২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
অশ্বারোহী জ্বিন
অশ্বারোহী জ্বিন
 
ছোটবেলায় ঘুম থেকে জেগেই মানে চোখ খুলে দেখতাম অন্ধকার কেটে গেছে কিনা।অন্ধকারের আলাদা রকম ছিলো। এখনকার বড় বয়সের মতো নয়।এখন ঘড়ি দেখি।আগে তো আমাদের একটাই ঘড়ি ছিলো।মা'র দূর সম্পর্কের ভাইয়ের মানে মামার কাছ থেকে কেনা।চোখ খুললে প্রথম সন্দেহ হতো বেরোনো যাবে কিনা।মাকে ডিঙিয়ে কি করে বেরোব?আস্তে আস্তে উঠে দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ব কি?অত সাহস হতনা।

ঘোড়ার ভয় ছিল।একটা সাদা ঘোড়া।পক্ষীরাজের মতো। এ ঘোড়া দূর্ভাগ্যবশত কেউ দেখতে পায়।সাদা পোশাকের একটা লোক ঘোড়ায় চড়ে বেরিয়ে পড়েছে।সাত সকালে ঘোড়ায় চড়ে কেউ কোথায় যেতে পারে?কি কাজ থাকে তাদের?কোথায় যায় তারা?তাদের রূপকথার জগৎ হয়তো আমাদের থেকে আলাদা।তারা কি অন্য কোনো ইউনিভার্সে থাকে?এখন হাসি পায়।সমূহ হাসি।এইসব গল্প শুনেছি কান লাগিয়ে ফিসফিস করে যখন মা চাচা দাদোরা গল্প করতো।স্পষ্ট করে তারা কিছুই বলতোনা।আমাদের ঘরের পিছনে যে রাস্তাটা নয়াবাড়ি গেছে যে রাস্তাটা বড় রাস্তায় উঠেছে সেই একই রাস্তা।তাহাদের যাতায়াতের পথ।ফুফু খালাদের যখন ভরা যৌবন হাওয়া লাগতো।মুরুব্বীরা এসে বলতো খবরদার,ওদের কেউ বিরক্ত করবিনা।চড় খাসনি এটাই বিরাট ব্যাপার। ঘোড়ার কাছে যাসনা।ঘোড়া দেখলেই তো ভিরমি খাবি।

এরপর আর তাদের সাহস হতনা সাত সকালে উঠে ঝাড়ু দেওয়ার চা বানানোর।কিন্তু যে ডাকাবুকো যুবক তারপরও ভোরে অন্ধকার থাকতে থাকতে ওঠে সে শোনে আওয়াজ ঘোড়ার খুরের টগবগ। সবাই শুনতে পায়না।শুধু যারা পবিত্র আত্মার অধিকারী দুর্ঘটনাবশত তারাই শুনতে পায়।দুপুরে গল্পের সময় ফুপু বা দাদি বলে ওজু করার সময় আমিও শুনেছি।বালতির শব্দ।কুয়োয় ঝপ করে বালতিটা ফেলে দিল।আমি একমনে জেগে আছি।তারপর ছলাৎ ছলাৎ। বুঝলাম অজু করছে।আসলে টাইম হয়ে গেছে না।ডাকাবুকো ছেলেটা বলে ফালতু কথা আমি বিশ্বাস করিনা।তবে আমি যেদিন শেষরাতে পালাগান শুনে ফিরি সেদিন ঘোড়াটা দেখেছি।ইয়াব্বড় দাঁড়িওয়ালা। সাদা ঘোড়া।আমার বগল ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। ভাগ্যিস আমি সাহসী। ছোটু হলে পেচ্ছাপ করে দিত।।তারপর দাঁত বের করে হিহি করে হাসে।
দাদি তখন বলে এখনো ব্রাশ করে নাই আবার ভোরে ওঠার গল্প।

 
খুনসুটি চলে। বাড়িতে মুরুব্বি খালু ফুঁফারা এলে টের পায়।ভোরে ঘোড়ার খুরের শব্দে জেগে ওঠে বুঝতে চায় ভয় পায় কিসের শব্দ?ভোরে কে উঠে অজু করে? সকালে জিজ্ঞেস করলে সবাই হাসে।কেউ স্বপ্ন দেখে। রাস্তা আছে রাস্তা আছে। ওইজন্যই তো সমস্যা।খবরদার। খবরদার!

আমিও শুনেছি।ঘোড়ার খুরের শব্দ।টগবগ টগবগ। এখনো ঘুম থেকে উঠে ঘুমের ঘোরে শুনি কোথায় দূরে ঘোড়া নিয়ে কেউ চলে যাচ্ছে।তাদের রাস্তা বদলে নিয়েছে।টিউবওয়েল শব্দ করলে ট্যাপ খুললে ভাবি অজু করছে নাতো কেউ?

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

Bug out of the bag-Expedition of Mt.Jagatsukh
সুরজিৎ ব্যানার্জি

Bug out of the bag-Expedition of Mt.Jagatsukh

August 29, 2022 we drove to the Duhangan Weir Site a.k.a Khanaul and started our trek from there. We met the guide, assistant guide and rest of the support team on the previous day, tested the equipment and discussed the further planning. A ride out of Manali is pompy on the street wind,the long site of mountains with pavements soon turning into gravels as views of the Himalayas are ahead coming to foreview.

গদ্য১৩ অক্টোবর, ২০২৬
প্রকৃতির টান ও শহুরে জীবন
পিয়ালী ভট্টাচার্য

প্রকৃতির টান ও শহুরে জীবন

পথ চলেছে পথের মতো ।পথিক হাঁটছে ,পথেই কি তবে পাবে পথিক দুদন্ড শান্তি।এমনি এক বিকেলে সূদূরের উদ্দেশ্য ভ্রাম্যমাণ পথিক দাঁড়িয়ে দেখে অসীম রহস্যময় অনন্ত বিস্তারিত জলরাশির মধ্যে আলো আঁধারি খেলা।গঙ্গাবক্ষের এমন সৌন্দর্য মুহূর্তের মধ্যে শহুরে জীবনে ক্লান্ত, ক্ষয়িষ্ণু চলমান পথিক কে টেনে নেয় তার কাছে। শেষ বিকেলের আলোয় ঢাকা সূর্যাস্ত, নদীর কলতান, ভাসমান নৌকা,ছায়া নিবিড় সুশীতল স্নিগ্ধ প্রকৃতির রুপ,বিগত অনাগত কত ভাবনার মধ্যে মনকে গ্ৰাস করে।কি চাইলাম ,কি চেয়েছি কোথায় যাচ্ছি মুহূর্তের মধ্যে নিজের মনের মানুষের সন্ধানে খুঁজে ফেরে পথিক।

গদ্য১৩ অক্টোবর, ২০২৬
ল্যাংস্টন হিউজ  (আমেরিকান কবি-লেখক ও সমাজকর্মী)
শঙ্কর ব্রহ্ম

ল্যাংস্টন হিউজ (আমেরিকান কবি-লেখক ও সমাজকর্মী)

ল্যাংস্টন হিউজ লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়, পেন্সিল্‌ভেনিয়ায় পড়শুনা করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্লেম রেনেসাঁসের অন্যতম একজন নেতা। তাঁর কর্মকাল ছিল ১৯২৬ সাল থেকে–১৯৬৪ সাল পর্যন্ত।

গদ্য১১ অক্টোবর, ২০২৬