ব্লগ
সকল পোস্টসমূহ

কয়েকটি কবিতা
ডিনার *** টলতে টলতে দরজায় কড়া নাড়ে পুরুষ। ড্রয়িংরুমে খিস্তির ঢেউ।

আত্মপ্রজ্ঞার প্রহর
আমাদের জীবন রাস্তায় সারি বাঁধা লাইটপোস্টের মতন—কখনো বোধগম্যতার আলোকে উদ্ভাসিত সুস্পষ্ট জীবনপথ, আবার কখনো দুই আলোর মধ্যবর্তী এক অনিশ্চিত অন্ধকার; যেখানে পথ হারানোর ভয় আর নিজের অস্তিত্বের মুখোমুখি দাঁড়াবার নীরব স্তব্ধতা।

ক্ষয়
মাটি ক্ষয়ে যায় শরীর হয়ে খসে পড়ে তেজপাতা গাছেদের ছাল

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং স্কুলে স্মোকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ হঠাৎ ঠান্ডা লাগছিল। লুঙ্গি পরে সে শুয়েছিল। যখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়লো দেখে সাফিনা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা গুটিসুটি হয়ে আছে। তার গায়ে হালকা করে আলনায় রাখা একটা বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। চাদরটাকে ঘুমের ঘোরের জড়িয়ে ধরে সাফিনা। আহা বেচারা। অনেক কষ্ট হয় এই মেয়েটাকে দেখে সঙ্গে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে নিজের ওপরেই করুণা আসে। কী ছিল সে। কী হল? দুরন্ত ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৩)
শীত শেষ হয়ে আসছে। রাঙ্গালীবাজনা ঢোকার মুখের রাস্তাগুলো পলাশ ফুলে ভরে গেছে। অথচ ঠান্ডাই। আজ রবিবার। তাই আজকে তেমন তাড়া ছিলনা মোনালিসার। কাওসার এসেই গাড়ি ঘ্যাঁ করে ব্রেক কষলো। একহাতে হেলমেট নিয়ে ঢুকতে গিয়ে টেবিলের ওপর কাগজটাতে চোখ পড়লো। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন মেম্বার মোনালিসার দলবদল। সিপিএম থেকে তৃণমুলে দলবদলের খবর। মুখটা ঝুলে গেল কাওসারের। এরা খবর পায় কি করে?

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ ২)
মইদুল সারারাত এপাশ ওপাশ করেছে। রাতে মনে হয়েছিল প্রেসার বেড়েছে। হাইপ্রেসার আছে ওর বাবারও। বাড়ি থেকে দূরে আছে বলে মাঝেমধ্যে প্রেসার চেকও করে। কিছুদিন আগে ডাক্তার দেখানোও হয়েছে। এখন হঠাৎ প্রেসার বাড়ছে। আবার হয়তো ওষুধ চালু করতে হবে। এক বোতল জল রাখা থাকে বিছানার পাশে।সে জল খায়।জলের বোতল রাখে।লাইট জ্বালায়। চপ্পল পরে বাথরুমে ঢোকে। পায়খানা চাপ দিচ্ছে। আবার বেরিয়ে এসে সিগারেট লাইটার নেয়। সিগারেট ধরিয়ে বাথরুমে ঢুকে বসে পড়ে।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ -১)
সুবীরেশ সেন। কবি। সদ্য নর্থবেঙ্গল এসেছে। এখানেই শহীদুলের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা। শহীদুল বিএ পাশ ছেলে। রিসেন্টলি গাড়ি নিয়েছে।ট্যুরিস্টদের ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে বিন্দু ঝালং লাভা এবং পরেরদিন রিশপ পৌঁছে দেবে। মালবাজার স্টেশনে নেমে বাসে করে চালসা এসেছে সে। এখান থেকে শহীদুল তাকে পিক করবে। জলপাইগুড়ি থেকে আসার কথা ইউনিভার্সিটির পুরোনো বন্ধু দেবত্তোম এর। এবারে সুবীরেশ এর কলিগ জহির রায়হানের আসার কথা ছিলো। ইচ্ছে ছিলো জহির নিজের মতো ঘুরবে। অথচ শেষ সময়ে ওর মেয়ের জ্বর বমি থাকায় কলিগ আসতে পারেনি। দেবোত্তমকেই কোম্পানি দিতে হবে। সুবীরেশ সেন দক্ষিণ বঙ্গে একটি কলেজে বেশ কিছুদিন হল জয়েন করেছেন ক্লার্ক হিসেবে।

আবীরলাল মন্ডলের দুটি কবিতা
মোবাইলটা ছুঁড়ে ফেলার মতো মাঝেমাঝেই মনে হয়, কয়েকটা সাজানো গোছানো নিয়ম ভেঙে ফেলি, সারাদিন যে মনুষ্যত্বের মুখোশ পরে ছদ্মবেশে থাকি সেটা খুলে রাস্তার ধুলোয় ফেলে দিই। যাদের কথায় মাথা নত করে পা চাটি, তাদের চোখে চোখ রেখে বলি, আজ আর মানছি না।

অর্ঘ্য রায় চৌধুরীর দুটি কবিতা
যে সম্পর্ক মুছে গেছে, সেখানে ফিরি না আর কী হবে সে'সব কথা ভেবে? নতুন বাসার দিকে উড়ে গেছে পাখি শূন্য শিশিতে যেন সুগন্ধটুকু লেগে আছে

ভিনদেশী তারা - অন্তিম পর্ব
তৃষার বাড়ি থেকে ফেরার পর ধ্রুব গ্রামের ঘাটে গিয়ে বসে রইলো অনেকক্ষণ।পদ্মা যেন আরো ফুঁসে উঠেছে , ঘোলা জলের ঢেউ ভাঙতে ভাঙতে বয়ে চলেছে, ভাবটা যেন তাকে আটকায় কার সাধ্য।পৃথিবীর সব কিছুই পরিবর্তনশীল, এই চক্র ছকে প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হয়।প্রকৃতির নিয়মেই ভালোলাগা ,আবেগ তৈরি হয়। কাওকে না দেখলে নিজের বুকের ভেতরটা অন্ধকার খনির গুহার রূপ নেয় সেখানে চেনা গলার স্বর পাথরের দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বেড়ায়।ধ্রুবর মনের ভেতরে প্রবল আলোড়নে সবকিছু দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে ।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-৫)
ধ্রুব দরজার সামনে গিয়ে দেখলো ও. সি. চেয়ারের পেছনে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে বুকের উপর হাত দুটো জড়ো করে বসে প্রায় তন্দ্রাচ্ছন্ন।ধ্রুব আশ্চর্য হলনা মোটেও সে বিরক্ত হল খানিকটা কারণএই মফস্বল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে অনৈতিক কাজকর্ম ঘটে চলেছে আর এদের কোনো হেলদোল নেই ।ধ্রুব দরজায় টোকা দিলো।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-৪)
প্রায় দু সপ্তাহ কেটে গেছে আখরিগঞ্জ থেকে ফেরার পর। ম্যাডাম এর সাথে আলোচনা হয়েছে।এরমধ্যে ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে আখরিগঞ্জ এর ও. সি এর সাথে । মিডিয়ার সাথেও কথা বলেছে , পেপারে অনেক লেখালেখি হয়েছে। প্রশাসন এর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে সব দিক থেকে । ধরা না পড়লেও বর্ডার এলাকায় পাহারা শক্ত হবে এবং পুলিশ নজরদারি বাড়বে ।

ভিনদেশী তারা পর্ব-৩
পদ্মার বুকে জেলে মাঝিদের নৌকোগুলো দুলছে ,টিমটিম বিন্দু বিন্দু নৌকোর আলোগুলি গুঁড়ো বৃষ্টি আর ঠান্ডা হওয়ায় দোদুল্যমান।এই সময় রূপোলি মাছ পদ্মার বুকে চলে ফিরে বেড়ায়, সারা বছর জেলে মাঝিরা এই ইলিশ এর মরসুমের জন্য মুখিয়ে থাকে।গাঢ় আঁশটে গন্ধ বাতাসময়। দুজনে বালির চরের উপর দিয়ে হেঁটে চলেছে ,অন্ধকারে চোখ সয়ে এসেছে ।

ভিনদেশী তারা (পর্ব-২)
ঘাটে যখন নৌকা পৌঁছলো তখন সন্ধ্যে ৬টা বেজে গেছে ! চারিদিকে অন্ধকার , বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছিলো অনেক আগে কিন্তু এখন বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

শৌভিক দত্তের ৪টি কবিতা
ডালপালা কেটে যাওয়ার পর অখণ্ডতা আমার পরোয়া করে না। কোথাও দশদিক নেই। হাতের বালকে অরণ্য ফুরিয়ে আসে। এই অশক্ত শীতে ভুলে যাওয়া কোনও ডুবোজাহাজ খুলে সম্মোহণগন বেরিয়ে এসেছে। পদাতিক গণিতে রাখা ভীড়ের ছররা কিছু। পতাকাগলিতে।

শ্রাবণের কাব্য-ধারা
বর্ষার লাবণ্যময় পরিবেশে কবিহৃদয় উদ্বেল হয়ে উঠেছে যুগে-যুগে। মায়াময় অলকাপুরীতে কবিমন বারবার ছুটে গেছে। কালিদাস তাঁর ‘মেঘদূতে’ পর্বতের ওপারে নির্বাসিত শূন্য ও একাকী জীবনে ‘মেঘ’কে দূত করে পাঠিয়েছেন প্রিয়ার কাছে। 'ও মেঘ, জানি আমি জাতকপত্রিকা, ভুবনবিখ্যাত পুষ্কর তোমার নাম জানি তোমার গুণপনা ইচ্ছামতো পারো উড়িতে প্রধান ইন্দ্রের ও মেঘ, প্রিয়া দূরে, তোমার কাছে তাই প্রার্থী- ক্ষতি কী গুণবানে বিফল হই যদি, অধমে গ্লানিময় যাচ্ঞা।' - মেঘদূত (পূর্বমেঘ), অনুবাদ- শক্তি চট্টোপাধ্যায়।

সমরজিৎ সিংহের কয়েকটি কবিতা
পড়বে না আমার কবিতা ? তাতে কিছু হবে ? কথা ছিল আমার লেখার । ভাবিনি, পড়বে ।

আত্মমৈথুনিক স্বভাবে
অথচ এই ঘনানো অন্ধকার হয়তোবা থেকে যাবে রয়েছে তো সুদীর্ঘকাল ফুল হয়ে হয়তোবা গেলাসের জলে স্ফূর্তি ও সঙ্গম বিলাপের বন্দিশ আরবার

চারটি কবিতা
ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছি বন, একটা টলটলে পুকুর, আর তিনটা হাঁস। শৈশবে আমি ভাবতাম একটা প্রজাপতির ভেতর হলুদ ডানার বিস্তার ছাড়া আর কিছু নেই। ভাবতাম প্রজাপতির জন্ম রাইখেতে। এখনো তাইই ভাবি। প্রজাপতি মন্ত্র পড়বার পর একবার মনে হল ভুলে যাই শৈশব। কিন্তু মানুষ এমনই বিপন্ন প্রাণী, শৈশব ছাড়া সবকিছুই ভুলে যায়। যাদের অ্যালঝাইমার হয় তাদেরও শৈশব মনে থাকে শেষের আগ পর্যন্ত। আর যখন শৈশবও ভুলে যায় তখন তারা শিশু হয়ে যায়। আর ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে বুড়ো আঙুলের নখ, যদি নখের আয়নায় আলো লেগে দৃশ্যমান হয় ফুরিয়ে যাওয়া জীবনের ঘ্রাণ।

শাশ্বত ভট্টাচার্য্যের কয়েকটি কবিতা
স্টেশন পাড়ার মোড়ে ট্রেন থেকে দেখতে দেখতে জাম রঙের সন্ধ্যা দক্ষিণের দুয়ারে নেমে এলে , পাঁচটি চিল মেঘ হয়ে যায় দুয়ারে সারমেয়টা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাই তুলছে, তুমি এলে উষ্ণতা পাবে খড়কুটো....

আমেনা দুধেরও বাছা
তরমুজ ব্যবসায়ী হারুনের সাথে যখন আমেনার বিয়ে হয়, সেই বছরের মাঘ মাসের শীতে আলেয়ার আলো খুব দেখা যাচ্ছিল। দূরে তাল,নিম আর শিরিষগাছের ফাঁক দিয়ে আলেয়ার আলো নিভু নিভু—কেঁপে কেঁপে সম্ভ্রমে লজ্জায় হেঁটে উধাও হয়ে যেত। মনে হত কেউ মধ্যরাতে চার্জহীন টর্চ লাইটটাকে থাপড়াতে থাপড়াতে ; পেটের ভুটভাট অত্যাচার থামাতে পায়খানার দিকে যাচ্ছে।

গো বি ন্দ চ ক্র ব র্তী র কয়েকটি কবিতা
আমার মেয়ে নীল প্রজাপতির পাখায় এঁকে দেয় একটি সকাল

জীবনের আসল পরিচয়
যখন ভেঙে পড়ে ভাগ্যের সব আশ্রয়, তখন মেলে জীবনের আসল পরিচয়। অবলম্বন সকলই হয়ে পড়ে শিথিল, অভিমানের কৃষ্ণগহ্বরে সম্পর্ক হয় বিলীন।

নুরুল হাসানের দুটি কবিতা
তুমি ভালোবাসলে কি ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত? তুমি ভালোবাসলে কি ধার্মিকরা হঠাৎ করে মানুষ হয়ে যেত? তুমি ভালোবাসলে কি বন্ধ হয়ে যেত শাসকের শোষণ-প্রবৃত্তি? তুমি ভালোবাসলে কি বন্ধ হয়ে যেত পাহাড়-জঙ্গল চুরি? জানি না! তুমি ভালোবাসলে কী হত।