
ওই যে দূরে ওই জায়গাটা
যা দেখাও যাচ্ছে না ভালো মত
আমি ওখানেই যাচ্ছি
আমার সামনে একটা পাহাড়
একটা কৌতুহলী গুহা
মাঝে মাঝে পায়ের নিচ থেকে ধ্বসে যাচ্ছে মাটি
একটা আলো দেখা যাচ্ছে
সামনে একটা বড় খাদ
একটা বড় ফাটল একেবারে নেমে গেছে পাতালে
কাজটা বিপজ্জনক
সামান্য ভুলেরও কোনো ক্ষমা নেই
তবু যেতে হবে, তবু যেতে হবে, যেতেই হবে
অনেকটা নিচে
নাহলে ওপরে ওঠার রাস্তা পাবো না
খুব সরু জায়গা
অবলম্বন নেই এগোনোর
মসৃন চুনাপাথর আমাকে ফেলে দিতে চায়
মৃত্যুর সহজ উপত্যকায়
সুতোর ওপর দিয়ে হাঁটছি যেন
যে কোনো মুহূর্তে, যে কোনো মুহূর্তে আমি
তলিয়ে যাব,
শিকারির চোখে ধুলো দেওয়া দরকার
দরকার টানা কুয়াশায় ঢেকে ফেলা নিজেকে
দরকার বিষাক্ত তির ব্যর্থ করে ওদের বানচাল করা
এখন আমার শরীর ভিজে গেছে
শরীরে কালশিটে, পায়ে ভেজা ভেজা গন্ধ
নিজেকে শুকিয়ে ফেলা দরকার
কিন্তু তার আগে একটা বুনো শুয়োর শিকার করব
নিজেকে খতম করার আগে কাউকে খতম করা জরুরি
নাহলে জীবনের সব আঠা নিষ্ক্রিয় হয়ে যেতে পারে
তাকে আগুনে ফেলে শুকিয়ে নেব সারা শরীর
ওর পোড়া পোড়া কড়া গন্ধ আমাকে মাতাল করে তুলছে
আমার চামড়া ক্রমশ গরম আর সুস্বাদু হয়ে উঠছে
আমি প্রেমে পড়ে যাচ্ছি ওর
আর নিশ্চিতই আমার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে ওই মরা শুয়োরটাও
আমরা ফিসফিস করছি
আমরা পরস্পরকে আদর করছি জিভ দিয়ে
আমরা মনের সুখে গালি দিচ্ছি ওদের যারা আমাদের
শুধুমাত্র সুখের জন্য হত্যা করেছে
এরকম ভালো খাবার একসাথে বসে খেতেই ভালো লাগে
এত টাটকা মাংস আমরা দুজনেই বহুদিন খাইনি
নদীতে বর্ষার জল থাকাকালীন আমাদের পাহাড় থেকে নেমে যেতে হবে
একটা ভেলা বানানো দরকার শক্ত কাঠের
মরা শুয়োরটাকে আর আমাকে বয়ে নিয়ে যাবার মতো শক্ত
পথে যেতে যেতে আমরা মাছ শিকার করে নেব
দিনের ভুখ মেটানোর জন্য
রাতে আমরা দুজন দুজনকে খাবো
কিছু দারুণ দেখতে শুঁয়োপোকা আমাদের দেখে
হাত নাড়তে নাড়তে চলে গেল দল বেঁধে
ওদের রঙিন রুমাল আমরা দেখতে পেলাম অনেকদূর পর্যন্ত
এরকম নির্জন একটা জায়গায় আত্মরক্ষার জন্য
ছাউনির জন্য, বিছানায় নিশ্চিন্ত আরামে আদর করার জন্য
গাছপালা চেনা জরুরি
আজ রাতে আমাদের বিয়ের পার্টিতে গাছেদের নেমন্তন্ন ছিল
ওরা আমাদের উপহার দিয়েছে ফুলসজ্জার খাট
আমি আর মরা বুনো শুয়োর, বউ আর প্রিয়তম বর
দুই বিখ্যাত মৃতদেহ আজ এই জঙ্গলে পুরোপুরি নিজের করে নেব নিজেদের
বংশবৃদ্ধি করব, গড়ে তুলব আত্মীয় স্বজন
যতটা সম্ভব শক্ত করে বেঁধে দেব আমাদের ভবিষ্যৎ
মৃতদের কলোনি, মৃতদের সর্বোত্তম স্রোত
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।