
উলঙ্গ সবাই
শুধুমাত্র রাজা নয়, উলঙ্গ সবাই
রাজ-অনুগামীরা পোশাক ফেলে নেমেছে রাস্তায়।
বিরোধীরাও অর্ধনগ্ন—
তারাও আজ উন্মোচনের প্রতিযোগিতায় মগ্ন।
আদিমতা নেমে আসছে পৃথিবীর বুকে
আমির-ওমরাহ্ অনাবৃত, নেমেছে রাজপথে।
রাজদরবারে বিচারশালা নগ্ন নৃত্যরত
রাজসেনাদের নগ্নতাও অতীব শাশ্বত।
উলঙ্গ আস্ফালনের সিঁধকাটা ঘরে
আবৃত যারা, লজ্জা ও ভয়ে লুকিয়ে অন্ধকারে।
জিজ্ঞাসু চোখে শিশুটি আজো দাঁড়িয়ে সটান।
প্রত্যেকের প্রতীক্ষা সেই প্রতিশ্রুত উলঙ্গ উত্থান।
----
না-ভোটার
সাইকেলে যেতে যেতে
লোকটা থমকে দাঁড়ায়।
সামনে বিশাল লাইন—
মনটা খারাপ হয়ে যায়।
দু’জোড়া জলপাই দৃষ্টি
সন্দেহে তাকায় তার দিকে—
“কেয়া হুয়া? মত রুকো ইঁহা,
আগে বাড়ো, চলে যাও।”
চলে যেতেই হয়।
চলে যেতেই হবে তাকে।
ক্ষমতার কাটাকাটি খেলায়
অধিকার হারিয়েছে—
নাম নেই ভোটার তালিকায়।
পাড়া-প্রতিবেশী অনেকে এসেছে,
অন্য ভাইয়েরা দাঁড়িয়েছে লাইনে—
সে ছাড়া।
রাজনৈতিক ব্যবসায়ীরা
যায়নি তার কাছে একবারও
কেউ বলেনি, “বসো, চা খাও,
ভোটটা অমুক চিহ্নে দিয়ো।”
অন্যবার
সাধাসাধি করে কত!
এই লাইনে
সে দাঁড়িয়েছে চল্লিশ বছর—
আজ অপরিচিত।
অনেকটা দূরে গিয়ে
একটা চায়ের দোকানে বসে।
আলোচনা চলছে—
ভোট কোন দিকে?
কে জিতছে?
মোড়ে মোড়ে
জলপাই চোখের
কড়া নজরদারি।
হঠাৎ পাশ থেকে—
“কি রে, বাংলাদেশি?”
চমকে ওঠে লোকটা।
বক্তার মুখে
এক নিষ্ঠুর, সুখদ অট্টহাসি।
“দাদা, নামটা কি উঠবে আর?
কবে উঠবে?
কীভাবে?”
— “নাম আবার কী!
এবার সোজা বাংলাদেশ!
ক্ষমতায় আসি।”
ক্ষোভে
অশ্রুতে
বেরিয়ে আসে লোকটা।
বাড়িতে ফিরে আবারও
চল্লিশের দশকের দলিলপত্র খুলে বসে—
বাপ-দাদুর নাম
স্পষ্ট অক্ষরে লেখা।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।