
মানুষ শূন্য পৃথিবীর পায়ুপথে একটা আপেল গাছ রোপন করার পর
আমি সোজা হাঁটা ধরলাম নরকের দিকে।
পথে দেখা হলো ক্রশবিদ্ধ যিশুখ্রিষ্টের সঙ্গে।
পথে দেখা হলো নূহের পুত্র কেনানে'র সঙ্গে।
প্রত্যেকে তাঁদের নিজের পিতার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
তারা প্রত্যেকের মুখভর্তি কাঁচাপাকা দাড়ি।
তারা প্রত্যেকের কাঁধে ঝুলছে অদৃশ্য ব্যাগ।
তাঁদের পাকস্থলীর ভেতর অসংখ্য পোকামাকড়।
তাদের চোখের ভেতর লালসার ইঁদুর।
তারা প্রত্যেকে পদচ্যুত স্বৈরাচারী।
তারা প্রত্যেকে ছুটে যাচ্ছেন উপেক্ষিত পৃথিবীর দিকে।
তারা একটি পরিপক্ব আপেল গাছ খুঁজে স্বর্গ মর্ত্যে একাকার করে দিচ্ছেন।
তাদের প্রত্যেকের পায়ের নিচে ধূসর দর্পণ।
তাদের প্রত্যেকের শিশ্ন অর্ধেক পচা।
তাদের প্রত্যেকের মাথার খুলিতে অর্ধেক কাদামাটি।
আমি তাঁদের পাশ কাটিয়ে নরকের দরজায় খোঁচা দিতে দেখলাম একজন বৃদ্ধা।
আমি স্বর্গের সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে দেখলাম একজন কুঁজো বুড়ি।
আমার ভাবনায় উঠে এলো আরবের কুটনি বুড়ি।
একজন রাসুলের বুড়ির সাথে দ্যাখা!
আমি নরকের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম।
নরকের বাহিরে আন্দোলন দেখে নিশ্চিত হলাম
কেনো আমার অপেল গাছ অক্ষত!
তাঁদের আন্দোলন দেখে আমি আরো নিশ্চিত হলাম কেনো বাংলাদেশ জনশূণ্য!
তাঁদের আন্দোলন দেখে একবার পৃথিবীর আপেল গাছের কথা মনে পড়লো।
তাঁদের আন্দোলন দেখে একবার বাংলাদেশের কথা মনে পড়লো।
তাঁদের আন্দোলন দেখে একবার মনে পড়লো আমার মৃত্যু হয়নি।
তাদের আন্দোলন দেখে আমার যিশু এবং তার সঙ্গীর কথা মনে পড়লো।
তারা সবাই বিক্ষুদ্ধ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে
তারা সবাই বলছেন ঈশ্বরের পদত্যাগ চাই;
তারা সবাই এক সাথে হুক্কাহুয়া বলে চিৎকার ছুঁড়ে দিল।
তারা বলছে নরকে তাঁদের নিজস্ব নির্বাচনের অধিকার
তারা বলছে একটি ব্যাক্তিগত রক্তহ্রদ তাঁদের ন্যায্য অধিকার
তারা বলছে কসাইখানা ছাড়া নরক! এ আবার হয় নাকি?
তারা বলছে ফাঁসির মঞ্চ ছাড়া নরক এ আবার হয় নাকি?
তাঁরা বলছে এপেস্টাইন দ্বীপ ছাড়া দোজখ! বড়ই বিচ্ছিরি।
হে মহামান্য ঈশ্বর! আপনার তো বোঝা উচিত বাংলাদেশের মতো আপাদমস্তক নরক থাকা সত্ত্বেও
পরলোকে নরক নির্মাণ কি বুদ্ধিমানের কাজ?
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ-৪)
ভোর হয়ে আসছে। রাতে ভালো ঘুম হয়নি। ঘুমের ঘোরে মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। কেন হয় সে জানেনা। এই অসুখটা আগে ছিলনা। হার্টের ডাক্তার অনেক যুগ আগেই নেশা করতে মানা করে দিয়েছে। কখনো হঠাৎ সিগারেট খাওয়ার ইচ্ছে হলে সে স্কুলের টয়লেটের পাশে টিচারদের একটা স্মোকিং জোন আছে সেটাতে যেত। ইদানীং স্কুলে স্মোকিং পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজ হঠাৎ ঠান্ডা লাগছিল। লুঙ্গি পরে সে শুয়েছিল। যখন সে বিছানা থেকে উঠে পড়লো দেখে সাফিনা নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছে। অনেকটা গুটিসুটি হয়ে আছে। তার গায়ে হালকা করে আলনায় রাখা একটা বিছানার চাদর দিয়ে ঢেকে দেয়। চাদরটাকে ঘুমের ঘোরের জড়িয়ে ধরে সাফিনা। আহা বেচারা। অনেক কষ্ট হয় এই মেয়েটাকে দেখে সঙ্গে নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে নিজের ওপরেই করুণা আসে। কী ছিল সে। কী হল? দুরন্ত ক্রিকেটের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে হয়।

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ - ৩)
শীত শেষ হয়ে আসছে। রাঙ্গালীবাজনা ঢোকার মুখের রাস্তাগুলো পলাশ ফুলে ভরে গেছে। অথচ ঠান্ডাই। আজ রবিবার। তাই আজকে তেমন তাড়া ছিলনা মোনালিসার। কাওসার এসেই গাড়ি ঘ্যাঁ করে ব্রেক কষলো। একহাতে হেলমেট নিয়ে ঢুকতে গিয়ে টেবিলের ওপর কাগজটাতে চোখ পড়লো। পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন মেম্বার মোনালিসার দলবদল। সিপিএম থেকে তৃণমুলে দলবদলের খবর। মুখটা ঝুলে গেল কাওসারের। এরা খবর পায় কি করে?

ইমন কল্যাণ (পরিচ্ছেদ ২)
মইদুল সারারাত এপাশ ওপাশ করেছে। রাতে মনে হয়েছিল প্রেসার বেড়েছে। হাইপ্রেসার আছে ওর বাবারও। বাড়ি থেকে দূরে আছে বলে মাঝেমধ্যে প্রেসার চেকও করে। কিছুদিন আগে ডাক্তার দেখানোও হয়েছে। এখন হঠাৎ প্রেসার বাড়ছে। আবার হয়তো ওষুধ চালু করতে হবে। এক বোতল জল রাখা থাকে বিছানার পাশে।সে জল খায়।জলের বোতল রাখে।লাইট জ্বালায়। চপ্পল পরে বাথরুমে ঢোকে। পায়খানা চাপ দিচ্ছে। আবার বেরিয়ে এসে সিগারেট লাইটার নেয়। সিগারেট ধরিয়ে বাথরুমে ঢুকে বসে পড়ে।
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।