৭ মে, ২০২৪
সঙ্গে লেডিস আছে
সঙ্গে লেডিস আছে

খ্যাঁচ করে বাসটা ব্রেক চাপতেই লোকজন সব পেছন থেকে একবারে হুমড়ি খেয়ে গায়ে পড়লো তৃষানের গায়ে আর তাতেই ওর চটকাটা গেলো ভেঙে। মুখ দিয়ে দু একটা ব কারন্ত শব্দ বেরিয়ে এসেছিলো আর একটু হলেই কিন্তু ঠিক তখনই তৃষানের মনে পড়লো এসব কিচ্ছু বলা যাবে না আজ কারণ সঙ্গে লেডিস আছে।

 

একটু করে পেছন দিকে এগিয়ে যাবেন…পেছন দিকে এগিয়ে যাবেন একটু করে…কন্ডাক্টর চেঁচিয়ে যাচ্ছিলো সমানে। এদিক ওদিক করে পল্লবীকে লেডিস সিটে একটা জায়গা করে দিয়েই নিশ্চিন্ত হয়ে দরজার একটু পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল তৃষান। অনেক বছর ধরে বাসে এটাই ওর ফেভারিট জায়গা। আজ কিন্তু বেশিক্ষণ এই নিশ্চিন্তির ভাবটা ওর মনে স্টে করলো না। শুধু একটা কথাই মনে হতে লাগলো যে এরপর কি হবে?

 

চলো না বের হই একটু কোথাও…অফারটা একসেপ্ট করার পর থেকে অনেকবার এই কথাটা পল্লবীকে বলেছে তৃষান। শেষমেশ আজকের দিনে এসে পল্লবী রাজি হয়েছে। কাল সন্ধেয় ওকে ডেকে যখন এই কথাটা বলেছে পল্লবী, তৃষান শুধু একটাই কথা ওকে বলেছিল…একটু সুন্দর করে সেজে এসো প্লিজ। উত্তরে পল্লবী হেসে বলেছিলো-ও তোমায় ভাবতে হবে না।

 

কিন্তু আজ সকালে মিট করার পর থেকে যথেষ্ট ভাবনাতেই পড়ে গিয়েছে তৃষান। আসলে ওর অনেকদিনের ইচ্ছে যে একটা বাম্পার গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরবে। যেমন লোকজনের দেখে ঠিক সেরকম, একদম সলিড…চাবুক। পল্লবীর ফিগারও ঠিক সেরকমই। আসলে কাল সুন্দর করে সেজে আসতে বলাতে তৃষাণ যা বলতে চেয়েছিলো তা পল্লবী একটু বেশীই বুঝে ফেলতে পারাতেই আজকে ওর এই বিপত্তি। শাড়িটা যেভাবে পল্লবী পড়ে এসেছে আজ তাতে তৃষানের কেসটা ঠিক -আপনার গর্ব, পড়শীর ঈর্ষা।

 

বাসের দরজার একটু পেছনে ওর ফেভারিট জায়গায় দাঁড়িয়ে অনেকবার তৃষানের মনে হয়েছে যে এই পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ বাস কনডাক্টররা। আস্তে…,লেডিস আছে… বলার পর বাসটা যখন ব্রেক মারে উনারা বেশির ভাগই এতো সুন্দর করে পেছনে হাত দিয়ে লেডিসদেরকে বাস থেকে নামতে সাহায্য করেন যে একটা সময় তৃষানের বারবার মনে হয়েছে কেন ও এখোনো বাস কনডাক্টর হয়ে উঠছে না। জীবনের সব সুখ তো ওখানেই…ঐ বাসের দরজায়।

 

কিন্তু যে কোনো কারণেই হোক তৃষানের এখোনো বাস কনডাক্টর হয়ে ওঠা হয়নি। তবে বাসে উঠলেই ও এমন একটা জায়গায় দাঁড়ায় যেখান থেকে বাস কনডাক্টরদের লেডিসদের সুন্দর করে নামতে হেল্প করার ব্যাপারটা পুরোপুরি দেখা যায় আর এতোদিন এতেই ও মজা পেয়ে আসছিলো ও। তবে আজকের কেসটা একদম অন্যরকম। কারণ আজকে ওর সাথে লেডিস আছে।

 

আর আজ ভ্যালেন্টাইন ডে-র দিন। চারিদিকে সব জুটিতে জুটিতে। তৃষানের ইচ্ছে ছিল ওর বাইকটায় আজ পল্লবীকে বসিয়ে সারাদিন ঘুরে বেড়াবে। হেলমেট পড়বে না। একটা সানগ্লাস পড়বে। আর ওর জিম করা বডিকে পেছনের উঁচু সিটটায় বসে পুরো জড়িয়ে ধরে থাকবে পল্লবী। এরকম একটা দৃশ্য কাল রাতে শোবার সময় অনেকবার দেখেছে তৃষান। আহা! গতবার আই পি এলে জুয়ায় বেশ কিছু টাকা জিতে তা দিয়ে বাইক কেনার পর থেকে এটাই তো স্বপ্ন ছিলো ওর বহুদিনের।

 

কিন্তু এই মেয়ে সকালে এসে মিট করার পর থেকেই ওর পুরো প্রোগ্রাম পালটে দিয়েছে। সে কিছুতেই বাইকে করে ঘুরবে না। বাইক থেকে  না কি ওর পড়ে যাবার ভয় লাগে। রাজ্যের তুঙ্গ মেয়েরা সব ঘুরে বেড়াচ্ছে কি সুন্দর বাইকের পেছনে বসে, কেউ পড়ছে না আর এই মেয়ে না কি পড়ে যাবে! মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে গেলেও কিচ্ছু বলতে পারেনি তৃষান। বললেই যদি কেস গুবলেট হয়ে যায়। তাই বাইক রেখে পল্লবীর কথামতো বাসে করে অল্প দূরে একটা পার্কে  গিয়ে ওরা বসবে বলেই আপাতত ঠিক হয়েছে।

 

আচ্ছা, বসবিই না যখন তুই বাইকে তাহলে ওভাবে সেজে আসার কি দরকার ছিলো-এই কথাটা বলতে না পারলেও এতক্ষণ এটা ভেবেই মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিলো তৃষানের। এখন তো সারাদিন দুজনে পাশাপাশি হাঁটলেই সবাই হাঁ করে তাকিয়ে থাকবে পল্লবীর দিকে। এমনিই তো ছেলেদের দিকে কেউ প্রায় দেখেই না… আর এটাও এখন সারাদিন ধরে ফিল করবে তৃষান যে লোকজন জাস্ট হাঁ করে পল্লবীকে গিলছে… আর ওর কিচ্ছু করারও থাকবে না।

 

তার আগেই এখন এই উটকো ঝামেলা। তৃষান খুব ভালো করে জানে যে কন্ডাক্টর পল্লবীকে বাস থেকে নামার সময় খুব হেল্প করবে, কিন্তু কেসটা হচ্ছে তৃষান এটা এখন না পারবে পল্লবীকে বলতে আর এটাও ও ডিসাইড করে উঠতে পারছে না যে পল্লবীর আগেই ও বাস থেকে নেমে যাবে না পরে নামবে কারণ এতদিন ওর যেটা দেখে ভালো লাগতো তা আজ আর ভালো লাগবে না।     

 

 

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ঢাল বেয়ে বেয়ে
আহসানুল করিম

ঢাল বেয়ে বেয়ে

সকাল থেকে অফিসে নানা ঝামেলা যাচ্ছিল। প্রোডাকশনের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডাউন, কোন থার্ড পার্টি সার্ভিসের সাথে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। হাউকাউ লেগে গেছে কাস্টোমারদের মাঝে। বাসা থেকে রিমোট কাজ করি। তাই একের পর এক কল আর মিটিং-এ যোগ দিতে হচ্ছে। এদিকে বাচ্চাটা জ্বরের কারণে আজকে ইশকুলে যায়নি বলে পাশের ঘরে খেলছে। একটু পর পর কোন একটা কারণে বারবার চিৎকার চেচামেচি করছে। প্রচণ্ড বিশৃংখল একটা পরিস্থিতি। এপার্টমেন্টের নিচে রাস্তায়ও বেশ হৈহল্লা শোনা যাচ্ছে।

গল্প১৪ অক্টোবর, ২০২৬
চিরকুট
মিঠুন মণ্ডল

চিরকুট

অনেক দিন পর রীয়াংশুর সাথে মৈনাকের দেখা হলো। রীয়াংশু মৈনাকের ছেলে বেলার বন্ধু।একসাথে স্কুল, কলেজ আড্ডার আসর,এভাবেই দুজনের বেড়ে ওঠা। রীয়াংশু ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় বর্তমানে ভারতীয় রেলে কর্মরত। মৈনাক বাপের ব্যবসা নিয়েই পড়ে রইলো ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুরে। অল্প বয়সে পেকে যাওয়ায় বিয়েটা অনেক আগেই সেরে ফেলেছে সে। রীয়াংশু সিঙ্গেল, এখনও তার চার হাত এক করার সুযোগ হয়নি।মাঝে মাঝে হাওয়া বদলের জন্য মৈনাক ,অল্প সময়ে ব্যস্ততার ফাঁকে রীয়াংশুর কাছে থেকে সপরিবারে ঘুরে আসে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। লোটাকম্বল বগলদাবা করে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি হাজির হলো রীয়াংশুর বাসায়।

গল্প১৩ অক্টোবর, ২০২৬
কালচিনির সুড়ঙ্গ
মোফাজ্জল মণ্ডল

কালচিনির সুড়ঙ্গ

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। ডুয়ার্সে তখন শীত নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকেল নামলেই চা বাগানের সারি সারি ঝোপের ওপর কুয়াশা জমতে শুরু করে। দূরে বক্সার পাহাড় অন্ধকার হয়ে আসে, আর জঙ্গলের ভেতর থেকে ভেসে আসে অচেনা পাখির ডাক। কালচিনির রাতের একটা নিজস্ব শব্দ আছে। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক। পাতার ফাঁকে বাতাসের ঘর্ষণ।

গল্প১৩ অক্টোবর, ২০২৬