
১।
জারজ লোকটি
অতীতে যাচ্ছে;
তার মা'কে
ধর্ষকের হাত
থেকে বাঁচাতে।
২।
স্বর্গের অপার্থিব সিঁড়ি দেখে
পঙ্গু লোকটি ফিরে যাচ্ছে তার
চিরায়ত হুইল চেয়ারটির কাছে।
৩।
অনেকেই পরিণত হলে পিঁপড়ে হয়ে যায়।
সংশয়, সঞ্চয়, ভয়
আসন্ন শীতকাল সবার অপেক্ষা করে না।
কেউকেউ শীতের উপর দাঁড়িয়ে আর শীতকাল দেখতে পায় না।
৪।
একমাত্র ঘুড়া'ই
লাফাতে লাফাতে
তার মৃত্যুর
দিকে যায়?
৫।
এক পাশে ক্ষুধা
অন্য পাশে অভাবের সংসার—
নিজের লাশের পাশে বসে
প্রেমের কবিতা লেখা যায় না।
৬।
বেকারত্বের ক্ষুধা নিয়ে খাবার টেবিলে বসে যখন দেখি;
বড় ভাইয়ের উপার্জনে কেনা মাছ ভাত খেয়ে মা দু-হাত তুলে দোয়া করছেন।
তখন আমার পেটের ক্ষুধা
বেকারত্বের ক্ষুধা একজোট হয়ে বলে উঠে;
শুধু উপার্জন নয় তুমি মায়ের দোয়া থেকেও বঞ্চিত।
৭।
মহাযুদ্ধ থামে যদি বিদায়ের শীতে—
অধরের কর্পোর ফেলে বাজাবো শানাই;
যজ্ঞের আনন্দ নিয়ে বলছি তোমায়—
ওয়াহিদের কবিতা পড়তে স্বাগত জানাই।
কবিতার যতো কাম যতো শোক ব্যথা—
নিরানন্দ জীবনে দেখি যত নিষ্পত্তি,
ওয়াহিদের কবিতা পড়লে বোধগম্য হবে—
নগন্যের কবিতাই তার মহা সম্পত্তি।
৮।
ঋণের দায়ে আত্মহত্যা করা লোক
মুসল্লীদের দিকে তাকিয়ে ভাবছে—
প্রার্থনার ঋণ কি করে শোধ করা যায়?
৯।
ক্লান্তি লাগছিল —
শরীরের সিঁড়ি দিয়ে নেমে দেখি
আমার সমাধি করতে লোক জড়ো হয়েছে,
তারা আমাকে মৃতঃ ভেবে
আমার শরীর
কবরে রাখতে যাচ্ছে।
১০।
আত্মহত্যা করতে গিয়ে মনে পড়লো তার
জন্মই হয়নি যেহেতু;
প্রয়োজন পড়েনি আত্মহত্যার।
১১।
জন্মমুহূর্তে চিৎকার করা শিশুটি
মূলতঃ বুঝাতে চেয়েছিলো
অন্ধকারের সাথে
বিচ্ছেদের যন্ত্রণাও তীব্র হয়।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।