
প্রাগৈতিহাসিক যুগে রাজা সুরথ পূজিতা
মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা একুশ শতকে
মাতৃরূপেণ সংস্থিতা!
আমরাই তাঁকে গড়ে তুলি
খড়, মাটি আর
নিজেদের ফেটে-যাওয়া হাতের শ্রমে।
ভোরের উঠোনে উনুন জ্বালানো মা,
কারখানার গেটে নীরবে অপেক্ষা করা,
সন্তানের পাতে শেষ ভাত তুলে
অভুক্ত তৃপ্তির ঢেকুরে মা—
তাঁর অদৃশ্য হাতেই তো পৃথিবী!
আমরা প্রতিমার চোখ আঁকি,
কারণ মায়ের চোখে শুধু
মহিষাসুরের মুখ ভেসে ওঠে না;
সেখানে দেখা যায় বাড়িভাড়া,
ওষুধের দাম,
স্কুলের বকেয়া ফি,
না-ফেরা ছেলের পথ,
হঠাৎ চুপ করে যাওয়া মেয়ের মুখ।
তবু, ঢাক বাজে।
উৎসব তার নিজস্ব নিয়মে
স্থির করে—
কাকে দেবী বলা হবে,
আর কার শ্রমকে
প্রতিদিনের স্বাভাবিকতায় ভুলে থাকা হবে।
তাই প্রতিমার সামনে
আমি শুধু প্রণাম করব না, খুঁজব—
মাটির ভিতর মাকে,
মায়ের ভিতর শ্রমকে,
আর সেই শ্রমের গভীরে
লুকিয়ে থাকা ভালোবাসাকে।
শেষে হয়তো দেখব,
দেবীর মুখ আসলে আমাদের ঘরের নারীরই মুখ--
কপালে শুধু ত্রিনয়ন নেই, আছে দিনের পর দিন জমে থাকা ঘাম।
সেই ঘামেই বোধনের জল।।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।