
প্রান্তিক
ভুলে যাওয়া পথ শেখায় অরণ্য সুদূর...
খসে পড়া বিবর্ণতায় চড়ুই— গান এঁকেছেে অঘ্রাণে
দিন-রাত্রি— চন্দ্রপুকুর...
মৃত ডাহুকের ঘর-গৃহস্থলী
পেন্সিলে আঁকিবুঁকি যদ্দুর মনে পড়ে ধূসর চিত্রচিহ্নে
সমুদ্রপাড়ায় মিছিল জমায় দুঃখবাদী ঢেউ
যে শোনাচ্ছে আহবান অনতিদূরের...
যে পোড়াচ্ছে আর্তি এতোটা কাছাকাছি
জ্যামিতিক বর্গে শুধু মানুষেরই বাস।
আবছায়ায় ডেকেছে কী প্রাণবন্ত প্রহর লাজুক?
________
পথ
নত হও
হও গোপনে উদ্ধত অবিনাশী ঔঁ
যেমন প্রকাশ্য খুনের কোনও বীরত্ব গ্রাহ্য নয়
নিন্দার গণকবরে উপচানো সোরগোলে এলোমেলো সব তার।
ধাবমান সভ্যতা জেনেছে কার আহত এ মুখ!স্থির,অচঞ্চল!
পৃথক দৃশ্য এই বাঁকে বাড়ায় বয়সের ঝোঁক।
করুণ নগ্নতা ঠেলে উপচে পড়ে মূর্খ সন্ত্রাস।
আহবানে ছেপে যাওয়া কাগজের ধ্বনিতে নামে রাত্তির
যেমন কোনও খুনের প্রামাণ্যতা গ্রাহ্য নয়।
যে কেউ আশ্চর্য আলোয় দলবেঁধে কেড়েছে ধূসর আলো
যাচিত মায়াবোধ হঠাৎ উদ্ধত পায়রার ডানায়
জন্মান্তরের গহন মৌনতায় নেমেছে সুন্দর।
________
খেউড়
বেহায়া পুরাণে নাচে বিলাসী দোয়েল
সে কোন কাল গেছে স্বেচ্ছাচারি মানুষের মুখোশে।
দেখেছিল যারা নগর ও নাগরিকতার ক্লেশ
অহেতুক রাজকার্য শেষে বিন্দিত মুক্তটির ঘামে
রটে গেল তক্ষকের মৃত্যু সংবাদ।
নিঃসঙ্গ দানপত্রের ছায়া মাড়িয়ে কোনও কোনও গাঁয়ে
পাথরের চারুপাঠে শিখে গেছো নান্দনিকতা
নষ্টের নগ্ন সাহসের আঁকিবুকি দেখছে সংসার
মগ্ন ঝোঁকে নিংড়ে থাকে ভুবনবাদী সন্ধ্যা।
রাজ্য জেনেছে রাজত্বের মহাজনী নীতি
সিংহাসনের ছায়াবাজি শেষে শূন্য মঞ্চে উড়াল দারুণ!
সংস্কৃতির ডানা পথে থেমেছে আকাশ করুণ।
মায়াতীর্থে জন্মেছে মাটির পায়রা
বিটকেলে সভ্যতা নাচায় ফেনিল-অঙ্গার।
___________
মগ্নবৈভব
গহীন কুয়াশার একরত্তি হাওয়া নিয়ে যায় রোজ।
আগ্রহী চোখের দৃষ্টি খুলে দেখা চুপটি করে শাদা মেঘে !
একজন্ম আঁধার ধরে রাখা এক অদ্ভুত আহবানে বসে আছে সে।
পায়ের নিচে শিশিরে ভেজা ঘাস,
চোখের সামনে এক অদম্য বিহবলতা— মনিরামপুর!
আলোর নাচনে মুগ্ধ এই প্রাণ।নিরন্তর সে শোনায় শিল্পীত সংগীত।
শুনতে শুনতে ধ্যানী হয়ে ওঠে শীতার্ত মগজ...
পায়ের পাশাপাশি পা চলে নিত্যদিন।
পৌষে মগ্ন হয় কী এক দুঃখ কাল্পনিক!
ফিরিয়ে নেয় সে আজন্ম কাঙ্ক্ষিত সময়
ভুলের আড়ালে যাত্রা-চিত্র এঁকে ফেলি ভুলে
মিথ্যে ভোরের আড়ালে তবুও থেকে যায় রেলযাত্রার সুর
তন্ময়তা জুড়ে আঁকে দীর্ঘ পথ— মনিরামপুর!
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।