২৭ জুলাই, ২০২৬
সমরজিৎ সিংহের কয়েকটি কবিতা
সমরজিৎ সিংহের কয়েকটি কবিতা
ইহকথা

 
পড়বে না আমার কবিতা ?
তাতে কিছু হবে ?
কথা ছিল আমার লেখার ।
ভাবিনি, পড়বে ।

ছাইপাশ এই সব লেখা 
মিশবে ধুলোয় ।
এই সত্য জানি, বলে, লিখি 
শক্তি যা কুলোয় ।

প্রকাশক নমস্য বহুৎ,
ধন্য হোক তারা ।
পুরস্কৃত হোক সব গ্রন্থ ।
লেখা সর্বহারা,

জানি, বলে, অনুশোচনীয়
পথ রাখি দূরে ।
একা থাকি, মরব একাকী 
ইহজন্ম ঘুরে ।

_________

 
নিয়তি 

 
ক্রমে সে সুন্দরী হয়ে ওঠে 
আমার আক্রোশে ।

এ পর্যন্ত ঠিক ছিল সব ।
কিন্তু তার রূপ
আগুন ধরিয়ে দেয় কেন 
অমিয় বিশ্বাসে ?

ছারখার হয়ে গেলে সব
পড়ে থাকে ছাই ।
ফিনিক্স সে আমি নই,
ডানা মেলে দেব !

আগুন জ্বলছে, দেখে, সেও
ঝাঁপ দিল কেন ?
বিধি ছিল অন্ধ, লিখে দিল
এমন নিয়তি !

_____________

 
অঘোরবিলাসী

 
আমার সামান্য বিদ্যা, বলেছিল ঘোর সন্ন্যাসিনী ।
আমার হাতের রেখা মুছে যাবে, বলেছিল দুপুরের নদী ।

গোধূলি পেরিয়ে এসে, দেখি, বিদ্যা চলে গেছে পরপুরুষের
হাত ধরে । মুছে গেছে হাতের রেখাটি,
সেখানে আগুন ফুল ফুটে আছে জবার অক্ষরে ।

দুপুরের নদীটিকে দেখি, সন্ধ্যার আকাশে, একা,
জপে যাচ্ছে দ্বাদশঅক্ষর । পাশে, ঘোর সন্ন্যাসিনী ।

দুজনেই সমকামী, দুজনেই চেয়েছে আমাকে ।
আমি তা পছন্দ করি না, বলেছি, আমিও পুরুষ !

তন্ত্রহীন, মূর্খ, এক অঘোরবিলাসী !

_______________

 
গতজন্ম

 
অন্ধটির হাত নেই,  আর সে মূলত
খঞ্জ ও বধির ।  তবে বোবা নয়,  বলে,
গান গাইছে চাতালে বসে ।
সে গানের সুরে উল্কাপাত হল আজ ।
ধ্রুবতারা দিক ভুলে এসেছে দক্ষিণে,
তার সঙ্গে সপ্তর্ষিমণ্ডল ।
জোয়ারভাটার কথা ভুলে বাবুঘাটে
গঙ্গা উঠে এসেছে অন্ধের কাছে, তাকে
দেখে, মনে হল, শ্রোতা নয়,
সে, আসলে, মেছো পাড়ার বিধবা বৌদি।

দূরে বসে, এক বাউল গায়িকা
গলা সাধছিল একা একা । 
অন্ধগীতিপ্রণয়ের মত গায়িকার
দেহ থেকে, ঐ সুরের টানে
ঝরে পড়ছিল লালা, থুথু, ক্লেদ সহ
তার গতজন্ম ।

________

 
তৎ

 
কে যেন নিজের হাতে মুছে দিচ্ছে লেখা । 
লেখার বদলে রেখে দিচ্ছে এক চকচকে ছুরি ।
জানালাটা বন্ধ করে দিল ।
কেউ নেই ঘরে । লিখতে বসেছি । আর এই দৃশ্য ! 

কি হতে পারে, ভাবছি । লেখার টেবিলে 
খুন ? কে করতে পারে এই কাজ ? দেখছি না তাকে  ।
দেখি, ছুরি এগিয়ে আসছে ।
শরীরে, না, ব্রেনের ভেতর বয়ে যাচ্ছে ঠাণ্ডা স্রোত ।

মনে পড়ে গেল, 
লেখক নিহত হলে লেখা বেঁচে যায় !

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।