২৯ নভেম্বর, ২০২৫
প্রস্থান
প্রস্থান

বিকেল হয়ে এলে সন্ধ্যার আগে আগে একদিন—

বাসনা নিয়ে, অনন্ত উপেক্ষা নিয়ে

 হাসতে হাসতে ঘুমিয়ে যাবো।

সারা রাত জেগে থাকবো দুঃস্বপ্নের ভেতর।

তারপর

সকাল হলে আমাকে রেখেই আমি উঠে চলে যাবো

স্নান ঘরে—

নদীর জলে আরো একবার দাত মেজে বসবো প্রথম সূর্যের আলোয়।

মায়ের চুলোয় চায়ের পাতিল বসেনি দেখে একটুও অবাক হবো না আমি।

আমি ধরে নেবো-

আমার মা বিদ্রুপের মিছিলের ইমাম আজ।

কথা দিলাম একটিও সিগারেট খাবো না ঐ দিন।

এতো লোক সমাগম,হৈহল্লা — কান্নার বিদ্রুপ

আমার কিছুই যায় আসে না।

আমাকে দেখতে এলে কেউ;নির্বাচন করবো না বন্ধু,নাকি শত্রু সে।

কার কাছে কত টুকু ঋণী; কে আমার কাছে ঋণী?

তাতে আমি বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ করব না।

আমি তাঁদের সবাইকে উপেক্ষা করে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকবো।আমি অন্য কথা ভাববো।

উঠোনে বসবে পাতিল— বাঁশবনে কাকেদের বিদ্রুপ। 

আমি ধরে নেবো এখনো পৃথিবীতে ব্যাপক অন্যায়, রাষ্ট্র ব্যর্থ ব্যেপে।

কয়েকটি শাদা বক উড়ে যায় উত্তরের বনে।

আমি কেবল তাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকবো নিজস্ব ভঙ্গিতে। 

সাদা আজ ভীষণ পছন্দের হয়ে উঠেছে।

পায়ে কাটা ফুটে যায় ব'লে—

বরই গাছ কেটে ফেলার উদ্যোগ বাতিল হয়েছে। 

মন্দ হয়নি ভাববো।

আজ বরইয়ের পাতা বাবার মতো মনে হচ্ছে।

মাটির সোঁদাগন্ধ আজকের মতো টের পাই নাই আর।

'আমি আমাকে দেখবো ঐ দিন সবচেয়ে নিখোঁত আয়নায়।

এতো সচ্ছ দর্পন আগে কখনো চোখে পড়েনি আর।'

এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠবো সেদিন — ঘুমন্ত আমাকে দেখতে ছুটে আসবে সবচেয়ে দূরের আত্মীয়রাও!

সবচেয়ে খারাপ বন্ধুটিও বাদ যাবে না সেদিন। 

পাড়ার সবচেয়ে অহংকারী লোকটিও সেদিন আমাকে দেখে বলবে ঘুমাও শান্তিতে।

সবচেয়ে হৃদয়হীন নারীটিও সেদিন আড়ালে গিয়ে চোখ মুছে বলবে “বিদায়”।

অথচ আমার এসবে কিচ্ছু যায় আসেনা।

দোকানি বাকির খাতা ছুঁড়ে ফেলে এসে বলবে 'লোকটা ভালো ছিলো'

আমি শুধু দেখবো একটু দূরেই ঝরে যায় দু'টি লেবু ফুল।

ঘাসের ডগা বেয়ে ঝরছে অবিরাম শীতের শিশির।

বরই ফুলের পাপড়িতে অবিরত পিঁপড়ের হেমন্ত উৎসব।

প্রস্থান যে এতোই মধুর হয় জানবো সেদিন একা একাই।

তখন হয়ত এতো এতো হৈ-হুল্লোড়,লোক সমাগম,পীড়িত বিদ্রুপ —

উপেক্ষা করে আবার আমার কাছে আমি ঘুমিয়ে পড়বো নির্দ্বিধায়।

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।