ব্লগ
সকল পোস্টসমূহ

রাত্রি কালীন
রোজ রাতে হৃদয় জুড়ে মৃত্যু আসে না বলা সব পূর্ণবাক্য শুধুই ভাসে। একটার পর একটা সূক্ষ্ম আলপনা। শুধু স্মৃতি, না কি বাধ্যতার জল্পনা।

কাশেম কোনও গল্প নয় কবিতা
উপেক্ষা আমাকে নৈঃশব্দ্যে নিয়ে গেছে মুখে কারণহীন হাসি চোখে আছে নির্দিষ্ট ভাষা বৃষ্টিরা নিজেরা ভেজে আমাদের ভেজায়

কিছু অলিখিত বুদবুদ
কার অঙ্গে কে যে ফুটে আছে কে যে আজ সকাম ফুলের সোনালিতা ! এই জংশনে ভালবাসার টোকেনগুলি রুহ্-রুহানির শবদেহে

কবিতা
যুবকদের যে গম-বিলাস যে হরিণগল্প স্থানান্তরের পর গোড়া খুঁজছে মালিকের মেয়ে ব্যালকনিতে বাড়ছে বেলা আসলে ওই গম ও বিলাস আর হাতেনাতে ধরা পড়ছে যুবকের দল হরিণীর গল্পে

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও বর্তমান প্রজন্ম
একটা সময় ছিল, যখন সন্ধ্যার অন্ধকার নামলেই উঠোনে জ্বলে উঠত আলো-প্রদীপ, আর মানুষের ভেতরে জ্বলে উঠত গল্পের আলো। নানি-দিদা-ঠাকুমার কণ্ঠে শোনা নীতিকথা, বাবার শাসনে লুকোনো মমতা, মায়ের চোখে নিঃশব্দ শিক্ষা- এসবই গড়ে তুলত মানুষের ভিত। আজও আলো জ্বলে, কিন্তু তা প্রদীপের নয়- মোবাইলের স্ক্রিনে; আজও শব্দ আছে, কিন্তু তা কথোপকথনের নয়- নোটিফিকেশনের। আলো বেড়েছে, অথচ অন্ধকারও গভীর হয়েছে- এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।

কবিতা
সাইকেলে যেতে যেতে লোকটা থমকে দাঁড়ায়। সামনে বিশাল লাইন— মনটা খারাপ হয়ে যায়।

কয়েকটি কবিতা
শহরের দেওয়ালে ধর্মের নাম লেখা আছে, কিন্তু অক্ষরগুলো ধোঁয়ায় গড়া— ছুঁলেই ছাই।

কিছু কবিতা
নিস্তেজ দেহ পড়ে থাকলো ঘন নিঃশ্বাস আর হৃদ-পেয়ালার স্পন্দন। আমার অগ্রজেরা কেউ থাকলেন না, একা,ঘোর কাটছে না আর। প্রাণের দহন ভুলে ভালোবাসতে পারছি না।

কবিগুরুর স্মরণে
হিয়ার মাঝে ধরী তাঁরে, কখনও বা প্রতীক্ষায়। একরাত্রি কেটে যায়– রাজপথের কথায়।।

কয়েকটি লিমেরিক
শ্যাওড়াতলার তিন রাজ্যের, ভূতের রাণী কটকটি মোটের উপর শান্ত কিনা, শুধু হঠাৎ হঠাৎ ছটফটি রাণীর ছিল একশো বাদী সবাই নাক গলাতে ওস্তাদী কাজের বেলায় ঠনঠনা ঠন, কথার বেলায় ফটফটি।

কবিগুরুর ভ্রমণ এবং একটি ব্যক্তিগত উপলব্ধি
দাঁড়িয়ে আছি। কেউ ডাকেনি। একা একাই উঠে রেডি হয়ে এসে দাঁড়িয়ে আছি। সকাল হচ্ছে চারিদিকে। আলো তার রঙ পাল্টাচ্ছে । নীলচে থেকে হলুদ হয়ে এরপর সে আস্তে আস্তে ফ্যাকাশে হয়ে যাবে।

কবিতা
পাখি জন্ম দাও। ডানা থেকে ঝরে পড়ুক অনাদি বরফের কাল। পায়ের নখরে আগলে থাকুক তুষারের হিম

কবিতা
জারজ লোকটি অতীতে যাচ্ছে; তার মা'কে ধর্ষকের হাত থেকে বাঁচাতে।

কবিতা
ভোটের আগে নিমাই কাকার শরীর গাছে ঝোলানো হলো দেদারের শিস দিয়ে চলছে মিছিল বিবর্ণ পতাকার মিহিসুর চড়াও করে সমস্ত তল্লাট আর কোন ঘুম নয় -অশান্ত জানোয়ারের ঢাল বিদ্ধ করে আছে জাতির এপিঠ- ওপিঠ আমাদের ভেতরকার লম্পট নিমাইকাকার শরীরে আঁকছে রেখাচিত্র

রবীন্দ্রনাথ রঙের দেবতা
শরীর জুড়ে যাত্রাপালা,নাচ-গান,নাটক দর্শক আমি শ্রমের বিনিময়ে মঞ্চ বলতে ঘর-বারান্দা শ্রোতা বলতে আমি ও রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ
তোমার ছবির সামনে দাঁড়ালে বুকটা গর্বে ফুলে ওঠে, মনটা ভরে যায় আনন্দে কিন্তু মাথা আপনিই নত হয়ে আসে তোমার কথা ভাবলে নিজেদের ক্ষুদ্রতা প্রকট হয়ে পড়ে। তুমি আমাদের প্রেম তুমি আমাদের মুক্তি তুমি আমাদের শান্তি

শিশির আজমের কয়েকটি কবিতা
টেবিলের পাশে জানালা জানালার পাশে শরতের উড়ু উড়ু মেঘ মেঘ ঘুরে ঘুরে বেড়ায় টেবিলে এসে বসে

পিয়াল রায়ের দুটি কবিতা
সাদা পাতায় একটা ডট মারাত্মক মারাত্মক একটা লাইন পাতা জোড়া বিষাদতোড়া বিষাদতোড়া

রবীন্দ্রনাথের 'শান্তিনিকেতন' প্রবন্ধমালা: একটি পর্যালোচনা
উনিশ শতকের শেষভাগ এবং বিশ শতকের প্রথমার্ধে বাঙালির মন ও মননে যে অভূতপূর্ব নবজাগরণের জোয়ার এসেছিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার তর্কাতীত কেন্দ্রবিন্দু। কবি, ঔপন্যাসিক, সুরকার ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় বিশ্বজোড়া হলেও, একজন নিভৃতচারী আধ্যাত্মিক সাধক এবং গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন দার্শনিক হিসেবে তাঁর যে অবিসংবাদিত রূপ রয়েছে, তার শ্রেষ্ঠ ও অন্তরঙ্গ দলিল হলো 'শান্তিনিকেতন' প্রবন্ধমালা। এটি নিছক কোনো প্রথাগত সাহিত্যিক রচনা নয়; বরং এটি হলো কবির অন্তর্জীবনের এক ধারাবাহিক ও স্বতঃস্ফূর্ত আধ্যাত্মিক দিনলিপি, যা উপনিষদের শাশ্বত প্রজ্ঞাকে আধুনিক মানবজীবনের সংকট ও সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে স্থাপন করেছে। দীর্ঘ সাধনায় রবীন্দ্রনাথের দর্শন, জীবনদৃষ্টি এবং সাহিত্যকর্মের গভীরে প্রবেশ করলে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁর সমগ্র সৃষ্টির যে বিশাল মহীরুহ, তার শেকড় প্রোথিত রয়েছে এই শান্তিনিকেতনের আধ্যাত্মিক মৃত্তিকায়।

নাফিসা মিদ্যার দুটি কবিতা
যে ভাষায় পাহাড় চোখ মেলে তাকিয়ে থাকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে যে ভাষায় জননীর গর্ভে শিশু প্রথম নাড়ীর টান চেনে যে ভাষায় নগ্ন মনের সব অন্ধকার উন্মুক্ত হয় ঈশ্বরের আগে

সম্পাদকীয়
দৃশ্য তৈরী হচ্ছে।মোমবাতির মিছিল ক্রমে পরিণত হচ্ছে বড় প্রতিবাদে।ঢেউ এসে আছড়ে পড়ছে।

শ্রীমন্ত দাসের দুটি কবিতা
একমাত্র তুমিই সেদিন বলেছিলে, এতটা শয়তান আমি কাউকে দেখিনি। আমি বলেছিলাম সত্যি!! মাসখানেক পর তোমার কথা রেখে, ফিরে এলাম যখন তুমি বললে- তুমি এতটা ভয়ঙ্কর?

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
গতজন্মের কথা মনে পড়ে বালতি থেকে জল তুলে বাবা গায়ে ঢালছেন মা দূরে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ তাকিয়ে আছে। আমি স্বপ্নে যতবার এরকম দৃশ্য আঁকি

লোকশিক্ষা প্রসারে লোকসাহিত্যের ভূমিকা
এই প্রসঙ্গে আলোচনা সূত্রে বলা প্রয়োজন যে লোকসাহিত্য কাকে বলে। ১৮৪৬ খ্রীষ্টাব্দে অ্যাথেনিয়াম পত্রিকায় এই শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন জন থমস। জার্মান শব্দ 'VOLKSKUNDE' থেকে 'FOLKLORE' শব্দটি এসেছে। যার মানে হল লোকজ্ঞান। সভ্যতার ধারাবাহিকতা হল folklore।