছাড়া-লক্ষীছাড়া ছেলেপিলের দল
পড়তে বসেছে আজ কী যেন এক একাগ্র চিত্তে,
উৎসব শেষে বাসের কঙ্কাল দাঁড়িয়ে আছে,ওরা একমাত্র সাক্ষী দারুণ লাম্পট্যের,আকাশে কিছু কিছু নক্ষত্র দেখা দিয়েছে অনেকদিন পর,সোডার বোতল থেকে কিছুটা ফেনা দপদপ করতে থাকা পথের আলোর দম্ভকে চূর্ণ করে,অস্বীকার করে রক্ষিতার অকুতোভয় দৃষ্টি,তখনই বিস্তীর্ণ মাঠের ওপার থেকে সহস্র করতালি আর রিক্সা-স্ট্যান্ডের ছোট্ট মন্দিরের ঘন্টাধ্বনি কপালে ঠেকিয়ে খাওয়া প্রসাদের মধ্যে মিশে যায়,প্রত্যেকটা লোমকূপ হিংস্র হয়ে ওঠে,প্রাগৈতিহাসিক গুহামানবের মতো ছুঁড়ে  মারে বল্লম নিদ্রাহীন অরণ্যের তমসা তবু পরমব্রহ্মের মতো অটল থেকে যায়
 

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

কয়েকটি কবিতা
ওয়াহিদার হোসেন

কয়েকটি কবিতা

সকল দ্বিধা। ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে আসি অন্ধকারে।এভাবেও ফেরা যায়।ফেরা কি সম্ভব?সাধুসঙ্গ টেনে আনে গার্হস্থের তুমুল আলোয়।দড়ি দড়া ছিড়ে ভেঙে পাখিও কি ফিরতে পারে পরিচিত শাখের জঠরে?

কবিতা৭ মে, ২০২৪
দুটি কবিতা
জ্যোতির্ময় বিশ্বাস

দুটি কবিতা

একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব

কবিতা৭ মে, ২০২৪
একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......
শ্রী সদ্যোজাত

একটি স্নেহ চূড়া মৃত্যু .......

ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেমন যেন সে নয়ন আপন নয়ন হয়ে থাকে। কাছে থাকলে যদি অখিল স্রোতের বিড়ম্বনা আসে, একসময়ের পরিচিত একান্ত সংকেতগুলো হঠাৎ ঝড়ের মতন আবছা হয়ে আসে, ছেড়ে দেওয়ার পরেও সে কেমন একটা শিউলি শিউলি গন্ধ এই অবেলাতেও সারা গায়ে লেপ্টে রাখে,

কবিতা৭ মে, ২০২৪