
“লিমেরিক” নামের বিশ্বসাহিত্যের এ নাগরিক ছোট কবিতার এক বিশেষ ধরণের রচনা শৈলী। ছোট কবিতার এ অনন্য ধরণটি ৫ চরণবিশিষ্ট হয়ে থাকে।
লিমেরিকের অন্ত্যমিলের বিশেষ বিন্যাস হল - ক ক খ খ ক।
১ম, ২য় ও ৫ম চরণ, ৩য় ও ৪র্থ চরণের চেয়ে মাপে বড় হয়।
এতে প্রথম দুই চরণের অন্ত্যমিল থাকে এবং এর সাথে শেষের চরণ অর্থাৎ পঞ্চম চরণের অন্ত্যমিল বিদ্যমান থাকে।
আর মাঝের তুলনামূলক ছোট দুই চরণের আলাদাভাবে অন্ত্যমিল থাকে।
হাস্যরসাত্মক ছোট কবিতার এই বিশেষ রচনার বক্তব্য সাধারণত অর্থবোধক হয় না, তবে দ্যোতনাযুক্ত হয়। লিমেরিকে স্বাভাবিক অর্থ প্রকাশ করা মূল কথা নয়, বরং রচনার বিশেষ নিয়ম মেনে মজার লেখাই হলো লিমেরিক।
কয়েকটি লিমেরিক
১
শ্যাওড়াতলার তিন রাজ্যের, ভূতের রাণী কটকটি
মোটের উপর শান্ত কিনা, শুধু হঠাৎ হঠাৎ ছটফটি
রাণীর ছিল একশো বাদী
সবাই নাক গলাতে ওস্তাদী
কাজের বেলায় ঠনঠনা ঠন, কথার বেলায় ফটফটি।
২
কোন কারণে, কেউ জানে না, মিছেমিছি হাসি পায়
দেখাদেখি, গলায় গলায়, জনে জনে হাসতে চায়;
এবার থামো বলতে গিয়ে
মানে না বাঁধ, হড়হড়িয়ে
ক্যামনে যেন হা হা হা, হাসির হাওয়া বেড়িয়ে যায়।
৩
কি করে এও সম্ভব, ভাবে জয়নাল বক্স
পরশু রাতে দেখেন, পাটক্ষেতে এক ফক্স
জানে না তো কেহ
চকচকে তার দেহ
হায়! কেমন করে ফেললো ঢেকে পক্স।
৪
চক্কর হোক, টক্কর হোক, অনাচার দিন-রাতে
দুর্নীতিতে মেডেল দিলেন মন্ত্রীমশাই নিজ হাতে!
লজ্জা পেলো ইঁদুর ছানা
বাদুড় হলো রাতকানা -
মজা নাকি বেশি তাতে, ধরলে পড়া হাতে-নাতে।
৫
আশ্চর্য্য, তা বলায় যায় বুঝিনা কেউ মর্ম
মাঘমাসের রাত্রিবেলায়, ক্যামনে দেয় ঘর্ম
সবাই ভাবি, বিস্ময়
কিছু তো বটে নিশ্চয়
বংশী দাসের বেজায় কপাল, ভাগ্যগুণে চর্ম।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।