
রাজপথ এখনো সম্পূর্ণ শুকোয়নি—
ফাগুন তার দহনময় কপালে
কৃষ্ণচূড়ার লাল অক্ষর এঁকে
শহরের ধমনিতে ছড়িয়ে দেয় রক্তিম স্পন্দন।
সেদিন
মায়ের মুখের ভাষা
কারও অনুমতির অপেক্ষায় ছিল না—
নীরবে জেগে উঠেছিল অ আ ক খ;
শিশুর অনুশীলনীতে নয়,
অন্ধকারের মুখোমুখি
দাঁড়িয়ে ছিল আলোকিত বর্ণমালা।
সালাম।
বরকত।
রফিক।
জব্বার।
এই নামগুলো পাথরে খোদাই নয়—
রক্তের অন্তঃসলিলা নদী,
যার স্রোতে ভেসে আসে
নিজের মতো করে বলার সাহস।
তাদের বুকে বিস্ফোরিত শব্দ
ভাষার প্রথম ছাপা অক্ষর—
কালি ছিল রক্ত,
কাগজ ছিল সময়।
সেদিন দেখা গিয়েছিল—
একটি ভাষা যখন মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ায়,
অহংকারের প্রাসাদ কেঁপে ওঠে
নীরব কম্পনে।
মায়ের হাসি আজও প্রভাতের মতো নির্মল,
অ আ ক খ এখনো শিশির-ছোঁয়া ধ্বনি—
তবু প্রশ্ন থেকে যায়—
আমরা কি শোধ করেছি সেই ঋণ?
নাকি শব্দগুলোকে ফুলের তোড়ায় বেঁধে
ভুলে গেছি তাদের রক্তাক্ত জন্ম?
শহীদ মিনার—
শুধু স্থাপত্য নয়,
উঁচু হয়ে থাকা এক সামষ্টিক মেরুদণ্ড।
এখানে দাঁড়ালে
নত হয় না মাথা,
বরং সোজা হয়ে যায় সময়।
একুশ মানে,
নিজের কণ্ঠে দাঁড়িয়ে থাকা।
বাংলা—
কণ্ঠের ভেতর জ্বলা আগুন,
রক্তে জেগে থাকা
অনুবাদহীন স্বদেশ।
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ওয়াহিদার হোসেনের দুটি কবিতা
আগুন জ্বালানোর মতো বিস্ময় নিয়ে তোমাকে দেখি তারপর দৃশ্যান্তরে ক্রমে হাত পা

জন্ম দাগ
তোমাকে ভীষণ হিংসে হয় হ্যাঁ হ্যাঁ তোমাকেই তুমি অবাক হবে ভাববে গোত্র পরিচয়হীন একটা রাস্তার শিশুকে আবার হিংসে

শৌভিক দত্তের তিনটি কবিতা
যখন বাকস্মৃতি নেই প্রতিমা আলোয় তোমার উজ্জ্বলতা পাঠাগার হয়ে ভেসে আছে সালোক সংশ্লেষের শেষে বন্ধু দাঁড়িয়েছে কোথাও চিরহরিৎ পাঠশালায় ফুটফুটে শিশুরা এসেছে, আর ক্ষমাকষ্টে তুমি
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।