ব্লগ

সকল পোস্টসমূহ

কবিতারা
স্বপন রায়

কবিতারা

আলো দেখা হেরে গেল আলো জ্বালানোর কাছে   হেরো আলো আর বিজয়ী আগুন আমার সঙ্গেই থাকে মাথা কোটে মাথা কাটে

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
রহিত ঘোষালের দুটি কবিতা
রহিত ঘোষাল

রহিত ঘোষালের দুটি কবিতা

রোয়াকে রোদ্দুর, অপরিসীম বিকেল, শ্যামাঙ্গিনী আকাশ, কাঁটাজঙ্গল, ভাগচাষিদের ঘর, ঘরের ক্রন্দনধ্বনি— এই সারাংশ। কাদাজমি থেকে উঠে আসে ঘরগেরস্থি, বুকের শিলাস্তরে ফাটল ধরে— সম্পর্কের পর্বতমালা রমণ চায়, লঞ্চ চলে যায় সাঁঝবেলায় কথার হবিষ্যি আর ছাড়পত্র নিয়ে,

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
ঘুড়ি কেটে গেলে
প্রাণজি বসাক

ঘুড়ি কেটে গেলে

কতটা দূরে গেলে তাকে বিচ্ছেদ বলি আবহমান কাল থেকে খসে বৈচিত্র্য শহর নামক খাঁচায় গচ্ছিত জীবনে শুধু দৌড়ঝাঁপ এদিক থেকে ওদিকে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে রহস্যময় ঘনঘটা মেঘ

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
স্পর্শময়ী
আশরফ চঞ্চল

স্পর্শময়ী

তুমি এসে আচানক স্পর্শ দিলে ঠোঁট প্রদেশে, দেহ মানচিত্রের অলিতে-গলিতে...! তারপর ঝড় বইলো পা থেকে মাথা অবধি। প্রতিটি রোমকূপের গোড়ায়, শিরা-উপশিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্পর্শের নান্দনিক ছোঁয়ায় যেন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল অদাহ্য আগুনের লেলিহান শিখা পিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে লবণ সমুদ্রে ডুব দিলাম... ডুব দিতেই থাকলাম... দিতেই থাকলাম!

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
সুজাতা
ভবেশ বসু

সুজাতা

শুধু আমাকেই বলা হল কথা বলতে শুধু আমাকেই বলা হয় লোনা জলে স্নান করে এসো আমারই কপালে সিঁদুর গলায় মালা,কাপালিকের কাছে যাও দেবতার পূজা আমারই অধিকার,শব্দ ধূপ ধূনা নিয়ে বসো

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
শবমুখ এমন
শিশির আজম

শবমুখ এমন

শবমুখ আমার দিকে এমন তাকিয়েছিল শোকযাত্রার মাঝখানে যে তৎক্ষণাৎ প্রতিদ্বন্দ্বীতার উচ্চকিত খেলায় না নেমে বাড়ি ফিরে এলাম আমি। বাড়ি না ফিরে কী করা যেত? মেঠোপথে ঘাস, শিশিরভেজা, জড়ানো আলোর তন্তুজালে।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
দুটি কবিতা
জারিফ আলম

দুটি কবিতা

দুপুরের বিপরীত মেঘের হুইসেল বেজেছে আজ  স্মৃতি জমেছে—পাখি ও প্রার্থনার মতো। নিঃসঙ্গ কেবিন আর শাদা আলোর ভেতরে নিয়তির অন্ধকার ঘন হয়ে এলো আরও কোথাও জীবন অবমাননা করেছে নিজেকে।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
জিকির
আলিউজ্জামান মুদ্রা

জিকির

জানালার মুঠি থেকে জানালার ফুল খসে পড়ে এখন সকলের আলোয় রোজা মুখে বসে থাকি। সরকারি পাখিদের গান শুনি পুতুলের নিয়ন্ত্রিত খেলা শেষে—

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
অপরাহ্নের পর
সাম্য রাইয়ান

অপরাহ্নের পর

কিছু দুপুর আছে, বিকেলের আগেই শেষ হয়ে যায়। জানালার পাশে বসে টের পাই। রোদটা ধীরে ধীরে দেয়াল বেয়ে ওঠে, তারপর হারিয়ে যায়। ওই সময় কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না। বই খুলে বসি, দুই পৃষ্ঠা পড়ি, তারপর খেয়াল করি দশ মিনিট ধরে একই লাইনের দিকে তাকায়ে আছি। শব্দগুলো চোখে ঢুকছে, মাথায় ঢুকছে না। অভিমান করেছে ভাষা। অমন সময় শহরের পুরনো জায়গাগুলাতে ফিরতে ভাল লাগে। নতুন ক্যাফে, নতুন রেস্টুরেন্ট, নতুন সাজসজ্জা খুব একটা টানে না। সেই চায়ের দোকানে যাই, যার বেঞ্চিটার একপাশ একটু নিচু। সেই বইয়ের দোকানে ঢুকি, যেখানে মালিক এখনো প্রতিবার জিজ্ঞেস করে, নতুন কবিতার বই লাগবে?

গদ্য২৭ জুলাই, ২০২৬
আমাদের যুদ্ধ জারি থাকবে
পিয়াল রায়

আমাদের যুদ্ধ জারি থাকবে

আগুন আগুন আগুন জ্বলছে আমাদের বুকে-পেটে-মাথায় শ্রাবণের ফোঁটাগুলো যেন এক একটা পেরেক অন্ধ করে দিচ্ছে আমাদের চোখ আমাদের স্বপ্নগুলোকে খোরাক বানিয়ে হাসাহাসি করছে

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
অস্তরাগ
অমিত দে

অস্তরাগ

আকাশে ফুলকি ছোটে উপাসনা গৃহে কান পাতে দু’টি বুড়ো কাক সেদিনও যে রাস্তা চলেছে নদীর গানে সেখানে ঢেলে গেছে কেউ ধুলো ভরা ফুসফুসের অস্তরাগ

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
ভিনদেশী তারা (পর্ব-১)
মন্দিরা পাল

ভিনদেশী তারা (পর্ব-১)

জল গড়িয়ে পড়ছে নরম গাল বেয়ে, ছলাৎ ছলাৎ পাড় ভাঙার একটানা লয় বর্ষার উচ্ছ্বল নদীর গর্জনে মিশে যাচ্ছে ; কাজল কালো আসমানী চোখ বেয়ে শ্রাবণধারায় বুক ভিজছে । তৃষার খেয়াল নেই কখন আকাশের পশ্চিম কোণ কালো হয়ে গেছে ।

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৫ জুলাই, ২০২৬
সবুজ শ্যাওলা
রহিত ঘোষাল

সবুজ শ্যাওলা

বিভাস মূর্খ, পকেটে টাকাপয়সা আছে, জামাটা ইস্ত্রি করা হয়নি, জামার কোথাও কোথাও হলুদ ছোপ ছোপ, তরকারি মেখে ওই অবস্থা হয়েছে হয়তো, হাফপ্যান্ট এবং একটি হাওয়াই চটি, গ্রীষ্মের সকাল সাড়ে দশটার সময় একটি মিষ্টির দোকানের বেঞ্চের উপর বসে আছে। কয়েকটা মাছি ছাড়া এই মুহূর্তে মিষ্টির দোকানটায় কেউ ঢুকছে না, আবার বেরোচ্ছেও না।

সাপ্তাহিক লেখালেখি১৮ জুলাই, ২০২৬
নিজের ঠিকানা কিছু নাই
গোবিন্দ মোদক

নিজের ঠিকানা কিছু নাই

নিজের ঠিকানা খোঁজা জন্ম থেকেই শুরু আজীবন চলে সেই খোঁজা – কতো আসে কতো যায় জন্ম মৃত্যু ‘কাল’ পায় বয়ে চলা কতো শত বোঝা!

সাপ্তাহিক লেখালেখি১১ জুলাই, ২০২৬
ব্রাত্য ঈশ্বর ও সৃষ্টির সংলাপ
এম এ ওয়াহিদ

ব্রাত্য ঈশ্বর ও সৃষ্টির সংলাপ

মানুষ শূন্য পৃথিবীর পায়ুপথে একটা আপেল গাছ রোপন করার পর আমি সোজা হাঁটা ধরলাম নরকের দিকে। পথে দেখা হলো ক্রশবিদ্ধ যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে। পথে দেখা হলো নূহের পুত্র কেনানে'র সঙ্গে। প্রত্যেকে তাঁদের নিজের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

সাপ্তাহিক লেখালেখি৪ জুলাই, ২০২৬
ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (অন্তিম পর্ব)

সকালের প্রথমার্ধের রোদের মনোরম উষ্ণতার আবেশ শরীরে - মননে মেখে ছন্দে ছন্দে চলি আনন্দে। লাল তেকোনা ছাদবিশিষ্ট একাকী ছোট্ট বাড়িটার মাথার ওপর খাটানো নীল বিনি পয়সার তাঁবু আর তার পাশেই অতিক্ষুদ্র জলাশয়ে নীল আকাশের ছায়াকে উদ্বেলিত করে স্তব্ধতার গান। আনমনা মন এড়াতে পারেনা থুরি এড়াতে চায়না টুমলুর মায়াবী আকর্ষণ। "ভালবাসি বিশ্বের সুষমার ছবিটি"

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৭ জুন, ২০২৬
ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব দুই)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব দুই)

গাড়িটা অনুভূমিক হতেই একসঙ্গে সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। আজ কি পূর্ণিমা নাকি ? কই তেমন তো শুনিনি। সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যানের ফলকটা স্পষ্ট পড়া যাচ্ছে এই নিশীথে। স্মৃতির অ্যালবামের সাথে যে কোনো মিলই নেই। নিঃসন্দেহে আমরা পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ স্থানে আরোহন করেছি - তবে হঠাৎ এত আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এরই নাম উন্নয়ন - প্রকৃতি-মা-এর সৌন্দর্যায়ন হয়েছে আধুনিকতার লম্ফ জ্বেলে। বোঝো ঠেলা এক শহর থেকে নিষ্কৃতি পেতে এলেম কিনা আরেক শহরে!

সাপ্তাহিক লেখালেখি২০ জুন, ২০২৬
ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)
সুরজিৎ ব্যানার্জি

ফালুটে বিড়ম্বনা (পর্ব এক)

কদিনের মধ্যেই গোয়েচালা যাব ঠিক হয়েই আছে- এরইমধ্যে একদিন বাড়ি ফিরতেই মা বলল, " সান্দাকফু যাবি নাকি?" মুখে বললাম, "আআআবাআআর", কিন্তু মনে মনে তো, "স্যাকটা তাহলে গুছিয়ে ফেলি।"

সাপ্তাহিক লেখালেখি১৩ জুন, ২০২৬
অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
অর্ঘ্য রায় চৌধুরী

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা

সমস্ত উৎসব ফুরিয়ে গেছে বলেই সন্ধ্যা নেমে এল মেঠো পথ, বহুদূরে গাছেদের সারি বিকেলের আলোটুকু ম্লান এখন কোথায় যেতে পারো তুমি? অন্ধকারে হাতড়ে বেরিয়েছো চেনা পথ পুরোনো দরজায় কড়া নেড়ে দেখেছো বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত চিঠিদের চোখ এখন এক চোরাবালি জেগে উঠেছে ধূ ধূ চর, ওইপারে নিঃঝুম গ্রাম এইখান থেকে আজ ফিরে যেতে পারো।

সাপ্তাহিক লেখালেখি৬ জুন, ২০২৬
ভীড় ভেঙে গেছে
নিমাই মন্ডল

ভীড় ভেঙে গেছে

ভীড় ভেঙে গেছে, আজ আর সেই ভীড় নেই। ময়দান শুধু থাকে থাকে ভরেছে শূন্যতা, আনাচে কানাচে থাবা মারছে বিষন্নতা, সবাই উত্তম বোঝেগেছে; লাভ নেই , শুধুই ফাও।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
অনিমেষ বসাক

অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা

সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে, নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে। অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে, হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
যে মানুষ হারিয়ে গেছে
ওয়াহিদার হোসেন

যে মানুষ হারিয়ে গেছে

যে মানুষ হারিয়ে গেছে তাকে খুঁজে আনা যায় বার্তালাপ করা যায় এমন স্মৃতির সঙ্গে জঙ্গলের ভেতর হরিণের মতো লাফিয়ে আসা জুম শটে

কবিতা৮ মে, ২০২৬
অমৃত সন্ধানী
বলরাম হালদার

অমৃত সন্ধানী

মহা ঋষি সেজে রবি সম তেজে ওড়ালে বিজয় ধ্বজা, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে নিজে মনে প্রাণে মানবে করেছো পূজা।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
শোকসভা
শৌভিক দত্ত

শোকসভা

মুঠো ছুরি খুলছে। পর্দার নানা ব্যবহার। ততো স্বচ্ছ নয় জেনে শিকারীরা ক্ষমা থামিয়ে দেয়। এক লুপ্তপ্রায় গান তোমায় আগুন চেনায়। উঠোনরঙা চাঁদ আকাশে অথচ তোমার কোনও স্বেচ্চাসেবক নেই।

কবিতা৮ মে, ২০২৬