কবিতা

সকল পোস্টসমূহ

চারটি কবিতা
নির্ঝর নৈঃশব্দ্য

চারটি কবিতা

ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে দিয়েছি বন, একটা টলটলে পুকুর, আর তিনটা হাঁস। শৈশবে আমি ভাবতাম একটা প্রজাপতির ভেতর হলুদ ডানার বিস্তার ছাড়া আর কিছু নেই। ভাবতাম প্রজাপতির জন্ম রাইখেতে। এখনো তাইই ভাবি। প্রজাপতি মন্ত্র পড়বার পর একবার মনে হল ভুলে যাই শৈশব। কিন্তু মানুষ এমনই বিপন্ন প্রাণী, শৈশব ছাড়া সবকিছুই ভুলে যায়। যাদের অ্যালঝাইমার হয় তাদেরও শৈশব মনে থাকে শেষের আগ পর্যন্ত। আর যখন শৈশবও ভুলে যায় তখন তারা শিশু হয়ে যায়। আর ছায়া দিয়ে মুড়িয়ে রাখে বুড়ো আঙুলের নখ, যদি নখের আয়নায় আলো লেগে দৃশ্যমান হয় ফুরিয়ে যাওয়া জীবনের ঘ্রাণ।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
শাশ্বত ভট্টাচার্য্যের কয়েকটি কবিতা
শাশ্বত ভট্টাচার্য্য

শাশ্বত ভট্টাচার্য্যের কয়েকটি কবিতা

স্টেশন পাড়ার মোড়ে ট্রেন থেকে দেখতে দেখতে জাম রঙের সন্ধ্যা দক্ষিণের দুয়ারে নেমে এলে , পাঁচটি চিল মেঘ হয়ে যায় দুয়ারে সারমেয়টা দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাই তুলছে, তুমি এলে উষ্ণতা পাবে খড়কুটো....

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
গো বি ন্দ চ ক্র ব র্তী র  কয়েকটি কবিতা
গোবিন্দ চক্রবর্তী

গো বি ন্দ চ ক্র ব র্তী র  কয়েকটি কবিতা

আমার মেয়ে নীল প্রজাপতির পাখায় এঁকে দেয় একটি সকাল

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
জীবনের আসল পরিচয়
অনিমেষ বসাক

জীবনের আসল পরিচয়

যখন ভেঙে পড়ে ভাগ্যের সব আশ্রয়, তখন মেলে জীবনের আসল পরিচয়। অবলম্বন সকলই হয়ে পড়ে শিথিল, অভিমানের কৃষ্ণগহ্বরে সম্পর্ক হয় বিলীন।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
নুরুল হাসানের দুটি কবিতা
নুরুল হাসান

নুরুল হাসানের দুটি কবিতা

তুমি ভালোবাসলে কি ইরান-ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হয়ে যেত? তুমি ভালোবাসলে কি ধার্মিকরা হঠাৎ করে মানুষ হয়ে যেত? তুমি ভালোবাসলে কি বন্ধ হয়ে যেত শাসকের শোষণ-প্রবৃত্তি? তুমি ভালোবাসলে কি বন্ধ হয়ে যেত পাহাড়-জঙ্গল চুরি? জানি না! তুমি ভালোবাসলে কী হত।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
কবিতারা
স্বপন রায়

কবিতারা

আলো দেখা হেরে গেল আলো জ্বালানোর কাছে   হেরো আলো আর বিজয়ী আগুন আমার সঙ্গেই থাকে মাথা কোটে মাথা কাটে

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
রহিত ঘোষালের দুটি কবিতা
রহিত ঘোষাল

রহিত ঘোষালের দুটি কবিতা

রোয়াকে রোদ্দুর, অপরিসীম বিকেল, শ্যামাঙ্গিনী আকাশ, কাঁটাজঙ্গল, ভাগচাষিদের ঘর, ঘরের ক্রন্দনধ্বনি— এই সারাংশ। কাদাজমি থেকে উঠে আসে ঘরগেরস্থি, বুকের শিলাস্তরে ফাটল ধরে— সম্পর্কের পর্বতমালা রমণ চায়, লঞ্চ চলে যায় সাঁঝবেলায় কথার হবিষ্যি আর ছাড়পত্র নিয়ে,

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
ঘুড়ি কেটে গেলে
প্রাণজি বসাক

ঘুড়ি কেটে গেলে

কতটা দূরে গেলে তাকে বিচ্ছেদ বলি আবহমান কাল থেকে খসে বৈচিত্র্য শহর নামক খাঁচায় গচ্ছিত জীবনে শুধু দৌড়ঝাঁপ এদিক থেকে ওদিকে প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতে রহস্যময় ঘনঘটা মেঘ

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
স্পর্শময়ী
আশরফ চঞ্চল

স্পর্শময়ী

তুমি এসে আচানক স্পর্শ দিলে ঠোঁট প্রদেশে, দেহ মানচিত্রের অলিতে-গলিতে...! তারপর ঝড় বইলো পা থেকে মাথা অবধি। প্রতিটি রোমকূপের গোড়ায়, শিরা-উপশিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে স্পর্শের নান্দনিক ছোঁয়ায় যেন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল অদাহ্য আগুনের লেলিহান শিখা পিপাসায় কাতরাতে কাতরাতে লবণ সমুদ্রে ডুব দিলাম... ডুব দিতেই থাকলাম... দিতেই থাকলাম!

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
সুজাতা
ভবেশ বসু

সুজাতা

শুধু আমাকেই বলা হল কথা বলতে শুধু আমাকেই বলা হয় লোনা জলে স্নান করে এসো আমারই কপালে সিঁদুর গলায় মালা,কাপালিকের কাছে যাও দেবতার পূজা আমারই অধিকার,শব্দ ধূপ ধূনা নিয়ে বসো

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
শবমুখ এমন
শিশির আজম

শবমুখ এমন

শবমুখ আমার দিকে এমন তাকিয়েছিল শোকযাত্রার মাঝখানে যে তৎক্ষণাৎ প্রতিদ্বন্দ্বীতার উচ্চকিত খেলায় না নেমে বাড়ি ফিরে এলাম আমি। বাড়ি না ফিরে কী করা যেত? মেঠোপথে ঘাস, শিশিরভেজা, জড়ানো আলোর তন্তুজালে।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
দুটি কবিতা
জারিফ আলম

দুটি কবিতা

দুপুরের বিপরীত মেঘের হুইসেল বেজেছে আজ  স্মৃতি জমেছে—পাখি ও প্রার্থনার মতো। নিঃসঙ্গ কেবিন আর শাদা আলোর ভেতরে নিয়তির অন্ধকার ঘন হয়ে এলো আরও কোথাও জীবন অবমাননা করেছে নিজেকে।

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
জিকির
আলিউজ্জামান মুদ্রা

জিকির

জানালার মুঠি থেকে জানালার ফুল খসে পড়ে এখন সকলের আলোয় রোজা মুখে বসে থাকি। সরকারি পাখিদের গান শুনি পুতুলের নিয়ন্ত্রিত খেলা শেষে—

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
আমাদের যুদ্ধ জারি থাকবে
পিয়াল রায়

আমাদের যুদ্ধ জারি থাকবে

আগুন আগুন আগুন জ্বলছে আমাদের বুকে-পেটে-মাথায় শ্রাবণের ফোঁটাগুলো যেন এক একটা পেরেক অন্ধ করে দিচ্ছে আমাদের চোখ আমাদের স্বপ্নগুলোকে খোরাক বানিয়ে হাসাহাসি করছে

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
অস্তরাগ
অমিত দে

অস্তরাগ

আকাশে ফুলকি ছোটে উপাসনা গৃহে কান পাতে দু’টি বুড়ো কাক সেদিনও যে রাস্তা চলেছে নদীর গানে সেখানে ঢেলে গেছে কেউ ধুলো ভরা ফুসফুসের অস্তরাগ

কবিতা২৭ জুলাই, ২০২৬
ভীড় ভেঙে গেছে
নিমাই মন্ডল

ভীড় ভেঙে গেছে

ভীড় ভেঙে গেছে, আজ আর সেই ভীড় নেই। ময়দান শুধু থাকে থাকে ভরেছে শূন্যতা, আনাচে কানাচে থাবা মারছে বিষন্নতা, সবাই উত্তম বোঝেগেছে; লাভ নেই , শুধুই ফাও।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা
অনিমেষ বসাক

অনিমেষ বসাকের তিনটি কবিতা

সম্পর্কের সান্নিধ্য চলে যায় আলোকবর্ষ দূরে, নীল-সবুজ লীন হয় কৃত্রিমতার নীরব গহ্বরে। অন্তরের ভাষা হারিয়ে যায় নিঃশব্দতার ভিড়ে, হৃদয় শুধু বেঁচে থাকে, অনুভূতি হারায় ধীরে।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
যে মানুষ হারিয়ে গেছে
ওয়াহিদার হোসেন

যে মানুষ হারিয়ে গেছে

যে মানুষ হারিয়ে গেছে তাকে খুঁজে আনা যায় বার্তালাপ করা যায় এমন স্মৃতির সঙ্গে জঙ্গলের ভেতর হরিণের মতো লাফিয়ে আসা জুম শটে

কবিতা৮ মে, ২০২৬
অমৃত সন্ধানী
বলরাম হালদার

অমৃত সন্ধানী

মহা ঋষি সেজে রবি সম তেজে ওড়ালে বিজয় ধ্বজা, প্রতি ক্ষণে ক্ষণে নিজে মনে প্রাণে মানবে করেছো পূজা।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
শোকসভা
শৌভিক দত্ত

শোকসভা

মুঠো ছুরি খুলছে। পর্দার নানা ব্যবহার। ততো স্বচ্ছ নয় জেনে শিকারীরা ক্ষমা থামিয়ে দেয়। এক লুপ্তপ্রায় গান তোমায় আগুন চেনায়। উঠোনরঙা চাঁদ আকাশে অথচ তোমার কোনও স্বেচ্চাসেবক নেই।

কবিতা৮ মে, ২০২৬
  রাত্রি কালীন
মৌমিতা মিত্র

রাত্রি কালীন

রোজ রাতে হৃদয় জুড়ে মৃত্যু আসে না বলা সব পূর্ণবাক্য শুধুই ভাসে। একটার পর একটা সূক্ষ্ম আলপনা। শুধু স্মৃতি, না কি বাধ্যতার জল্পনা।

কবিতা৭ মে, ২০২৬
কাশেম কোনও গল্প নয় কবিতা
সঞ্জয় সোম

কাশেম কোনও গল্প নয় কবিতা

উপেক্ষা আমাকে নৈঃশব্দ্যে নিয়ে গেছে মুখে কারণহীন হাসি চোখে আছে নির্দিষ্ট ভাষা বৃষ্টিরা নিজেরা ভেজে আমাদের ভেজায়

কবিতা৭ মে, ২০২৬
কিছু অলিখিত বুদবুদ
অভি সমাদ্দার

কিছু অলিখিত বুদবুদ

কার অঙ্গে কে যে ফুটে আছে কে যে আজ সকাম ফুলের সোনালিতা ! এই জংশনে ভালবাসার টোকেনগুলি রুহ্-রুহানির শবদেহে

কবিতা৭ মে, ২০২৬
কবিতা
বিশ্বজিৎ বর্মণ

কবিতা

যুবকদের যে গম-বিলাস যে হরিণগল্প স্থানান্তরের পর গোড়া খুঁজছে মালিকের মেয়ে ব্যালকনিতে বাড়ছে বেলা আসলে ওই গম ও বিলাস আর হাতেনাতে ধরা পড়ছে যুবকের দল হরিণীর গল্পে

কবিতা৭ মে, ২০২৬