১৫ আগস্ট, ২০২৬
ভিনদেশী তারা (পর্ব-৪)
ভিনদেশী তারা (পর্ব-৪)

//পর্ব চার//

প্রায় দু সপ্তাহ কেটে গেছে আখরিগঞ্জ থেকে ফেরার পর। ম্যাডাম এর সাথে আলোচনা হয়েছে।এরমধ্যে ফোন এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেছে আখরিগঞ্জ এর ও. সি এর সাথে । মিডিয়ার সাথেও কথা বলেছে , পেপারে অনেক লেখালেখি হয়েছে। প্রশাসন এর উপর চাপ সৃষ্টি করেছে সব দিক থেকে । ধরা না পড়লেও বর্ডার এলাকায় পাহারা শক্ত হবে এবং পুলিশ নজরদারি বাড়বে ।আশাকরি এসবের জন্য দলগুলি কিছুটা হলেও পিছপা হবে।এসব কাজ ও চাকরী দুটো সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলো ধ্রুব।অফিসের কলিগরা বেড়াতে যাবে পূজোর ছুটিতে ,সেই গল্প গুজব চলছে অফিসে।অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার রণদার একটা ট্যুর ইউনিট আছে ।এবার পুজোতে গ্যাংটক যাচ্ছে ,তাকে বার বার জোর করছে যাওয়ার জন্য ।আসলে রণদা তাকে খুব স্নেহ করেন।পূজো প্রায় চলে এলো ,কেউ কেউ ফ্যামিলি নিয়ে পূজোর মার্কেটিং এ ব্যস্ত ।বাড়িতেও জেঠিমা , কাকিমা ব্যস্ত পূজো শপিং এ।বড়দা বম্বে থেকে ছেলে , বউ নিয়ে আসবে তাই জেঠিমার উৎসাহ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে ।রিমিও দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে গৌহাটি থেকে বাড়ি আসবে তাই কাকিমার আনন্দের সীমা নেই । 

সে এখনও জয়েন্ট ফ্যামিলিতেই থাকে। সতেরো বছর আগে বাবা ,মা কার অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাবার পর ত্রিশ বছর বয়সী ধ্রুবর এটাই স্থায়ী ঠিকানা। তার বাবার ভাগের অংশটি তিন তলায় ।সামনে বারান্দা থেকে দিগন্ত বিস্তৃত নীল আকাশ দেখা যায় ।আকাশী নীল রঙটা তার খুব প্রিয়।মনের ক্যানভাস জুড়ে যেন শুধুই আকাশ। এই বাড়ির প্রতিটি কোণায় তার শৈশব, কৈশোর লেগে আছে , লেপ্টে আছে মা, বাবার স্মৃতি।তাছাড়াও পিতৃতুল্য জেঠু বাবা ,মা এর অভাব বুঝতে দেয়নি কোনোদিন তাই এই বাড়ি তার প্রাণ ভ্রমরা।

রাত্রি বারোটা বাজে। দোতলার পুরোনো আমলের দেওয়াল ঘড়িটা নিস্তব্ধ রাত্রির বুক চিরে ঢং ঢং শব্দে জানান দিলো।

ধ্রুব বারান্দার ইজি চেয়ারটায় বসে ভাবছিলো এবার পুজো টা একটু অন্যরকমভাবে কাটাবে । বেড়াতে গেলে মন্দ হয়না , একটু ব্রেক দরকার । শুধু কাজ আর কাজ , কাজের কথায় মনে পড়লো গ্রামের মানুষের সাথে কথা বলা উচিৎ, আর গ্রামের পুলিশ থানা গুলোতে একবার যেতে হবে । আখরিগঞ্জ এর ও.সি. লোক লাগিয়েছেন দল টার গতিবিধির খবর আনতে।এসব এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে লাভ নেই , কোথায় যেন ওরা উধাও হয়ে যায় । পুলিশ প্রশাসন এর নাকের ডগা দিয়ে এই দলগুলি গ্রামের মানুষের দারিদ্রতার সুযোগ নিচ্ছে। পলিটিক্যাল লেবেলের লোক জড়িত আছে সন্দেহ হচ্ছে তার ।ম্যাডাম আর বেশী ঘাঁটাতে চাইছেন না ,ওনার পলিটিক্যাল লেবেলে পরিচয় আছে,সেখানের কোনো সোর্স থেকে খবর পেয়েছেন।কিছুটা সে আঁচ করতে পেরেছে ।ধ্রুবকে আখরিগঞ্জ যেতে বারণ করেছেন কলকাতা থেকে উনি না ফেরা পর্যন্ত কিন্তু সে যাবে। এভাবে মাঝপথে পিছিয়ে আসবে না সে।এর আগেও তো অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছে,সময়মত পুলিশের সাহায্য পেয়েছে, উপরমহলে কলকাঠি নেড়ে ম্যাডাম ঠিক ব্যবস্থা করে নেন ।এবারের ব্যাপারটা ছোটখাটো নয় এটুকু সে বুঝেছে তবুও তার মন যেতে চাইছে হয়তো কিছুটা অন্য টানে। নিজের মনের কাছে ধরা পড়ে গেছে।

কাল অফিসে রণদা কে বলে একটু ম্যানেজ করে একটু তাড়াতাড়ি বেরিয়ে যাবে ঠিক করলো ।পরশু রবিবার ছুটি ,আর সোমবার ছুটি নেবে।হেড স্যার কে ফোন করে জানিয়ে রাখবে ।দুটো দিন স্যারের বাড়ি থেকে কাজগুলো সারতে হবে ।মনে মনে বেশ খুশী হল ধ্রুব ।

তৃষার কি তার কথা মনে পড়ে! চরকুঠি গ্রামের কথা , সেই খেয়ার কথা , বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যার কথা মনে পড়লো । একটা ফোন কিনবে কাল কিন্তু তৃষা যদি নিতে অস্বীকার করে ,যদি অপমান করে ! একবার বলে দেখবে না নিলে দেখা যাবে ।ওর দেখা পেতে হলে তো সেই সন্ধ্যের খেয়া কিন্তু কাল কলেজে আসবে তো তৃষা !!

 

রণদা একটু চাপে ছিলো তবুও ছেড়ে দিলো।ধ্রুব অফিস থেকে বেড়িয়ে স্যামসাঙ এর একটা মোবাইল এর দোকানে ঢুকলো ।শিশিরদাকে ফোন করে সব রেডি রাখতে বলেছিলো।স্যামসাঙ এর জে. সেভেন টা ব্যাগে ভরলো,বিল মিটিয়ে টাইম নষ্ট না করে সোজা বাসস্ট্যান্ড  ।

আখরিগঞ্জ পৌঁছতে বিকেল গড়িয়ে গেলো।সূর্য তার শেষ আভা ঢেলে দিচ্ছে চরাচর ঘিরে।রক্তিম আলোয় পাখির ঝাঁকের পালক বাতাসে ভর দিয়ে বাসায় ফিরছে । এরকম বিকেলে আকাশে রঙের খেলা চলে , ছুটির দিনগুলোতে বহরমপুরের গঙ্গার ধার বরাবর বাঁধানো রাস্তায় চলে যায়। ওখানে বসে এই দৃশ্য উপভোগ করে ।ধ্রুব হাত ঘড়ির দিকে তাকালো,সাড়ে পাঁচটা বেজে গেছে। তৃষার দেখা এখন আর মিলবে না মনে হয় ,তাছাড়া সে কলেজে আজ এসেছে কিনা তাও জানা নেই ।অতএব একবার ও.সি.এর সাথে দেখা করেই যাবে ।বেশী দেরী হলে ফেরীর নৌকো পাওয়া যাবে না ।সে না হোক , যে কোনো জেলে মাঝির নৌকোয় চেপে পড়বে ।তার আগে একটু চা খাওয়া দরকার ।ধ্রুব বাসস্ট্যান্ড এর সামনের একটা চা এর দোকানে ঢুকলো ।চা আর ডিম টোস্ট খেয়ে নিলো।একটা রিক্সা নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো । কনস্টেবল কে বলে ও.সি. ঘরের সামনে দাঁড়ালো ।

পরবর্তী পর্ব (৫ম পর্ব) আগামী ২২/০৮/২০২৬(শনিবার) প্রকাশিত হবে।

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ওয়াহিদার হোসেন

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)

ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং স্কুলে স্মোকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ হঠাৎ ঠান্ডা লাগছিল। লুঙ্গি পরে সে শুয়েছিল। যখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়লো দেখে সাফিনা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা গুটিসুটি হয়ে আছে। তার গায়ে হালকা করে আলনায় রাখা একটা বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। চাদরটাকে ঘুমের ঘোরের জড়িয়ে ধরে সাফিনা। আহা বেচারা। অনেক কষ্ট হয় এই মেয়েটাকে দেখে সঙ্গে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে নিজের ওপরেই করুণা আসে। কী ছিল সে। কী হল? দুরন্ত ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়।

সাপ্তাহিক লেখালেখি১০ অক্টোবর, ২০২৬
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৩)
ওয়াহিদার হোসেন

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৩)

শীত শেষ হয়ে আসছে। রাঙ্গালীবাজনা ঢোকার মুখের রাস্তাগুলো পলাশ ফুলে ভরে গেছে। অথচ ঠান্ডাই। আজ রবিবার। তাই আজকে তেমন তাড়া ছিলনা মোনালিসার। কাওসার এসেই গাড়ি ঘ্যাঁ করে ব্রেক কষলো। একহাতে হেলমেট নিয়ে ঢুকতে গিয়ে টেবিলের ওপর কাগজটাতে চোখ পড়লো। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন মেম্বার মোনালিসার দলবদল। সিপিএম থেকে তৃণমুলে দলবদলের খবর। মুখটা ঝুলে গেল কাওসারের। এরা খবর পায় কি করে?

সাপ্তাহিক লেখালেখি৩ অক্টোবর, ২০২৬
ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ ২)
ওয়াহিদার হোসেন

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ ২)

মইদুল সারারাত এপাশ ওপাশ করেছে। রাতে মনে হয়েছিল প্রেসার বেড়েছে। হাইপ্রেসার আছে ওর বাবারও। বাড়ি থেকে দূরে আছে বলে মাঝেমধ্যে প্রেসার চেকও করে। কিছুদিন আগে ডাক্তার দেখানোও হয়েছে। এখন হঠাৎ প্রেসার বাড়ছে। আবার হয়তো ওষুধ চালু করতে হবে। এক বোতল জল রাখা থাকে বিছানার পাশে।সে জল খায়।জলের বোতল রাখে।লাইট জ্বালায়। চপ্পল পরে বাথরুমে ঢোকে। পায়খানা চাপ দিচ্ছে। আবার বেরিয়ে এসে সিগারেট লাইটার নেয়। সিগারেট ধরিয়ে বাথরুমে ঢুকে বসে পড়ে।

সাপ্তাহিক লেখালেখি২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬