বইমেলা সংখ্যা
আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই। – ফ্রান্ৎস কাফকা

অসুখ ও রোগ নিরাময়
সব সময়।সবদিন।আমার শরীর খারাপ।দিনেও ভালো নেই।রাতে নেই।সেদিন চাঁদ উঠল আকাশে। চাঁদ "রুটি" করে খেলাম।স্ত্রী সাজিয়ে দিল প্লেটে। আস্ত গোটা চাঁদ।খানিক খেতেই সেই শরীর খারাপ।সকলে বলল,ভীষণ গরম।ঠাণ্ডা জল দাও।তার আগেই ঝরঝর বৃষ্টি শুরু হল।ময়লা ধুয়ে সাফ।পিচ রাস্তা ঝকঝকে।ধুলো পথে দাগ নেই।হাঁটা যায় সোজা হয়ে।তবু একই।শরীর নিচ্ছে না।ঘরে সাজানো আছে কতরকম ঔষধ।সকাল দুপুর নিয়ম করে খাই।নানান উপসর্গ।ডাক্তার দেখিয়েও এক।আমার শরীর দিন দিন খারাপ হচ্ছে।নিয়ম করে খারাপ হচ্ছে।

গ্রীগ্রীঢংদয়ালদন্ডসং
মানুষ দেখি ... ভালোবাসতে পারার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ হারাচ্ছে মায়াময় উর্বরতা। জীবিত হৃদয়ে সময়ের প্রতিধ্বনি, প্রাপ্তির ব্যাকুলতা আকাঙ্খার আলোড়ন

সম্পাদকীয়
বইমেলা হচ্ছে বাঙালির উৎসবের শেষতম সংযোজন।কত কবিতা কত গল্প কত উপন্যাস পরিপূর্ণতা পেল পাচ্ছে পাবে।আমাদের লেখক শিল্পীদের কত উচ্ছ্বাস কত অপূর্ণতা কাভারে ঢেকে এলো।জেলা বইমেলাগুলো শেষ হওয়ার পরেই শুরুয়াত হয়ে যায় কলকাতা বইমেলার।আন্তর্জাতিক বইমেলাও বটে।লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক পাঠক এমনকি দেশবিদেশের মানুষরাও শুধু প্রিয়তম শিল্পীকে একবার ছুঁয়ে দেখার জন্যও ঢুঁ মারেন বইমেলায়।তীর্থক্ষেত্র ঘুরে আসার তাগিদ রাজ্যের দেশের মানুষেরা বাঙালির ঘরের টানে বইমেলার টানে ফিরে আসা।

অশ্বারোহী জ্বিন
ছোটবেলায় ঘুম থেকে জেগেই মানে চোখ খুলে দেখতাম অন্ধকার কেটে গেছে কিনা।অন্ধকারের আলাদা রকম ছিলো। এখনকার বড় বয়সের মতো নয়।এখন ঘড়ি দেখি।আগে তো আমাদের একটাই ঘড়ি ছিলো।মা'র দূর সম্পর্কের ভাইয়ের মানে মামার কাছ থেকে কেনা।চোখ খুললে প্রথম সন্দেহ হতো বেরোনো যাবে কিনা।মাকে ডিঙিয়ে কি করে বেরোব?আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ব কি?অত সাহস হতনা।

তৃতীয় সে পুরুষ জানে
আবহমান কাল তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি, সে কোন তৃতীয় পুরুষ! সে কোন দেবতার মুখশ্রী যে আমার কল্পনার সমীরণ ভাঙাবে? ওষ্টাগ্রে বিষন্নতা নিয়ে ঘুরি, তোমার পাড়ায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেই, হাহাকার মিশিয়ে দেই বাতাসের শব্দে

হেমন্তের পথ
মাছের প্রাণ, সন্ধ্যার জমাট ধোঁয়া, এটুকু আমাদের নিয়তির মধ্যে ধরা থাকবে, আর যে উঁচু অট্টালিকা আমাদের মিথ্যে বলতে শেখায় আমরা কোনোদিন তার মধ্যে থেকে বেরোতে পারি না, আমরা সবাই ভবিষ্যতের মাছের মতো লেজ ঝাপটাই, টোপ দিলেই গিলে খাই বিচার-বুদ্ধি ছাড়া

বটগাছ আর পাখি
একটা বটগাছের সাথে একটা পাখির খুব ভাব।খায়, দায় আর বটগাছের মাথায় চেপে বসে থাকে,গল্প করে আকাশের গল্প, ডুবে যাওয়া সূর্যের গল্প, ভোরে ওঠা সূর্যের গল্প।বটগাছের মাথার জঞ্জালগুলো পরিষ্কার করে দেয়, ডালে মাথা এলিয়ে ঘুমায়।তারপর এলো শীতকাল, কুয়াশার শীতকাল।কুয়াশায় মানুষ নিজের মানুষকেও ভরসা করে না,পাখিও। উত্তাপ কমে যেতে মানুষরাই পাশে থাকে না আর পাখির তো ডানা আছে। চাইলেই উড়ে যেতে পারে।

দুটি কবিতা
একটানা কুয়াশার শব্দে জ্বলে ওঠে বাতিঘর আমরা অন্ধকার বিছিয়ে জড়ো করি কিছু বোবামুখ।

এক শীতের সকাল ও আমার মা
এই মধ্য বয়সে শীতের সকাল এলে কুয়াশায় মোড়া মনের বারান্দায় শৈশবের বহু স্মৃতি এসে ভিড় করে। যে স্মৃতির অনেকটা অংশ জুড়ে ঢেকে আছে বেদনার ধূসরতাl একা হয়ে যাওয়ার বিপন্নতাI ভাবতে গেলে সবকিছু কেমন যেন দুঃস্বপ্নের মতোই মনে হয়। এখনকার মতো তখনকার সকাল তো আর দেরিতে আসতো না! সূর্য ওঠার আগেই তার ঘুম ভেঙে যেত। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এর কোন ব্যত্যয় ঘটতো না। তখন ছোট বড় সবাই পাখি ডাকার সাথে সাথে জেগে উঠতো। শিশির স্নাত দুর্বাঘাস মাড়িয়ে মেঠো পথ ধরে তারা ছড়িয়ে পড়তো নানান কাজে। সেই শৈশবের সকালে আমরা যখন লেপের তলায় আধো জেগে আধো ঘুমে, মা তখন চুপিসাড়ে আমাদের উষ্ণ আরামকে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সকালের শীত মেখে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গৃহস্থালির কাজে । অন্যদিকে বাবা ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন মানুষ। কচ্চিত কদাচিৎ তাঁর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হতো। তবে সাক্ষাৎ হলে তিনি হাজার বছরের সুখ যেন একদিনেই মিটিয়ে দিতেনI সারাদিন আমাদের মতো হয়ে আমাদের সঙ্গে মিশে যেতেন। বোঝাই যেত না এই মানুষটাকে আমরা আমাদের জীবনে খুব কম পেয়েছি। তিনি কখন ফিরতেন কখন ঘুমাতেন, তা আমরা কেউ জানতেই পারতাম না।

রেড রেইন (২)
“Art is not made to decorate rooms. It is an offensive and defensive weapon against the enemy.” পাবলো পিকাসো

শরীর
যে শরীর কামনা করি এখন পাগলাগারদের যৌনকেশ না কামানো পাগলের স্মৃতির মতো সেই শরীরও একদিন নাই হয়ে যায়।

কিছু অলিখিত বুদবুদ
মর্মরে আঁকা আলো মর্মে কুসুম করি আর বাঁচার তুমুলে-- মাঠে রুই মেঠো কারু-লতা !

অসুখ ও রোগ নিরাময়
সব সময়।সবদিন।আমার শরীর খারাপ।দিনেও ভালো নেই।রাতে নেই।সেদিন চাঁদ উঠল আকাশে। চাঁদ "রুটি" করে খেলাম।স্ত্রী সাজিয়ে দিল প্লেটে। আস্ত গোটা চাঁদ।খানিক খেতেই সেই শরীর খারাপ।সকলে বলল,ভীষণ গরম।ঠাণ্ডা জল দাও।তার আগেই ঝরঝর বৃষ্টি শুরু হল।ময়লা ধুয়ে সাফ।পিচ রাস্তা ঝকঝকে।ধুলো পথে দাগ নেই।হাঁটা যায় সোজা হয়ে।তবু একই।শরীর নিচ্ছে না।ঘরে সাজানো আছে কতরকম ঔষধ।সকাল দুপুর নিয়ম করে খাই।নানান উপসর্গ।ডাক্তার দেখিয়েও এক।আমার শরীর দিন দিন খারাপ হচ্ছে।নিয়ম করে খারাপ হচ্ছে।

দুটি কবিতা
পরিযায়ী কাকলির ভেতর থেকে এই সুমেরীয় গুঞ্জন বারবার এসে ফিরে ফিরে যায়

দ্রাঘিমালণ্ঠন
নদীতে পলির ধ্বনি, সারারাত স্রোতের আঁচড় মেঘেরা শিথিল ঘুমে, উপকূলে হাওয়া মন্থর; যেখানে থেমেছি আজ, কতকাল সেখানে ছিলাম? মাটির গহনা দেশ, করেছিলো বেনিয়া 'নিলাম'!

গ্রীগ্রীঢংদয়ালদন্ডসং
মানুষ দেখি ... ভালোবাসতে পারার সক্ষমতা হারাচ্ছে মানুষ হারাচ্ছে মায়াময় উর্বরতা। জীবিত হৃদয়ে সময়ের প্রতিধ্বনি, প্রাপ্তির ব্যাকুলতা আকাঙ্খার আলোড়ন

সম্পাদকীয়
বইমেলা হচ্ছে বাঙালির উৎসবের শেষতম সংযোজন।কত কবিতা কত গল্প কত উপন্যাস পরিপূর্ণতা পেল পাচ্ছে পাবে।আমাদের লেখক শিল্পীদের কত উচ্ছ্বাস কত অপূর্ণতা কাভারে ঢেকে এলো।জেলা বইমেলাগুলো শেষ হওয়ার পরেই শুরুয়াত হয়ে যায় কলকাতা বইমেলার।আন্তর্জাতিক বইমেলাও বটে।লেখক কবি শিল্পী সাহিত্যিক পাঠক এমনকি দেশবিদেশের মানুষরাও শুধু প্রিয়তম শিল্পীকে একবার ছুঁয়ে দেখার জন্যও ঢুঁ মারেন বইমেলায়।তীর্থক্ষেত্র ঘুরে আসার তাগিদ রাজ্যের দেশের মানুষেরা বাঙালির ঘরের টানে বইমেলার টানে ফিরে আসা।

অশ্বারোহী জ্বিন
ছোটবেলায় ঘুম থেকে জেগেই মানে চোখ খুলে দেখতাম অন্ধকার কেটে গেছে কিনা।অন্ধকারের আলাদা রকম ছিলো। এখনকার বড় বয়সের মতো নয়।এখন ঘড়ি দেখি।আগে তো আমাদের একটাই ঘড়ি ছিলো।মা'র দূর সম্পর্কের ভাইয়ের মানে মামার কাছ থেকে কেনা।চোখ খুললে প্রথম সন্দেহ হতো বেরোনো যাবে কিনা।মাকে ডিঙিয়ে কি করে বেরোব?আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ব কি?অত সাহস হতনা।

তৃতীয় সে পুরুষ জানে
আবহমান কাল তোমাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারেনি, সে কোন তৃতীয় পুরুষ! সে কোন দেবতার মুখশ্রী যে আমার কল্পনার সমীরণ ভাঙাবে? ওষ্টাগ্রে বিষন্নতা নিয়ে ঘুরি, তোমার পাড়ায় চায়ের দোকানে আড্ডা দেই, হাহাকার মিশিয়ে দেই বাতাসের শব্দে

শিশির আজমের কবিতা
কোন মাইয়ালোক তোমার লগে নাই তো!' -কইলাম ওরে। 'আছিল একটা, ইয়াং আর কালো হাই-হিল জুতার। (এক আফ্রো-আমেরিকান গিটারিস্ট জুতাটা ওরে গিফ্ট করছে, কইলো তো তাই!) মিষ্টি কইরা তিনডা চুমা দিছি ওরে তারপর ঐ যে ব্রিজ দেখতাছ ধইরা নাও ওইটার নাম হাতিরঝিল হ্যা অর ওপর থিকা ধাক্কাইয়া ফাইলা দিছি

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।

দুধারে ঈশ্বর
একটি প্রাণবন্ত ফুঁয়ে একরাশ আঙুল এ কেমন বিমল ফুল নীল হাত নেড়ে বলে প্রজাপতি ছেলেবেলা তার ক্যাপশন

চিঠি
ফিরে আসা চাঁদের উসকানি ঢুকে যাচ্ছে মাথার ভেতর মেঘের হাত ধরে পাথর খুঁজতে যাব তোমার কিনারে।

সম্পাদকীয়
মড়ক লেগেছে নাকি খরা ! বাঙালি মনন বাঙালির ভাষা, বিস্মৃত তার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব । সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে এই ধারণা ভীষণ রকম ভুল বলে প্রমাণিত হবে। বছরে বছরে যেভাবে গজিয়ে উঠছে অগণন লিটিল ম্যাগাজিন , সামাজিক মাধ্যমে অবিরত বয়ে যাচ্ছে সাহিত্যের বহতা ধারা ।

গণিত, অথচ
অ্যাম্বুলেন্সের ডালা খোলা আছে গাছের শরীরে অন্য গাছের ছায়া তবু ওভারল্যাপ এইসব দৃশ্যভাবনার পাশে ঠোঁট, বরফ, বরফ কঠিন ঠোঁট গল্প বদলে যাচ্ছে

সোয়েটার
গন গনে নীল শিখা মেলে গ্যাসের উনুন জ্বলছে। কেটলিতে জল সেই কখন থেকে ফুটে চলেছে। বাষ্প হয়ে অর্ধেক জল মরে গেছে। সেই দিকে কোনও খেয়াল নেই নীলার। সে একটা বেতের গদি মোড়া আরাম চেয়ারে বসে আছে। কিচেনটা ঢের বড়। প্রায় প্রমাণ সাইজ একটা ঘরের মতো। এখানে বসে উলের কাঁটায় শব্দ তুলে সোয়েটার বুনে যাওয়া তার একমাত্র বিলাসিতা। শীতের দিনে আগুনের এই উত্তাপটা কী যে আরামের, নীলা তা কাউকে বোঝাতে পারবে না। গ্যাসটা কতক্ষণ জ্বলছে সে দিকে তার কোনও খেয়াল নেই। চায়ের জল বসানোটা আসলে একটা ছুতো। শীতের রাতে আগুনের উষ্ণতাকে সে প্রাণ ভরে উপভোগ করে নিচ্ছে। গ্যাস পুড়ছে পুড়ুক। সেই নিয়ে সে মাথা ঘামায় না। তার স্বামী বিপুলের টাকার অভাব নেই। তারা বিশাল ধনী না হতে পারে কিন্তু এই সব সামান্য বে-হিসেবী খরচ করার মতো তাদের ঢের পয়সা আছে।