৮ মে, ২০২৬
অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা

কৃত্রিমতার কৃষ্ণগহ্বর

 

সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে,

নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে।

অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে,

হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

 

মুখের হাসি আঁকা থাকে অভ্যাসের আড়ালে,

অভিমান জমে থাকে অজানা কৃষ্ণগহ্বরে।

শব্দগুলো পথ হারায় মনের গোপন দ্বারে,

নিঃসঙ্গতা সঙ্গী হয়—ভিড়ের মাঝেই নীরবে।

 

__________

 

 

মাটির নীরব রূপান্তর

 

মাটির ডেলা থেকে সুগঠিত পাত্র—এ যেন জন্ম থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার এক দীর্ঘ যাত্রা। জীবনের ঘূর্ণন শুরু হয় কোমল বয়স থেকেই, আর সেই ঘূর্ণনের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সত্তা। অন্তর ও বাইরের চাপ—উভয়ই এখানে অনিবার্য; কারণ এই চাপই রূপ দেয়, সংহতি আনে।

 

সচলতাই জীবন—নিরবচ্ছিন্ন ঘূর্ণন তারই প্রকাশ। পরিবর্তন ছাড়া সুগঠন অসম্ভব; পরিবর্তনই উন্নতির একমাত্র সোপান। কিন্তু এই পরিবর্তনকে স্থায়ী রূপ দিতে প্রয়োজন এক ধরনের কাঠিন্য।

 

এই কাঠিন্য সহজে আসে না। আগুনে পুড়ে, তাপে দগ্ধ হয়ে, রন্ধে রন্ধে কোমলতা বাষ্পীভূত হয়; আর সেই কঠোর পরীক্ষার মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় এক সুগঠিত, সুপ্রতিষ্ঠিত সত্তা।

 

 

_________

 

এক চিলতে মেঘের স্বপ্ন

 

আমার এক চিলতে মেঘ কেনার খুব শখ।

সযত্নে রাখতাম তাকে—সাদা, নরম, স্নিগ্ধ মেঘটিকে।

কখনো তার পিঠে চড়িয়ে দিতাম আমার মনকে,

সে উড়ে বেড়াত দেশ-দেশান্তর,

সমুদ্র পেরিয়ে, আকাশ ছুঁয়ে।

 

এখন তো মাটিতে চলতে গেলেই

মনের আর প্রয়োজন হয় না—

মন যেন ধীরে ধীরে লুপ্তপ্রায় হয়ে উঠছে।

 

তাই ভাবি, বুকের খাঁচায় বেঁধে রেখে আর কী লাভ?

মুক্ত করে দিই তাকে—

আনন্দে ঘুরে বেড়াক,

চিনে নিক এই বিস্তীর্ণ পৃথিবীকে।

 

“মন ভালো থাকলে পৃথিবীও সুন্দর হয়ে ওঠে—

আর মন যদি মুক্ত থাকে, পৃথিবী নিজেই হয়ে ওঠে তার ঘর।”

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।