৩০ নভেম্বর, ২০২৫
আবছায়া, যে শহর
আবছায়া, যে শহর

 

যে ধীবর আমাকে পরিশ্রম শিখিয়েছিল, পাথরের খাঁজ থেকে তুলে এনেছিল স্ফীত ও কম্পিত শরীর, তার নগ্নতার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। বরং সফেদ বস্ত্রের দিকে তাকিয়ে বারেবার বুঝেছি – ক্ষমাশীলতা আসলে ঘূর্ণন গতির মতোই একা করে তোলে।  

 

আলোসুরভিত এক সূক্ষ্মতায় দাঁড়িয়ে আছি আমি। বুকে রূপোর জল করা সমুদ্র । ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসছে নিহিত প্রভাবের জন্যে। খড়ের মাদুরে ছড়িয়ে পড়া তামাম দ্রাক্ষারসের জন্যে। আমি তার চুল বিস্রস্ত করে দিচ্ছি। মোলায়েম শ্বাস টেনে তাকে পালিয়ে যেতে দিচ্ছি অস্পৃশ্য প্রণালীর দিকে। 

 

স্বেদ ও অশ্রুর ভেতর যে হাঁটতে থাকবে নির্বিকার… মাথা নীচু করে হাঁটতে থাকবে দু-চার ফোঁটা বিভ্রান্তি নিয়ে

 

______________________

 

 বৃক্ষ ও বাস্পের এই দেশ

 হাতের মুঠোয় ছুঁড়ে দেয় লবণাক্ত মাটি

 ধাতুর কাঠিন্যে গজিয়ে ওঠা প্রথম শস্যের শিকড়

 আঙুল থেকে গভীরে

 অস্থিচ্যুত বাক্যের ঠিক মাঝামাঝি

 

তার জন্ম,পরিবার,সমাজ,ইতিহাস অথবা ত্রিভুজের

ভূমি সংলগ্ন বাহু মনোবিদদের কাজে লাগে নিঃসন্দেহে

কাজে লাগে তার একা তাকিয়ে থাকা চোখ 

আর প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে আনা হয় অক্ষিকোটরের বাইরে

ছোট বাদামের মতো দেখতে অশ্রুগ্রন্থির প্রকোষ্ঠে

 

উত্তরাধিকার বিষয়ক অধ্যায়ের ভেতর ঢুকে বুঝতে পারি

সভ্যতার প্রথম পতাকাবাহী এখন বরফের উপর, মৃত

সেগুন ও পলাশের জঙ্গল থেকে উড়ে আসছে বাদামী বর্ণের স্তব

নিজস্ব লাশের শরীর থেকে চামড়া-পোড়া-গন্ধ

টক স্বাদ পাওয়া যায়

বছরের পর বছর শবাধার উপড়ে

সনাক্ত করা হয় তার কোশ, করোটি ও অন্তঃআবরণীর ভাঁজটুকু  

 

জিভের গায়ে লেগে থাকা স্বগতোক্তির ভেদ্য-স্তরটুকু

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।