৮ মে, ২০২৫
শো
শো

শো

অল্প দূরে, হয়তো বাড়ি থেকে দুই এক কিমি, বান্ধের পাড়। একটা শো শো আওয়াজ, কেমন একটা রহস্যময়ী, বিশেষ করে বেলা বয়ে যাওয়া বিকেলে, সাঁঝের মুখে। প্রায় প্রতিদিন শুনতে পেতাম। ইচ্ছে হত ছোটোবেলায়, একদিন যাব দেখতে কোথাত্থেকে আসে সে। যদিও ছোটোবেলায় যাওয়া আর হয়নি। একবার তহি চাচার বিয়েতে গেছিলাম, বয়স যে তখন কত হবে কে জানে, শুনেছিলাম ওরই কাছাকাছি বাঁধের পাড়। যখন বড়ো হয়ে গেছিলাম হয়তো কোনোদিন ততদিনে সে ভয়ানক মোহময়ী আওয়াজ হারিয়ে ফেলেছে তার গলা। শুকনো সে বাঁধ। ভাঙা। নদীটার নাম বুড়ি তোর্সা, তার থেকে খাল কেটে যেটা এসেছিল, লোকে বলে যাম্পই্‌। আগে একটা লকগেট টাইপের ছিল, বাচ্চা, ওই দিয়েই সে শো শো। এক্ষণে ল্যাপটপটা ওরকম শো শো। যদিও সে আওয়াজে সে টান পাচ্ছি না, হয়তো ওর নিজের কোনো আকর্ষণী ক্ষমতা নেই তেমন, নতুবা আমার নিজেরই সাধ্য নেই সে ধরার। উপলব্ধিগুলো তো দিনকে দিন ভোঁতাটে। মগজে শান পড়ে না। ঘিলু শুকিয়ে শুষ্ক খড়খড়ে। তরুবরের যাবতীয় ইন্দ্রিয়টিন্দ্রীয়গুলো অকেজো অকেজো। তবু একটা হস্তীর পদধ্বনি কোথাও। শুনতে পাচ্ছি, নিস্তরঙ্গ আওয়াজ, পুরো দস্তুর নয়েজ ক্যানসেলেশন সেরে সে এদিকে। ভূপেন হাজারিকা গাইত ‘পদধ্বনি শুনি’। নূপুর পায়ে পরা না থাকলেও পদধ্বনি ঠিকঠাক। যদিও শেকলকে শোভা বানিয়ে ও পরে। ওকে পরায়, বাধ্য করে। কোনো মাহুত। মাহুত মানে মানুষ। গণতন্ত্রের পাঠ এখানটায় ওরকম।

 

 

 

এ সময় টিং টং মেসেজ আসছে না, নোটিফিকেশন। আসছে ঠিক। শোনা যাচ্ছে না মাত্র। মিউট বা মূক হয়ে আছে কাছের ফোনমানুষীটি। হয়তো বিস্তর জমেছে, জমছে ওর কাছে এসে কথা, বার্তারা। ওখানে নাকি হোয়াটস্যাপ নামের ভার্সিটিও আছে এক। তাতে ভুজুংভাজুং সব কারবার চলে। এ অবশ্য কোনো এক পক্ষের কথা। কোনো আরেক পক্ষের কথা হয়তো আর এক। থাক এগুলা। এসব টপিক ভাল্লাগে না। ভাল্লাগার জিনিসটা কী ইদানীং, তার হদিশও অজানা অবশ্য। অনেকক্ষণ থেকেই (হয়তো) আমি ভাবছি আরেক কথা। হস্তীর পা। হাত্তির পায়ের ছাপ। যে-ছাপ ধরে ছাপ্পা ভোটে তো নয়, অন্য কোথা যাওয়ার। লোকে যাক গা যেদিক খুশি। বুঝুক গা তারাই। আমিও বুঝে নিই আমারটা। যদিও সমস্যা হলো গিয়ে বুঝে নেওয়ার আগে, আমার অস্তিত্বটাই আমার বোঝা বাকি অনেক। টিপ দেবার মতন, কান্নার ইমুজি নেই বলে এখানে একটা তা দিতাম ভেবেও, দিতে পারছি না।

 

 

 

অল্পই দূর, কাছেই। কান্না ভেসে এল কারোর। পড়শি ভাবি, বাবুলদার বউ এসে মাকে আম্মা আম্মা করে ডেকেও আম্মার সাড়া পেল না। সদ্যই আজ এনে দিয়েছিলাম মাকে ঘুমের বড়ি। ভাবির হাঁকডাকে বাড়িভর্তি কুকুরের হাউমাউ উঠল। বেরিয়ে জিজ্ঞেস করতে শুনলাম, ফুফু মারা গেল। মারা গেছে। হায় স্মৃতি। ফুফুর কথা বললেই, ধাপাউ ফুফার নাম চট করে মনে পড়ে। নাম মানে আসলে নাম নয় অবশ্য। মানুষ। জিন্দা। আসল নাম আব্দুল জব্বার। বিচিত্র এক মানুষ ছিলেন। দেশীয় ভাষায় শশব্যস্ত মানুষকে বলত ধাপাউ, তেমনটাই ছিলেন। ফুফুর নাম কী? কী ছিল? মনে পড়ছে না। মনে হলো আমার মাথায় মুণ্ডুহীন ভুট্টা, ভুট্টার গাছের কথা এতক্ষণে, কোনো ফাঁক বুঝে ঘুরপাক খাচ্ছিল কেন যেন। সেটা আচমকাই নিঃসাড়। ল্যাপটপের শো শোটাই কেবল বেঁচে। যেটা অনেক যুগ ধরে চলছিল, কিন্তু যা ক্রমাগত মনে হয়নি আমার। এবারে ও পুনরায় টের পাওয়া।

এখনও কোনও মন্তব্য নেই

আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ঢাল বেয়ে বেয়ে
আহসানুল করিম

ঢাল বেয়ে বেয়ে

সকাল থেকে অফিসে নানা ঝামেলা যাচ্ছিল। প্রোডাকশনের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডাউন, কোন থার্ড পার্টি সার্ভিসের সাথে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। হাউকাউ লেগে গেছে কাস্টোমারদের মাঝে। বাসা থেকে রিমোট কাজ করি। তাই একের পর এক কল আর মিটিং-এ যোগ দিতে হচ্ছে। এদিকে বাচ্চাটা জ্বরের কারণে আজকে ইশকুলে যায়নি বলে পাশের ঘরে খেলছে। একটু পর পর কোন একটা কারণে বারবার চিৎকার চেচামেচি করছে। প্রচণ্ড বিশৃংখল একটা পরিস্থিতি। এপার্টমেন্টের নিচে রাস্তায়ও বেশ হৈহল্লা শোনা যাচ্ছে।

গল্প১৪ অক্টোবর, ২০২৬
চিরকুট
মিঠুন মণ্ডল

চিরকুট

অনেক দিন পর রীয়াংশুর সাথে মৈনাকের দেখা হলো। রীয়াংশু মৈনাকের ছেলে বেলার বন্ধু।একসাথে স্কুল, কলেজ আড্ডার আসর,এভাবেই দুজনের বেড়ে ওঠা। রীয়াংশু ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় বর্তমানে ভারতীয় রেলে কর্মরত। মৈনাক বাপের ব্যবসা নিয়েই পড়ে রইলো ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুরে। অল্প বয়সে পেকে যাওয়ায় বিয়েটা অনেক আগেই সেরে ফেলেছে সে। রীয়াংশু সিঙ্গেল, এখনও তার চার হাত এক করার সুযোগ হয়নি।মাঝে মাঝে হাওয়া বদলের জন্য মৈনাক ,অল্প সময়ে ব্যস্ততার ফাঁকে রীয়াংশুর কাছে থেকে সপরিবারে ঘুরে আসে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। লোটাকম্বল বগলদাবা করে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি হাজির হলো রীয়াংশুর বাসায়।

গল্প১৩ অক্টোবর, ২০২৬
কালচিনির সুড়ঙ্গ
মোফাজ্জল মণ্ডল

কালচিনির সুড়ঙ্গ

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। ডুয়ার্সে তখন শীত নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকেল নামলেই চা বাগানের সারি সারি ঝোপের ওপর কুয়াশা জমতে শুরু করে। দূরে বক্সার পাহাড় অন্ধকার হয়ে আসে, আর জঙ্গলের ভেতর থেকে ভেসে আসে অচেনা পাখির ডাক। কালচিনির রাতের একটা নিজস্ব শব্দ আছে। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক। পাতার ফাঁকে বাতাসের ঘর্ষণ।

গল্প১৩ অক্টোবর, ২০২৬