কবিতা
সকল পোস্টসমূহ

তৃতীয় সে পুরুষ জানে
আবহমান কাল তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি, সে কোন তৃতীয় পুরুষ! সে কোন দেবতার মুখশ্রী যে আমার কল্পনার সমীরণ ভাঙাবে? ওষ্টাগ্রে বিষন্নতা নিয়ে ঘুরি, তোমার পাড়ায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেই, হাহাকার মিশিয়ে দেই বাতাসের শব্দে

গ্রীগ্রীঢংদয়ালদন্ডসং
মানুষ দেখি ... ভালোবাসতে পারার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ হারাচ্ছে মায়াময় উর্বরতা। জীবিত হৃদয়ে সময়ের প্রতিধ্বনি, প্রাপ্তির ব্যাকুলতা আকাঙ্খার আলোড়ন

দুটি কবিতা
পরিযায়ী কাকলির ভেতর থেকে এই সুমেরীয় গুঞ্জন বারবার এসে ফিরে ফিরে যায়

দ্রাঘিমালণ্ঠন
নদীতে পলির ধ্বনি, সারারাত স্রোতের আঁচড় মেঘেরা শিথিল ঘুমে, উপকূলে হাওয়া মন্থর; যেখানে থেমেছি আজ, কতকাল সেখানে ছিলাম? মাটির গহনা দেশ, করেছিলো বেনিয়া 'নিলাম'!

কিছু অলিখিত বুদবুদ
মর্মরে আঁকা আলো মর্মে কুসুম করি আর বাঁচার তুমুলে-- মাঠে রুই মেঠো কারু-লতা !

শরীর
যে শরীর কামনা করি এখন পাগলাগারদের যৌনকেশ না কামানো পাগলের স্মৃতির মতো সেই শরীরও একদিন নাই হয়ে যায়।

কবিতা
এখনো সোনার মোহড়ায় জিতে যায় খাদ মুঠো ভর্তি অপহরণ।গণিকার আকাশ উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে আয়না ও আকাশের চোখের ঘর-দোড় এবং সোপার পেট ভর্তি হিরণ্ময় রক্তাক্ত ছুরি—মায়াবী চাহনি বিক্রি হচ্ছে। টেবিল জোড়া আত্মার চিৎকার,হাতের তালুতে ইচ্ছে হয়ে যাচ্ছে — কি অদ্ভুত ঈশ্বর...

রেড রেইন (২)
“Art is not made to decorate rooms. It is an offensive and defensive weapon against the enemy.” পাবলো পিকাসো

এক শীতের সকাল ও আমার মা
এই মধ্য বয়সে শীতের সকাল এলে কুয়াশায় মোড়া মনের বারান্দায় শৈশবের বহু স্মৃতি এসে ভিড় করে। যে স্মৃতির অনেকটা অংশ জুড়ে ঢেকে আছে বেদনার ধূসরতাl একা হয়ে যাওয়ার বিপন্নতাI ভাবতে গেলে সবকিছু কেমন যেন দুঃস্বপ্নের মতোই মনে হয়। এখনকার মতো তখনকার সকাল তো আর দেরিতে আসতো না! সূর্য ওঠার আগেই তার ঘুম ভেঙে যেত। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এর কোন ব্যত্যয় ঘটতো না। তখন ছোট বড় সবাই পাখি ডাকার সাথে সাথে জেগে উঠতো। শিশির স্নাত দুর্বাঘাস মাড়িয়ে মেঠো পথ ধরে তারা ছড়িয়ে পড়তো নানান কাজে। সেই শৈশবের সকালে আমরা যখন লেপের তলায় আধো জেগে আধো ঘুমে, মা তখন চুপিসাড়ে আমাদের উষ্ণ আরামকে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সকালের শীত মেখে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহস্থালির কাজে । অন্যদিকে বাবা ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন মানুষ। কচ্চিত কদাচিৎ তাঁর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হতো। তবে সাক্ষাৎ হলে তিনি হাজার বছরের সুখ যেন একদিনেই মিটিয়ে দিতেনI সারাদিন আমাদের মতো হয়ে আমাদের সঙ্গে মিশে যেতেন। বোঝাই যেত না এই মানুষটাকে আমরা আমাদের জীবনে খুব কম পেয়েছি। তিনি কখন ফিরতেন কখন ঘুমাতেন, তা আমরা কেউ জানতেই পারতাম না।

দুটি কবিতা
একটানা কুয়াশার শব্দে জ্বলে ওঠে বাতিঘর আমরা অন্ধকার বিছিয়ে জড়ো করি কিছু বোবামুখ।

কোলাহল রঙের সংসার
কাঁপা কাঁপা হাতে কেউ যেন লিখে রাখে আমি ভালো নেই, মোটারাম এই দু:সময়ে কেউ ভালো নেই লাল

হেমন্তের পথ
মাছের প্রাণ, সন্ধ্যার জমাট ধোঁয়া, এটুকু আমাদের নিয়তির মধ্যে ধরা থাকবে, আর যে উঁচু অট্টালিকা আমাদের মিথ্যে বলতে শেখায় আমরা কোনোদিন তার মধ্যে থেকে বেরোতে পারি না, আমরা সবাই ভবিষ্যতের মাছের মতো লেজ ঝাপটাই, টোপ দিলেই গিলে খাই বিচার-বুদ্ধি ছাড়া

শিশির আজমের কবিতা
কোন মাইয়ালোক তোমার লগে নাই তো!' -কইলাম ওরে। 'আছিল একটা, ইয়াং আর কালো হাই-হিল জুতার। (এক আফ্রো-আমেরিকান গিটারিস্ট জুতাটা ওরে গিফ্ট করছে, কইলো তো তাই!) মিষ্টি কইরা তিনডা চুমা দিছি ওরে তারপর ঐ যে ব্রিজ দেখতাছ ধইরা নাও ওইটার নাম হাতিরঝিল হ্যা অর ওপর থিকা ধাক্কাইয়া ফাইলা দিছি

রঙ্গমঞ্চ
পাড়ায় রক্তকরবী নাটক হচ্ছে। বলল সবাই

বাতাসের স্পর্শে
এসো ছুঁয়ে যাও জল হয়ে দাগ হয়ে আমার যা কিছু আমার

জ্যোতির্ময় বিশ্বাসের দুটি কবিতা
একা যে হাঁটছ যুবক এ বন পছন্দ বুঝি, ক'দিন এসেছ আগে শুনি বসো হেলান দিয়ে এই ফাল্গুনের ধ্বনি আর আগুনের পাশে বসে শুনি তোমার কথা সব চলচ্চিত্রের মতো, তখন আমাদের দেখানো হোক একটি মানুষের নিবিড়

ওয়াহিদার হোসেনের তিনটি কবিতা
অস্ত্বিত্বের সবটুকু কিংবা অস্থির সবটুকু ঝাপ্সা ভাসিয়ে দিতে চাই পবিত্র স্রোতে

নাফিসা মিদ্যার দুটি কবিতা
সাবধানতায় অভাব ছিল না জোগাড় ছিল বাছাই করা নামি দামি সুগন্ধির তবুও অকাঙ্খিত গন্ধটাই ছড়িয়ে পড়ল জলজ্যান্ত কলের পুতুল গুলো হঠাৎ নড়ে গেল বাঁধা পথ ছেড়ে দলে দলে মিশে গেল ভীড়ে

কয়েকটি কবিতা
এতটা নিখুঁত হলে চলে না কিছুটা খুঁত নিয়ে দিব্যি বেঁচে থাকা যায়। কখনো হাসির গমকে ব্যথার বাদ্য বেজে উঠলে কখনো সুরের গভীরে আরেক সুরের বোঝাপড়া হলে সহজেই মুছে ফেলা যায়- দৃশ্যবাহিত দিন।

দুটি কবিতা
পিকনিক বসেছে আলু কপির আই ডি ঘষে ঘষে পরীক্ষা এদিকটা কনভয় শুধু বালি বা বরফেই যুদ্ধ আটকে থাকে না আমার খিচুড়ির বালতিও ফুঁসে উঠছে অভিমান

দুটি কবিতা
তুমি সুদীর্ঘ মৌনতা নিয়ে / বিরান প্রান্তে একাকী ময়ূরী / ঘোর বরষায় / ভেঙে ভেঙে যায় ভরা বিকেল / খসে খসে পড়ে ফলবতী চাঁদ আর / সূর্য দহনে আমার জ্বালা পোড়া হয়/

কয়েকটি কবিতা
খতম তালিকার বাইরে যে দরবেশ গুচ্ছ বাতাস আমায় অক্ষর দেবে দেবে সোহাগচিহ্নের ছটফটে ঘর নাদানে ঝকঝকে টিউকল বসেছে সে পোশাক চেনায় সে সামন্ততান্ত্রিক

দুটি কবিতা
আমার চোখে দেখো, গভীর চোখে- করুণ বনাঞ্চলে এক ফুল ফুটে আছে। উন্মুখ তবু চুপ,নৈঃশব্দে বনানীর বাড়ন তাই,ফুল ফুটার সুখেও সুর গান বারণ।

কয়েকটি কবিতা
বহুদূরে একটা গাছের শরীরে ঘুমিয়ে পড়েছে চড়ুই তার দেহ জুড়ে ক্লান্ত অবস্বাদ ঘুমিয়ে পড়বার আগে কী ভেবেছিল পাখি? হয়তো তার মা অপেক্ষা করছে, অথচ ভাইয়েরা নবী ইউসুফের মতো তাড়িয়ে দিয়েছিল ঘর থেকে, গহীনে।