
সব সময়।সবদিন।আমার শরীর খারাপ।দিনেও ভালো নেই।রাতে নেই।সেদিন চাঁদ উঠল আকাশে। চাঁদ "রুটি" করে খেলাম।স্ত্রী সাজিয়ে দিল প্লেটে। আস্ত গোটা চাঁদ।খানিক খেতেই সেই শরীর খারাপ।সকলে বলল,ভীষণ গরম।ঠাণ্ডা জল দাও।তার আগেই ঝরঝর বৃষ্টি শুরু হল।ময়লা ধুয়ে সাফ।পিচ রাস্তা ঝকঝকে।ধুলো পথে দাগ নেই।হাঁটা যায় সোজা হয়ে।তবু একই।শরীর নিচ্ছে না।ঘরে সাজানো আছে কতরকম ঔষধ।সকাল দুপুর নিয়ম করে খাই।নানান উপসর্গ।ডাক্তার দেখিয়েও এক।আমার শরীর দিন দিন খারাপ হচ্ছে।নিয়ম করে খারাপ হচ্ছে।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি।শরীর খারাপ কবে থেকে।ছোটবেলায় তাগড়া শরীর ছিল।চোখ মুখ সাপের মতো।ফোঁস ফোঁস আওয়াজ হয়। সকলে বলছে কালো পাথর।অহল্যা পাথর।ক্ষয় হবে না কোনোদিন।তারই ক্ষয় শুরু হল একদিন। বয়স তখন মাত্র বার।পাশের বাড়ির মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল।একসাথে পড়তাম।মুসলিম মেয়ে বলে কেউ গল্প করতো না।আমি এগিয়ে এসেছি সবার আগে।তারই বিয়ে।অনেক করে বলল, ভালো থেকো।এসো বিয়েতে।যাওয়া হয় নি। বাবার কড়া নিষেধ।প্রতিবেশিদের চাপ।মেয়েটা অল্প বয়সেই চোখের আড়ালে চলে গেল।আর সেইদিন থেকেই আমার অসুখ।কঠিন ব্যামো।
আমাদের গ্ৰাম ছায়া ঘেরা।রোদ খেলা করে।ছায়াও।নেচে নেচে বড় হয়েছে বৃক্ষগুলি। লতিয়ে লতিয়ে বেড়েছে লতা।পুকুরঘাটে শোল মাছ।মা আগলে রাখতেন চারা পোনা সব।এক দিন এক দুষ্টু লোক মাছটাকে ঝুড়ি চাপা দিয়ে ধরল।মা ছিল না।বাচ্চাগুলি অনাথ হয়ে গেল।মনে হল,আমিও অনাথ।মা নেই আমারও।ঝড়ে অপরের বাড়ির খড় উড়ে গেল একদিন।তাই দেখে আমিও নিজের ঘরের খড় খুলে ফেললাম। লোকে বলল,ছেলেটার অসুখ ভালো নয়।ওকে শহরে নিয়ে যাও।উঠানের ফুল ফল অনেক।দুর্বা শিশির।ঘরের পিছনে নদী।খাওয়ার আগে স্নান। এক জলই খাওয়া।রান্না।রাধার কলসিতে থাকে। তবু মনে হতো,এ জলে স্বাদ নেই।কুটিলা জুটিলা লুকিয়ে আছে।কলসি ভেঙে দিতাম।
শহরে এলাম।জ্যোৎন্না পেরিয়ে সেই প্রথম। ল্যাম্প পোষ্টে জড়িয়ে আছে চিকন আলো।বড় বড় বাতিস্তম্ভ।রাত বোঝা যায় না।কিলবিল করছে লোক।কত মিছিল যায়।কত শ্লোগান।তারই মধ্যে একে অপরের ক্ষত করে।মাথা ফাটে।জীবন নিয়ে পালায়।সেদিন দেখি এক যুবতী মেয়ে উধাও।কেউ খুঁজতে আসে নি।যে যার সে তার ঘরে ঘুমিয়ে। কেমন উত্তাপহীন সবাই। আমি রাস্তায় বসে আছি।ঘুম নেই।আমিই কি সেই মেয়ে ? আমাকে ধর্ষণ করবে বলে দশ জনে টানাটানি করছে !
এক ডাক্তারের কাছে যাই।বাবা নিয়ে গেলেন। অসুখের নাম বলতে পারল না ডাক্তার।শিক্ষকের দরজায় ধাক্কা দিয়েছি।প্রতিমা গড়ে এমন মিস্ত্রীর কাছেও এলাম।হয়তো নতুন প্রতিমায় মন বসবে ধর্মে।সেই সূত্রে সকালে উঠে আজান দিলাম। দুপুরে প্রার্থনা গৃহে।এখন আমাকে দেখলে লোকে হিন্দু বলে চিৎকার করে।অনেকে মুসলিম বলে দাগ দিয়ে দিল।কেউ কেউ বলল,লোকটা খ্রীষ্টান। যত বলে তত বাড়ে আমার অসুখ।একসময় মনে হল আমি নেই।কোনোদিন ছিলাম না।আবার মনে হয়,এই তো আমি।রক্ত মাংসের শরীর।কাটলে ব্যাথা লাগে।ক্ষিদে পায়।প্রেমের পিপাসা আছে। নারীর মুখে চুমো।শিশুর গালে আদর।বাজারে যাই।ব্যাগে কতরকম বাসনা।সবই তো ঠিক আছে। পথে লোকটা চিৎকার করে ভাষণ দিচ্ছে।কথা বলবার বিরাম নেই।একটাও তো মিথ্যা বলে মনে হল না।একসময় লোকটা টাকা উড়িয়ে দিল।কত লোক টাকা ধরছে।ঘুড়ি ধরবার মতো।হুড়োহুড়ি পড়ে গেল।সেই চাপে চাপা পড়েছে কয়েকজন। আমি বড় বড় চোখে তাকিয়ে দেখি।টাকা উড়ে ? টাকা ধরবার জন্য এত লোক ?টাকার জন্য মানুষের প্রাণ যায় ? আহত হয় !আমার শরীরেও আনাচে-কানাচে কালচে দাগ।এগুলি রক্ত ছিল। জমাট বেঁধেছে।বাবাকে বললাম,আমার শরীর মানে এক পৃথিবী। পৃথিবীর কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে।হাত পা ছাড়াই বেঁচে আছে বহু মানুষ।এগুলি তারই দাগ। আমার শরীর ঘিরে রণক্ষেত্র।আমি যুদ্ধের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।একদিকে শঙ্খ।অন্যদিকে বারুদ। মনে হল,যারাই শঙ্খ বাজায় তারাই শঙ্খ ভাঙে। আছড়ে ভেঙে ফেলে।শব্দে শব্দে শরীর ভেঙে যাচ্ছে।আমি আওয়াজ নিতে পারছি না আর। এভাবে অসুখে রেখে বাবা চলে গেলেন একদিন। পৃথিবীর সাথে আপোস করে বাবা পুড়েছেন।আমি চিৎকার করেছি।এভাবে অনেক মানুষই আগুনে পুড়ে গেল।সকলেই বাবার মতো।আগুনে নিজেকে ভেট দেয়।আর আমাকে ঘিরে একাধিক ব্যামো।
একদিন ভোর বেলা।পূর্বদিক লাল হচ্ছে। সবুজের উপর লালের ছোঁয়া।দক্ষিণা হাওয়া। দক্ষিণ এক স্নেহ চূড়া।পাখির আকাশ।মানুষেরও আকাশ।মায়ের তুলসি তলা তখন আর এক সাজে।ঝরা পাতাগুলি সরিয়ে ফেলেছেন মা। উঠানে একাটাও মৃতদেহ নেই।প্রকৃতিতে সব স্বাভাবিক মৃত্যু।ঝরা পাতার কান্না থামে,যখন কচিপাতা তাদের এগিয়ে দেয়।মা প্রতিদিন কচি পাতায় জল দেবেন।ঝরা পাতাতে আগুন। এভাবেই মৃতদেহ পরিস্কার হয়ে যায়।ভোরের আশীর্বাদ দুজনেই পায়।এই আশীর্বাদেই মৃত সকল পচে না।নতুন জীবন সুগোল হয়।ভোর হলে দ্বার খুলে দিতে হয় তাই।মৃতদেহ বেরিয়ে যাবে। জীবন আসবে ঘরে।আমি ঘুমিয়ে ছিলাম।জানালা দিয়ে পাখি আমায় ডাকবে।পাখি ডাকলও।শরীর হটাৎ অস্থির হয়ে উঠল।মস্ত জ্বালা।যন্ত্রণা।চেয়ে দেখি আমার ডান হাতটা নেই।ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। ছুটে বাহিরে এসেছি।ছুটছি।পিছনে মা। তার সঙ্গে কেউ নেই।মা চিৎকার করছেন।হাতের খোঁজে আমি তখন পাশের বাড়ির আটচালায়।চড় থাপ্পড় মেরে আমাকে সরিয়ে দিলেন মা।টানতে টানতে আমাকে নিয়ে এলেন ঘরে।বলল,হাত আমার যথাস্থানেই আছে।খবরটা ততক্ষণে সবার জানা।ঐ আটচালাতেই এক শিশু হাত হারিয়ে ফেলেছে।মায়ের আঁচলে ঘুমানোর আগে বল কুড়িয়ে রাখছিল।ওটা বল ছিল না।বারুদ ছিল। রাতেও মানুষ ঘুমায় না।বারুদ ফেলে রাখে।আর হাতের জন্য আমায় দৌড়াতে হয়।আমি কি বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছি ? সকাল,দুপুরে,সন্ধায় এভাবে আমার অঙ্গ প্রতঙ্গ বাদ হচ্ছে।কঠিন রোগে ছটপট করছি আমি।একটু জল দাও।আমার হাত পা আঙুল গুলি এনে দাও।আবার একদিন ঘরে শুয়ে ছিলাম।গদি বিছানায়। নিচে পড়ে গেলাম। কোথায় ঘর।কোথায় বিছানা।আমি রাষ্ট্র শূন্য এক নাগরিক।আমার জল নেই।ভূমি নেই।আকাশ নেই।আমার জন্ম কোথায় হয়েছিল কেউ বলতে পারল না।সকলে ঠোঁট বন্ধ করে সরে গেল।
সেদিন মনে হল রাত গভীর।সব জায়গায় অন্ধকার।খুব ভয় করছে।মা এসে দাঁড়ালেন।হাত রাখলেন মাথায়।সেই অসীম ছায়া।চারদিকে ফুল ফুটে উঠল যেন।শিশির ঝরছে।
—খোকা,রাত কোথায়।এখন তো সকাল।
—সকালের পরিচয় কি মা ?
—সকালে ফুল ফোটে।পাখি ডাকে।রোদ থাকে।
—আর কি থাকে মা ?
—মানুষে মানুষে কথা হয়।নদীর জলের মতো।
—তাতে কি মা ?
—আমি হাতেখড়ি দেব।
—আবার হাতেখড়ি ?
নদীর কাছে চলে এসেছি।মা আর আমি। সেই ছোটবেলার মতো।নদীর এপাড় ওপাড় দেখা যায়।কলকল বয়ে যাচ্ছে নদী।আমি হাতে নিয়েছি পাথর টুকরো।অনেক টুকরো পাথর।তাতে শব্দ জড়িয়ে ওপাড়ে ছুঁড়ছি।ছুঁড়েই যাই।শব্দ জলেই পড়ছে।একটাও ওপাড়ে যাচ্ছে না।জলেই কল্লোল।ঢেউ গড়ে।ঢেউ ভাঙে।জল মালিকের কাছে শব্দ পড়ে।শব্দ নদীর হয়ে যায়।যারা নদী কিনে বড়লোক,তারাই শব্দ কিনে লাভবান হল। আমার অসুখ কাছেই থেকে যায়।রোগমুক্তি হল না।মা দেখে যেতে পারলেন না।
আমার শরীর।ইদানিং নতুন উপসর্গ।অঙ্গ প্রতঙ্গের সমস্যা বাড়ছে।কেউ কথা বলছে,হটাৎ বমি হয়ে গেল।চোখে দেখছি,বমি হচ্ছে।নাক শ্বাস নিল।ত্বক স্পর্শ নিচ্ছে।মুখ খাবার খাচ্ছে।বমি হল।কারো অক্ষর পড়ছি।হাতের লেখা।অথবা ছোট বড় বই।ধ্বনি দিয়েই মাখিয়ে নিলাম।যেন দুধ থেকে মাখন হচ্ছে।তবু আমার বমি হয়ে যাচ্ছে। ধ্বনি অশ্লীল।অক্ষর আঁকাবাঁকা।শব্দ মন্ত্র নয়।দুধে জল।আসল ঘি খাওয়া হয়নি।নকল শব্দে বমি। নকল ঘি,গন্ধ নেই।শব্দ ভুল।উচ্চারণও ভুল।ফুলে নকল সৌন্দর্য।সেই সৌন্দর্যে কৃত্রিম সুবাস। আমি এক মানুষ।শরীরে আমার মানুষের গন্ধ নেই।কত মানুষের সাথে কথা হল।কত পুরুষ মানুষ।নারী মানুষ।প্রণাম করতে যাই।থমকে গেলাম।মানুষের দেহে অপূর্ব এক সুবাস থাকে।প্রকৃতির মতো। কাছে গেলে ফুল ফলের জীবনী পড়া যায়।আমি কিছুই পড়তে পারছি না।অপরকে নয়।নিজেকেও নয়।এক অদ্ভুত কটু রূপ সামনে চলে আসে। আসছে।বারবার।আমার চারদিকে ঘুরে।গন্ধ পোকা উড়ে।তারা মুখে নাকে প্রবেশ করছে। আমার বমি হয়ে যায়।
অনেকে বলল,শরীর আমার রাজ সিংহাসন। সেখানে স্বয়ং বসে আছেন বুদ্ধ।ধ্যানে আছেন। সুজাতাও পাশে।অসুখ থাকার কথা নয়।বমি হওয়া অপরাধ।ফুলের গন্ধ নাও খোকা।ধূপ ধূনার গন্ধ।কাঁসর ঘণ্টা বাজে।মন্ত্র উচ্চারণ হয়।নিয়মিত আজান দিচ্ছে।ঈশ্বরের রোগ নেই।তিনি এক ব্রহ্মাণ্ড।যেখানে পাতাল আছে।আকাশ থাকে।এক ভাগ স্থলের রূপকথা।তিন ভাগ জলের রঙ।স্নান করে শুদ্ধ হও।দেখ হাত,পা আঙুল সবই আছে। মায়ের দেওয়া শরীর।পিতার দেওয়া কাঠামো। একটাও উঁইপোকা নেই।
সেই মায়ের আঁচল ধরে আছি।মা যেখানে আমি সেখানে।দেখতাম উঁই ছাতু ফুটে আছে এক এক জায়গায়।মা তুলছেন হাসি মুখে।প্রথমে উঁইঢিপি।তারপর ছাতু।মা-ই বলতেন,শরীরের অনেক স্থান কৃষ্ণ।কিছু কিছু স্থান কংস।ভূমির ক্ষেত্রেও তাই।কংস জায়গা কৃষ্ণ হওয়ার চেষ্টা করে।ছাতু তারই চিহ্ন।এই সংগ্ৰাম নিয়মিত।সেই সংগ্ৰামে ভুল হলেই সারা শরীরে কংস ফুটে উঠবে।কৃষ্ণও আছাড় খায়।কংস কৃষ্ণ হত্যা করে।এর থেকে বাঁচার উপায় কংস হত্যা।
—কিভাবে সম্ভব মা ?
—তোমার অসুখ হল কংস।বমি হচ্ছে কংস দেখে।
—অসুখের নাম কংস ?
—শরীর তো কৃষ্ণ।তার এক অংশ অসুর।ঘৃণা দিয়ে তাড়াও।
—ঘৃণা কি মা ?
—ঘৃণা হল আগুন।চিতার থেকে যার তাপ বেশি।
—আমার কেন বমি হচ্ছে !
—শরীরে যে অংশে বমি হয়,তার বিপরীত অংশ তখন এগিয়ে আসে।কংস বেরিয়ে যাচ্ছে।কৃষ্ণ দখল নেয়।কংস হল বিষ।বিষ কোষাগারে থাকলে রাজ রাজত্ব দুই হিংস্র হবে।এর বিরুদ্ধেই তো মানব জীবন।
—আর বুদ্ধের ধ্যান ?
—বুদ্ধ তার শরীর জানতেন।তার রূপ ও গঠন। সারা শরীর মানব জীবনে পরিণত করতে বমি করেছেন।এতগুলি বছর বমি।এত বছর।বুদ্ধেরও অসুখ ছিল।যাও খোকা হিংসা মুক্ত হও।
বমি করছি।কংস বার করা কি সহজ কথা। হড়হড় করে জল বেরুচ্ছে।তারপর খাবার।কম্পন শুরু হল শরীরে।গলার শব্দে রাত টুকরো হচ্ছে। থমকে গেছে জোনাকি।চাঁদের উপর হালকা মেঘ। উড়ে উড়ে পালায়।মা যেন ধরে রেখেছেন আমায়। বাবা পিছনে।তার ভয় ভয় চোখ।
—আস্তে বমি কর খোকা।এত শব্দ করে নয়।ঘুম ভেঙে যাবে সকলের।এখনো মেয়েটার বিয়ে হয় নি।ছেলেটা বেকার।তোর মাকে রাস্তায় বেরুতে হবে।আমাকে যেতে হবে লাঙল কাঁধে।এক টুকরো জমি।জানতে পারলে সবুজ থাকবে না।
মা চিৎকার করে উঠলেন।এই প্রথম।বাবার উপর মায়ের গলা।শঙ্খ গলা।
—বমি আস্তে করবে কেন।খোকা বিষ খেয়েছে।
—বিষ খেয়েছে ?
—তাতেই তো অসুখ।খণ্ড খণ্ড হয়ে আছে খোকা।
বাবা ঝুঁকে পড়েছেন।কংস দেখবেন বলে। কংসের বিভৎস রূপ।তার মুখ।তার দাঁত।নখ তরোযাল।শকুনের মতো ছিঁড়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে যা।
—মুখে আঙুল দে।খুব জোরে জোরে।তাই দেখে যেন আমারও বমি হয়।তোর বাবার হয়।যারা দেখবে তাদেরও যেন।বমি হতে শুরু হয়।
নেতিয়ে পড়েছি।ঘরের মেঝেতে পড়ে আছি। কোথাও গাছ নেই।তবু ফুলের গন্ধ।বুঝতে পারছি সকাল আসছে।উঠানে সেই তুলসি চারা।মায়ের নিজের হাতে লাগানো।কতদিন ভয়ে জল পড়েনি। মা দিতে পারেনি।আজ ঢালতে হবে।শরীর শূন্য কংস এখন।মৃত্যু বেরিয়ে গেলে যা হয়।পায়েসে তৃপ্তি।সেই তৃপ্তিতে ঘুম।জেগে উঠছি।ক্রমশ-----
ক্রমশ আমি মুক্ত জেল থেকে।মামা কংস হতে। কংস কারাগার হতে।এবার কবি শুদ্ধ। কবিতা লিখতে হবে।কবিতা লেখার সময় হল কবি।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

আমার রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ হলেন জ্ঞান ও বোধ। তোমাদের আঁচলে কি ? কি বাঁধা আছে ? জ্ঞান ও বোধ বেঁধে রেখেছো কেন ? আঁচলে চাবি গোছা।তার সাথে রবীন্দ্রনাথ।সকল মায়ের আঁচলে বাঁধা।সন্তান ছুটতে ছুটতে চলে এল।চোখে ঘাম।মুখে ঘাম।পায়ে ধুলা।ছেলে মেয়ের পৃথক গামছা।গামছায় ছেলে মেয়ে পরিস্কার হল। মা ওদের তো রবীন্দ্রনাথ দিলে না ? রবীন্দ্রনাথ গামছায় নেই।রবী আছেন আঁচলে।

রঞ্জিত কথা - শঙ্খ ঘোষ
রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি-র সেই কথা মনে পড়ে –‘আমাদের ভিতরের এই চিত্রপটের দিকে ভালো করিয়া তাকাইবার আমাদের অবসর থাকে না। ক্ষণে ক্ষণে ইহার এক-একটা অংশের দিকে আমরা দৃষ্টিপাত করি। কিন্তু ইহার অধিকাংশই অন্ধকারে অগোচরে পড়িয়া থাকে’। সেই অন্ধকারে এঁকে রাখা ছবিগুলো যা রঞ্জিত সিংহ’র ভেতরে একান্ত ব্যক্তিগত হয়ে থেকে গিয়েছিলো, আমি সেগুলোকেই আলোয় আনতে চেয়েছি। ‘রঞ্জিতকথা’ তাই।

গাছ
চুপ করে বসে থাক আর শোন। গাছেরাও কথা বলে জানলাম কাল। সকালে হাই তোলার মত করে গাছেরাও শব্দ করে শুকনো,ভেজা পাতাগুলোকে ঝেড়ে ফ্যালে সকালের প্রথম হাওয়ায়। তারপর একটু হাত পা নাড়িয়ে ব্যায়াম করে, সকালের রোদে। শুকনো ডালগুলোর মড়মড় আওয়াজ শুনলে বুঝবি।