
সেই চোদ্দ বছর বয়সে স্বর্ণ'কে বউ করে ঘরে নিয়ে আসে
অসীমের প্রথম বউ গত হওয়ার পর , তারপর সংসার ও আগের পক্ষের নাবালক তিন ছেলে-মেয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল ওতটুকু মেয়ের হাতে ।তারপর থেকে অন্তঃপুরের সব দায়িত্ব স্বর্ণলতার ।
কোন রান্নায় কী ফোড়ন দিতে হবে, নুন;মিষ্টির পরিমাপ সবটাই শাশুড়ি মা নিজে হাতে শিখিয়েছে ওকে । আজ পরিপক্ক গিন্নী স্বর্ণ, বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়েছে , বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে মেয়ের পছন্দের ডাক্তার
ছেলের সাথে , ছোট মেয়ে সিমন্তনী (সিমূ)
কলেজে পড়ছে বাঙলা সাহিত্যে অনার্স নিয়ে । অসীম বাবু কলেজে পড়ান , মাঝে মাঝে স্বর্ণের পড়ার জন্যে বই নিয়ে আসতেন লাইব্রেরি থেকে সে পড়তে ভালবাসে বলে , এতটুকুই আনন্দ ছিল স্বর্ণের জীবনে ।
তখন সে ছিল বেকার,
তাই স্বর্ণ'কে নিজের করতে পারেনি । কিছু করার ছিল না তার, শুধু বলেছিল 'সুখী হও স্বর্ণ।'
আজ স্বর্ণর শরীর ভাল নেই নিজের ঘরে শুয়ে আছে ।
শাশুড়ি মা চুপচাপ ঘরে ঢুকে মাথায় হাত রাখে ' মা, এসেছেন বুঝি ? এবার পুজোয় মায়ের অষ্টমীর ভোগে কী কী রান্না হবে? দশমীর সিঁদুর খেলায় সুমনা(বড় মেয়ে) থাকবে , পুজোর ক'দিন এখানেই থাকবে ' স্বর্ণ আপন মনে বলতে থাকে । ' ঠিক আছে মা, তোমার যা মনে হবে ,তাই করবে ,এখন একটু ঘুমোও আমি মাথায় হাত বুলিয়ে দেই ।'
..................' মা, এবার আমার সব দায়িত্ব আবার তোমার হাতে তুলে দিলাম, .......তোমার মেয়েকে ক্ষমা কর কোন ভুল করে থাকলে এজীবনে ' স্বর্ণ'র শেষ কথা ।............
সংশ্লিষ্ট পোস্ট

ঢাল বেয়ে বেয়ে
সকাল থেকে অফিসে নানা ঝামেলা যাচ্ছিল। প্রোডাকশনের ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডাউন, কোন থার্ড পার্টি সার্ভিসের সাথে যুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। হাউকাউ লেগে গেছে কাস্টোমারদের মাঝে। বাসা থেকে রিমোট কাজ করি। তাই একের পর এক কল আর মিটিং-এ যোগ দিতে হচ্ছে। এদিকে বাচ্চাটা জ্বরের কারণে আজকে ইশকুলে যায়নি বলে পাশের ঘরে খেলছে। একটু পর পর কোন একটা কারণে বারবার চিৎকার চেচামেচি করছে। প্রচণ্ড বিশৃংখল একটা পরিস্থিতি। এপার্টমেন্টের নিচে রাস্তায়ও বেশ হৈহল্লা শোনা যাচ্ছে।

চিরকুট
অনেক দিন পর রীয়াংশুর সাথে মৈনাকের দেখা হলো। রীয়াংশু মৈনাকের ছেলে বেলার বন্ধু।একসাথে স্কুল, কলেজ আড্ডার আসর,এভাবেই দুজনের বেড়ে ওঠা। রীয়াংশু ভালো স্টুডেন্ট হওয়ায় বর্তমানে ভারতীয় রেলে কর্মরত। মৈনাক বাপের ব্যবসা নিয়েই পড়ে রইলো ধ্যারধ্যারে গোবিন্দপুরে। অল্প বয়সে পেকে যাওয়ায় বিয়েটা অনেক আগেই সেরে ফেলেছে সে। রীয়াংশু সিঙ্গেল, এখনও তার চার হাত এক করার সুযোগ হয়নি।মাঝে মাঝে হাওয়া বদলের জন্য মৈনাক ,অল্প সময়ে ব্যস্ততার ফাঁকে রীয়াংশুর কাছে থেকে সপরিবারে ঘুরে আসে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। লোটাকম্বল বগলদাবা করে গত ১৩ই ফেব্রুয়ারি হাজির হলো রীয়াংশুর বাসায়।

কালচিনির সুড়ঙ্গ
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ। ডুয়ার্সে তখন শীত নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকেল নামলেই চা বাগানের সারি সারি ঝোপের ওপর কুয়াশা জমতে শুরু করে। দূরে বক্সার পাহাড় অন্ধকার হয়ে আসে, আর জঙ্গলের ভেতর থেকে ভেসে আসে অচেনা পাখির ডাক। কালচিনির রাতের একটা নিজস্ব শব্দ আছে। ঝিঁঝিঁ পোকার একটানা ডাক। পাতার ফাঁকে বাতাসের ঘর্ষণ।
এখনও কোনও মন্তব্য নেই
আপনার ইমেল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।